উত্তর কোরিয়া খুব কি কঠিন বাংলাদেশের জন্য?

কালকের বড় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ দল। ছবি: প্রথম আলো
কালকের বড় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ দল। ছবি: প্রথম আলো
এশিয়ান গেমসের ফুটবলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে প্রতিপক্ষ গতবারের রানার্সআপ উত্তর কোরিয়া। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পিছিয়ে থাকা শক্তি হলেও এশিয়ান গেমসসহ এশিয়ার বয়সভিত্তিক ফুটবলে কিন্তু সমীহ জাগাচ্ছে দলটি। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ আসলেই কতটা কঠিন? আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু ম্যাচ


উত্তর কোরিয়া থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। দুই দেশের ফুটবলের দূরত্বও এর চেয়ে কম নয়। উত্তর কোরিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে খেলা দেশ। হোক না, সেখানে গিয়ে তাদের নাকানিচুবানি খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান কাপও এখন অনেক দূরের একটা তারা। সেই উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ। আগামীকাল জিতলেই শেষ আট। বাংলাদেশের ফুটবলে আরেকটি রূপকথা। কিন্তু রূপকথা তো রোজ জন্মও নেয় না! অনেক খরা শেষে একপশলা স্বস্তির বৃষ্টি হয়ে আসা এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ফুটবলের স্বপ্নযাত্রা কি আরও একটু দীর্ঘ হবে। বিমানের ফিরতি টিকিট যে এবার আর আগ বাড়িয়ে কিনে রাখছে না বাফুফে! যদি কিছু হয়...এই আশা বাংলাদেশের ফুটবলকে এখনো আবেগ দিয়ে ধারণা করে এমন প্রত্যেকেই যে করছেন, তা বলার জন্য জরিপ করে দেখার প্রয়োজন পড়ে না।

কিন্তু আবেগ এক জিনিস, বাস্তবতা আরেক। ফলে ফুটবলের নিক্তিতে দুই দলকে মাপতেও হচ্ছে। আসলেই খুব কি কঠিন হবে উত্তর কোরিয়া? বাংলাদেশ কি সব জায়গায় পিছিয়ে? না, একটা জায়গা বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে, তা দুই দলের শরীরী ভাষাই বলে দেয়। বাংলাদেশ এখন দারুণ উজ্জীবিত এক দল। এবারের এশিয়ান গেমস যে নিজেদের নতুন করে চিনেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। উজবেকদের কাছে ৩-০ গোলে হারটা বোঝাতে দিচ্ছে না দলের লড়াই। তবে সেই প্রেরণা নিয়েই থাইল্যান্ডের সঙ্গে জিততে জিততে ড্র। এর পর তো আগামী বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতারকেই হারিয়ে দেওয়া!

এখন দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তর কোরিয়া। এশিয়ান গেমসে মূলত বয়সভিত্তিক দল খেলে। ফলে জাতীয় দলের সঙ্গে সরাসরি তুলনার সুযোগ কম। তবে বয়সভিত্তিক দলের তো আর র‌্যাঙ্কিং হয় না। জাতীয় দলের র‌্যাঙ্কিং দিয়েই তাই তুলনা করতে হয়। সেখানে বাংলাদেশের চেয়ে উত্তর কোরিয়া ঢের এগিয়ে। বাংলাদেশ ১৯৪, উত্তর কোরিয়া ১০৮। বাংলাদেশকে প্রেরণা জোগাচ্ছে এই তথ্য, কাতারের ফিফা র‌্যাঙ্কিংও কিন্তু ছিল ৯৮। বাংলাদেশের চেয়ে ৯৬ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটাকেই তো হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তাহলে কালকের ম্যাচে হেরে যাওয়ার আগেই হার কেন?

শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত হার মেনে নেওয়া নয়, এটাই এখন বাংলাদেশের বড় শক্তি। দলকে তাই কাঁধ মিলিয়ে খেলতে হবে। উত্তর কোরিয়া নিজেরাও এখনো সেরা ছন্দে ফিরতে পারেনি। এটাও বাংলাদেশকে আশা জোগাতে পারে। উত্তর কোরিয়া এই এশিয়ান গেমসে খোঁড়াতে খোঁড়াতে দ্বিতীয় রাউন্ডে এসেছে। দুর্বল মিয়ানমারের সঙ্গে ১-১ ড্র দিয়ে শুরু। ইরানের কাছে উড়ে গেছে ৩-০ গোলে! দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় দরকার ছিল। সেই সমীকরণ উত্তর কোরিয়া মিলিয়ে দিতে পারবে বলে মনে হচ্ছিল না। কিন্তু পেরেছে। ফলে এটাও সত্যি, শেষ ম্যাচ তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

গতবার উত্তর কোরিয়া ফাইনালে হেরেছিল নাটকীয়ভাবে। খেলা পড়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। আর এমন একটা ম্যাচ তারা হেরেছে ১২১তম মিনিটে গোল হজম করে! তারা ২০০২, ২০০৬ এবং ২০১০ এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালিস্টও। পূর্ব এশিয়ান গেমসে ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন। শক্তিশালী একটা ভিত্তির ওপরই দাঁড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার ফুটবল।

বাংলাদেশর জন্য ভয়ের কারণ, দলটির দ্রুত আক্রমণ। সেই আক্রমণে ওঠার জায়গায়গুলো কীভাবে আটকানো যায়, সেটি নিয়েই আজ অনুশীলনে কাজ করেছেন বাংলাদেশ কোচ। রক্ষণ সংগঠনটা আরও মজবুত রাখা চাই। গ্রুপে বাংলাদেশের রক্ষণ থাইল্যান্ডের বিপক্ষে একটি বাজে গোল ছাড়া আর বড় ভুল করেনি। বাংলাদেশের বাজে গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার নিকট উদাহরণগুলোও সাক্ষী মানলে এটিকে বড় পরিবর্তনই বলা উচিত।

একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমই থাকবে শুক্রবারের ম্যাচে। গত তিন ম্যাচের ৪-২-৩-১ ফরমেশনেই থেকে যেতে চান কোচ জেমি ডে। তবে সব ম্যাচেই তো আর একই পরিকল্পনা চলে না। ম্যাচে পরিস্থিতি দেখে কোচ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবেন। বাংলাদেশ এখন জানে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হয়। গোল খাওয়া চলবে না, এটাই প্রথম শর্ত।

বাংলাদেশের সীমানায় কোরিয়ার হাই প্রেসিংয়ের জবাবে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে প্রতি-আক্রমণ। উইং দিয়ে দ্রুত ওঠা। গত ম্যাচে বিপলু ও সাদ উইং দিয়ে দুটি করে বল বের করে ফেলেন। যদি গোল করে জিততে পারে তো আরেকটি ইতিহাস।

এই প্রথম এশিয়াডের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পর স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনাল! খুব বেশি দূর কি? মাত্র তো একটা ম্যাচে। আশার ভুবনে বসবাস করতে দোষ কী? ম্যাচে উত্তর কোরিয়া ভীষণভাবে ফেবারিট। সে তো কাতার-থাইল্যান্ডও ছিল!