ইউরোপের নেশনস লিগে খেলা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনারই বেশি দরকার

মেসি-নেইমাররা খেলবেন উয়েফা নেশনস লিগে?ছবি: এএফপি

গত ডিসেম্বরেই খবরটা শোনা গিয়েছিল। ফিফা ও উয়েফার টুর্নামেন্টের বাইরে অর্থহীন প্রীতি ম্যাচের বদলে নাম-ঢং বদলে উয়েফা তো নেশনস লিগ এনেছে বছর কয়েক হলো, কিন্তু এর বাইরের মহাদেশগুলোর তেমন কোনো টুর্নামেন্ট নেই। সে ক্ষেত্রে নেশনস লিগের আকর্ষণ আরও বাড়াতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোকেও নেশনস লিগের সঙ্গী করে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) সহসভাপতি এবং পোল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার জিবিনিউ বনিয়েক।

কিন্তু এতে কার বেশি লাভ হচ্ছে? উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিনের ভাষ্য, নেশনস লিগে খেলার সুযোগ পেলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোরই বেশি লাভ হওয়ার কথা।

গত ডিসেম্বরে জিবিনিউ বনিয়েক পোলিশ সংবাদমাধ্যম মেকজিকিতে বলেছিলেন, নেশনস লিগের ২০২৪ সালের সংস্করণ থেকে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কনমেবল) ১০টি সদস্যদেশ এ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।

উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিন
ছবি: টুইটার

আজ স্প্যানিশ ক্রীড়াদৈনিক এএসে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সেফেরিনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের (কনমেবল) দলগুলোর নেশনস লিগে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে। তাতে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) প্রধানের উত্তর, ‘হ্যাঁ, সম্ভাবনা আছে। তবে আমরা এখনো খুব বেশি দূর এগোতে পারিনি। লন্ডনে (কনমেবলের সঙ্গে মিলে) একসঙ্গে একটা অফিস নিয়েছি, মিলেমিশে কাজ করা শুরু করেছি।’

মিলেমিশে কাজের প্রথম ফসল অবশ্য আগামী ১ জুন দেখা যাবে। ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হবে গত ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। চার বছর পরপর ‘লা ফিনালিসিমা’ নামের এই ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে উয়েফা ও কনমেবলের চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

আরও পড়ুন

এর বাইরে রেফারি আদান-প্রদানের ব্যাপারেও যে দুই মহাদেশীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করছে, সেটি তো গত বছর কোপা আমেরিকা আর ইউরোর সময়ই দেখা গেছে। স্প্যানিশ রেফারি গিল মানসানো বাঁশি বাজিয়েছেন কোপা আমেরিকার ম্যাচে, আবার আর্জেন্টিনার রেফারি ফের্নান্দো আন্দ্রেস রাপায়িনি ছিলেন ইউরোতে তিনটি ম্যাচের রেফারি।

এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়ই নেশনস লিগে লাতিন দলগুলোকে দেখার সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন সেফেরিন, ‘আমার মনে হয় ব্যাপারটা দারুণ হবে। ইউরোপিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলো (বিশ্বকাপের বাইরে) এখন আর একে অন্যের সঙ্গে সেভাবে খেলার সুযোগ পায় না, কারণ নেশনস লিগের কারণে এখন প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ তেমন থাকে না।’

তা নেশনস লিগে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো দল খেললে কার লাভ বেশি হবে? উয়েফা সভাপতির মনে হচ্ছে, লাভটা লাতিন দলগুলোরই বেশি। ‘বিশ্বকাপের আগে ইউরোপের বড় দলগুলো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও এমন দলের সঙ্গে খেলতে চায়। (নেশনস লিগের) ম্যাচগুলো দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর জন্য বেশি লাভজনক কারণ ইউরোপে মানসম্পন্ন দলের সংখ্যা আরও বেশি। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম...তালিকাটা লম্বা। দক্ষিণ আমেরিকায় তো দলটি দশটি, এর মধ্যে চারটি শক্তিশালী আর দুটি বেশিই শক্তিশালী। হয়তো ওদেরই লাভটা বেশি, তবে আমরাও চাই এটা হোক।’

এর আগে ডিসেম্বরে লাতিন দলগুলোর নেশনস লিগে খেলার খবর ছড়ানোর পর কোন দল কোন মানের লিগে খেলবে, সেটিরও একটা ছক জানিয়েছিলেন ইএসপিএনের সাংবাদিক ডেল জনসন। তাঁর টুইট ছিল, ‘দক্ষিণ আমেরিকার বড় ছয় দল, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, পেরু ও চিলি যোগ দেবে লিগ ‘এ’-তে (শীর্ষ স্তর)। বাকি চারটি প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়া যোগ দেবে লিগ ‘বি’–তে।’