কন্ডিশন আর ভ্রমণই মূল আলোচনায়

চার অধিনায়কের মধ্যে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আগেই ছিল শেখ জামালের ইয়াছিন খানের (বাঁয়ে)। পাশে দাঁড়ানো আরামবাগের মিতুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা সাইদুল হক ও ব্রাদার্সের ইবায়েদ হোসেন কমলের কাছে এই স্বাদটা বলতে গেলে নতুন। কাল বাফুফে ভবনে l প্রথম আলো।
চার অধিনায়কের মধ্যে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আগেই ছিল শেখ জামালের ইয়াছিন খানের (বাঁয়ে)। পাশে দাঁড়ানো আরামবাগের মিতুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা সাইদুল হক ও ব্রাদার্সের ইবায়েদ হোসেন কমলের কাছে এই স্বাদটা বলতে গেলে নতুন। কাল বাফুফে ভবনে l প্রথম আলো।

ঢাকাসহ সাত ভেন্যুতে এবার পেশাদার ফুটবল লিগ আয়োজনের উদ্যোগ বড় এক চমক। সেই চমকের ধারায় এই প্রথম দলগুলোকে লিগপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনা। কাল প্রথম দিনে এসেছে চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল এবং মুক্তিযোদ্ধা, ব্রাদার্স ও আরামবাগ। চার দলের সংবাদ সম্মেলনে অভিন্ন একটি বিষয় এসেছে ঘুরেফিরে। ঢাকার বাইরে কোথায় থাকবে, কোথায় খাবে, কীভাবে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যাবে এসবই যেন দলগুলোর ভাবনার বড় অংশজুড়ে!
চট্টগ্রামের পর সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ—প্রথম ছয়টি রাউন্ড খেলতে হবে এক মাসের মধ্যে। এত এত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক সময়ে না থাকায় দলগুলো সূচি মেলাতেই ব্যস্ত এখন। ঢাকার বাইরে ঘুরে ঘুরে লিগ খেলার রোমাঞ্চটা টের পাওয়া যাবে হয়তো ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে নবম পেশাদার লিগ শুরুর পরই।
এভাবে ভ্রমণ করে খেলায় অভ্যস্ত হওয়ার ওপরই দলগুলোর সম্ভাবনা অনেকটা নির্ভর করবে বলে মনে করেন চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক, ‘ভেন্যুতে ভেন্যুতে যাওয়া মানে নতুন নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে হবে। সেখানে থাকাখাওয়া কেমন হবে জানি না। কিন্তু সাফল্যের জন্য এসবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।’
ক্রিকেটের মতো ‘কন্ডিশন’ শব্দটাও চলে আসছে ফুটবলে! ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান যেমন বললেন, ‘জেলায় জেলায় ঘুরে ঘুরে খেলা কেমন হবে সেটা দেখার বিষয়।’
চার দলের কোচ-অধিনায়ক-কর্মকর্তাদের মুখে শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে আলোচনা বলতে গেলে হলোই না। গত দুই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও শেখ জামালকে চ্যাম্পিয়ন করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা ওয়েডসন একটু আলোচনায় এলেন। ফেডারেশন কাপ শেষে চলে গেছেন হাইতিয়ান স্ট্রাইকার, শোনা যাচ্ছে কলকাতা ইস্টবেঙ্গলে যেতে পারেন।
তবে মানিকের দাবি ভিন্ন, ‘ওয়েডসনকে পাওয়ার সম্ভাবনা এখন ৫০-৫০।’ ওয়েডসনকে পাওয়ার ওপর অনেকটা ঝুলে থাকবে শেখ জামালের ভাগ্য। যদিও এমেকা, ল্যান্ডিংরা আছেন।
তবে মাত্র ২২-২৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে লিগের দুর্গম পথ শেখ জামালের পক্ষে পাড়ি দেওয়া এবার ভীষণ কঠিন। খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা কম, তবু কোচ মানিকের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে অধিনায়ক ইয়াছিন দলকে উজ্জীবিত রাখার মন্ত্র জপছেন।
শেখ জামালকে এক পাশে রাখলে বাকি তিন দল ‘ভালো খেলতে চাই’, ‘ভালো করতে চাই’ জাতীয় কথাবার্তাই বলে গেছে। আরামবাগের সহকারী কোচ জাহিদুর রহমান মিলন সাংবাদিকদের ওপর একটু খেপেও গেলেন। দলটির অধিনায়ক মিতুল হাসান ‘আমরা ভালো করতে চাই’ বলার পর প্রশ্ন ওঠে, ফেডারেশন কাপের রানার্সআপ হওয়ার পর নির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা বলা কি ভালো নয়?’ মিলন বললেন, ‘আরামবাগ চ্যাম্পিয়ন হতে দল গড়েনি, এটা সবাইকে বুঝতে হবে।’
মুক্তিযোদ্ধা, ব্রাদার্সও আসলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল নয়। তবে মুক্তিযোদ্ধার কোচ আবদুল কাইয়ুমের (সেন্টু) কাছে তাঁর দলের বড় শক্তি এবার সাংগঠনিক দুর্বলতা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারা, ‘আমাদের দলটা তারুণ্যনির্ভর। সবাই ভালো খেলতে মুখিয়ে আছে। ক্লাব থেকে সমর্থন মিলছে ভালোই।’
ব্রাদার্সেরও সাংগঠনিক শক্তি আছে, তবে মাঠে তারা এখন বড় শক্তি নয়। নেপালি কোচ বালগোপাল মহারজন বাস্তবতা বুঝেই হয়তো বললেন ‘আমরা চাই ভালো কিছু করতে’ জাতীয় কথা।

শেখ জামাল ধানমন্ডি
অর্জন
গত দুটি লিগে চ্যাম্পিয়ন। পাঁচটি লিগে খেলে চ্যাম্পিয়ন তিনবার, একবার রানার্সআপ, একবার ষষ্ঠ।
এবার চাওয়া
শক্তি কিছুটা খর্ব হয়ে পড়লেও বড় দল। চোখ হ্যাটট্রিক শিরোপায়।
আরামবাগ
অর্জন
আট লিগের ছয়টিতে খেলে একবার পঞ্চম।
এবার চাওয়া
ফেডারেশন কাপে রানার্সআপ দলটি দুই মৌসুম পর লিগে ফিরে চমকটা ধরে রাখতে চায়।
মুক্তিযোদ্ধা
অর্জন
দুবার রানার্সআপ। সেটিও তিন লিগ আগে, টানা দুবার।
এবার চাওয়া
কাগজ-কলমে পাঁচ বা ছয় নম্বর দল। লক্ষ্য লিগ টেবিলে আরেকটু ওপরের দিকে থাকা।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন
অর্জন
দ্বিতীয় লিগে চতুর্থ স্থান। এরপর তিনবার পঞ্চম, সপ্তম দুবার, একবার অষ্টম।
এবার চাওয়া
শিরোপার লড়াইয়ে থাকার মতো দল নয়। তবু লড়াইয়ে থাকাই লক্ষ্য।