ইউক্রেনে আটকে পড়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের ফেরার আকুতি

ভালো অবস্থায় নেই ইউক্রেনছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের অন্যতম সফল দুই ফুটবল ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ক ও দিনামো কিয়েভ। লিগ জয়ের ক্ষেত্রে ১৬ শিরোপা নিয়ে দিনামো সবার ওপরে থাকলেও একটু পিছেই আছে শাখতার (১৩)। কাপ প্রতিযোগিতায় আবার দুই দলই সমানে সমান। দুই দলই নয়বার করে জিতেছে ইউক্রেনের সুপার কাপ। একবার করে উয়েফা কাপও জিতেছে শাখতার আর দিনামো।


তুলনামূলকভাবে ইউরোপের অন্যান্য ক্লাবের তুলনায় ব্রাজিল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার কিনে আনার ব্যাপারে শাখতারের আগ্রহ একটু বেশিই। ব্রাজিলের অনেক ফুটবলারই ইউরোপীয় ফুটবলের স্বাদ পান শাখতারের হাত ধরে। বর্তমান দলটাই যেমন, মূল স্কোয়াডে এত বেশি ব্রাজিলের খেলোয়াড় যে শাখতার ব্রাজিলের ক্লাব না ইউক্রেনের ক্লাব, মাঝেমধ্যে ধন্দে পড়ে যেতে হয়।

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের কারণে দেশটায় থাকা শাখতারের ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়েরা পড়েছেন বিপাকে
ছবি : টুইটার

বার্সেলোনায় খেলে আসা ডিফেন্ডার মারলন সান্তোস, আয়াক্সের হয়ে আলো ছড়ানো দাভিদ নেরেসের পাশাপাশি তেতে, দোদো, ভিতাও, মেইকন, মার্কোস আন্তোনিও, আলান পাত্রিক, ইসমাইলি, পেদ্রিনিও, ফের্নান্দোর মতো একাধিক তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় এখন খেলেন শাখতারের হয়ে। ওদিকে ব্রাজিলের খেলোয়াড় দিয়ে স্কোয়াড ভরানোর ব্যাপারে দিনামোর অত আগ্রহ নেই। বর্তমান স্কোয়াডে ব্রাজিল থেকে আসা ফরোয়ার্ড ভিতিনিওই আছেন শুধু।


মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের রেষারেষির কমতি না থাকলেও একটা ক্ষেত্রে ঠিকই এক হয়ে গেছেন দুই দলের ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়েরা। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের কারণে দেশটায় থাকা এই খেলোয়াড়েরা পড়েছেন বিপাকে। আটকা পড়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেন রাশিয়ার সেনারা। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেন, তাঁর দেশের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে হামলার প্রথম দিনটির জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, সেটি তারা অর্জন করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ হামলায় তাঁর দেশের অন্তত ১৩৭ সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩১৬ জন। সব মিলিয়ে ভালো অবস্থায় নেই ইউক্রেন।

এর মধ্যে শাখতারের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফের্নান্দো এক ভিডিও বার্তায় ব্রাজিলের সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁদের উদ্ধার করে দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শাখতার আর দিনামো কিয়েভের ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়েরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক হোটেলে অবস্থান করছেন। ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার জানিয়েছেন, অনিশ্চিত এ সময়ে জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত খাবারদাবার পর্যন্ত নেই তাঁদের, ‘এ শহরে বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত রসদ নেই। সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খাবারদাবার কিনতেও পারছি না। দেশ ছাড়তে পারছি না।’


শাখতারের ৩৪ বছর ফরোয়ার্ড জুনিওর মোরায়েস জানিয়েছেন, ‘পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ। আশা করব, আমাদের এই ভিডিও বার্তা যেন ব্রাজিলের সরকারের কাছে পৌঁছায়। আমরা ইউক্রেন ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছি। একটা হোটেলের মধ্যে আছি। আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন।’