ওঁরা কি ক্লাবের তারা হয়েই থাকবেন?

আগুয়েরো-হিগুয়েইন কি ক্লাবের ফর্ম জাতীয় দলে টেনে নিয়ে যেতে পারবেন? ফাইল ছবি।
আগুয়েরো-হিগুয়েইন কি ক্লাবের ফর্ম জাতীয় দলে টেনে নিয়ে যেতে পারবেন? ফাইল ছবি।

ক্লাবের হয়ে উজ্জ্বল, জাতীয় দলের হয়ে বিবর্ণ- অনেক বড় ফুটবলারকেও এই ‘অপবাদ’ বয়ে বেড়াতে নিতে হয়েছে। একটা সময় লিওনেল মেসিকেও তো কথাটা কম শুনতে হয়নি। কিন্তু গোল দিয়েই মেসি সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। মেসি না হয় তাঁকে নিয়ে সবার মুখ বন্ধ করতে পেরেছেন, কিন্তু তাঁর দুই আর্জেন্টাইন সতীর্থ গঞ্জালো হিগুয়েইন-সার্জিও আগুয়েরোর ক্ষেত্রে কি কথাটা খাটে?

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আজকের ম্যাচের পর প্রশ্নটা উঠেই যাচ্ছে। পেরুর সঙ্গে আজ ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্জেন্টিনা, বাউজা মাঠে নামিয়েছিলেন হিগুয়েইন-আগুয়েরো দুজনকেই। ক্লাবের হয়ে দুজন অনেক দিন থেকেই আলো ছড়াচ্ছেন। এই মৌসুমে আগুয়েরো এর মধ্যে ম্যান সিটির হয়ে ইংলিশ লিগের এবারের মৌসুমে পাঁচ গোল করে ফেলেছেন, তাঁর চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু ডিয়েগো কস্তার। জুভেন্টাসের হয়ে হিগুয়েইনের ছয় গোল সিরি আর সর্বোচ্চ।

কিন্তু জাতীয় দলে সেই আলোর ছিটেফোঁটার দেখাও মিলছে না। আজ অবশ্য হিগুয়েইনের গোলেই দ্বিতীয়বার এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের গোল ওই একটিই। আর্জেন্টিনার হয়ে ৩২ গোল হয়ে গেছে হিগুয়েইনের, কিন্তু বড় মঞ্চ এলেই কেমন যেন খোলসের ভেতর ঢুকে যান। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার তিন ফাইনালে যা করেছেন, সেটার জন্য নিজেকেও হয়তো ক্ষমা করতে পারবেন না। এই বছরটা আর্জেন্টিনার হয়ে তুলনামূলক ভালো গেছে, আট ম্যাচে করেছেন পাঁচ গোল। তারপরও ক্লাবের হিগুয়েইন আর জাতীয় দলের হিগুয়েইনের মধ্যে ব্যবধান অনেক।

আগুয়েরোর ক্ষেত্রে সেটি আরও বেশি। দেশের হয়ে তাঁর গোল ৩৩টি, কিন্তু গত কিছুদিনে যেন নিজেকে আকাশী নীল জার্সিতে হারিয়ে খুঁজেছেন। এ বছর আর্জেন্টিনার হয়ে ৮টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন মাত্র একটি, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একটিও নেই। বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা যে পয়েন্ট তালিকার পাঁচে, সেই দায় দুজনের তো একটু হলেও নিতে হবে! তার চেয়েও বড় কথা, জাতীয় দলের হয়ে নিজেদের হারিয়ে খোঁজার অপবাদ ঘোচানোর সময়ও তো চলে যাচ্ছে!