এখন সাড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টায় বাড়ি যেতে পারবেন সাবিনা
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলার সঙ্গে যোগাযোগের স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছে আজ। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান তো রাখবেই, ক্রীড়াঙ্গনও পাবে এই সেতুর সুফল।
বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আজ যেন বয়ে যাচ্ছে ঈদের আনন্দ। পদ্মা সেতু হয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য মন হয়ে উঠেছে ব্যাকুল।
তাঁদেরই একজন জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায়। সেখান থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা কতটা কষ্টের, তা সাবিনার ভালোই জানা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে দ্রুত বাড়ি যেতে পারবেন তিনি।
আগামীকাল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে খেলা নিয়ে কথা বলতে এসে পদ্মা সেতু নিয়েও কথা বলতে হয়েছে জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনাকে।
এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় আসতে অনেক সময় লাগে। এমনও হয়েছে, আমরা সকালবেলায় বাসে রওনা দিয়ে ঢাকায় এসে পৌঁছেছি পরদিন সকালে। এখন সাড়ে চার বা পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে বাসায় চলে যেতে পারব। আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমাদের যে স্বপ্ন ছিল, সেটা বাস্তব হয়েছে।’
যোগাযোগব্যবস্থা এখন ভালো হলো, দেখা যাক, ওদিকে প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু বাড়ানো যায় কি না
এর আগে আজ দুপুরে বাফুফে ভবনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কেক কেটেছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নারী দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়।
কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আজ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত দিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু করেছেন। গোটা বাংলাদেশে যত বাঙালি আছে, তারা আজ গর্বিত।’
২০১২ সাল থেকে গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে পেশাদার ফুটবল লিগের ভেন্যু করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। পদ্মা পার হয়ে সেখানে গিয়ে খেলতে দলগুলোকে অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হতো। পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে তা এখন দূর হবে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতিতে এখন দক্ষিণাঞ্চলে বিপিএলের ভেন্যু বাড়ানোর কথাও ভাবছে বাফুফে। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু এখন দুই পারকে এক করে দিয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা এখন ভালো হলো, দেখা যাক, ওদিকে প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু বাড়ানো যায় কি না।’