ক্যাসিয়াসের ইট, পিকের পাটকেল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঢুকে গতকাল একটু ধাক্কাই খেয়েছেন ফুটবল–ভক্তরা। বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের অ্যাকাউন্টে শ্মশ্রুহীন একজনের ছবি দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছিল, ‘আরে, এ আবার কে?’
ক্যাপশন পড়ার পর সবকিছু পরিষ্কার হয়। দাড়িহীন মানুষটা আর কেউ নন, খোদ পিকে-ই!
লিগের খেলা চলছে না, জাতীয় দলের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতা নেই। দৈনন্দিন অনুশীলনের ব্যাপারটা বাদ দিলে পিকের জীবনে তেমন ব্যস্ততা নেই এখন। তাই সম্ভবত নিজের ‘লুক’ পাল্টানোর একটু ইচ্ছা হয়েছিল বিশ্বকাপজয়ী এই স্প্যানিশ সেন্টারব্যাকের। দাড়ি কেটে সেলফি তুলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে ক্যাপশন লিখেছেলেন, ‘ইয়াঙ্গার’, অর্থাৎ ‘আরও তরুণ’।
ব্যস, আর যায় কোথায়! সাবেক বার্সা তারকা প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট থেকে শুরু করে ইভান রাকিতিচ, মার্ক বার্ত্রা, কেভিন–প্রিন্স বোয়াটেং, স্পেনের গোলকিপার দাভিদ দা হেয়া—সবাই হাসির ইমোজি দিয়ে কমেন্ট করা শুরু করলেন। কারও যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না ছবি দেখে! বার্সেলোনার মিডফিল্ডার রিকি পুচ যেমন মন্তব্য করেন, ‘তোমাকে যুবদলের খেলোয়াড়ের মতো লাগছে!’
তবে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো মন্তব্যটি করেছেন জাতীয় দলে পিকের সাবেক অধিনায়ক, ক্লাব ক্যারিয়ারে পিকের বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়ালের কিংবদন্তি গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াস। পিকের ক্যাপশন ‘ইয়াঙ্গার’-এর সঙ্গে মিলিয়ে লিখেছেন, ‘মঙ্গুয়ার’। স্প্যানিশ ভাষায় এ শব্দের অর্থ দাঁড়ায় অনেকটা ‘বেকুব’।
পিকেই–বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? এমনিতেই গতকাল থেকে রিয়াল শিবিরে তোলপাড় চলছে সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ফাঁস হওয়া এক অডিও বার্তা নিয়ে। যেখানে ক্যাসিয়াস, রাউল গঞ্জালেসের মতো সাবেক খেলোয়াড়দের সমানে সমালোচনা করেছেন পেরেজ। ২০০৬ সালের সেই আলপচারিতা ফাঁস হওয়ার রেশ ধরে পিকেও ক্যাসিয়াসকে উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, ‘ফ্লো (ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ) তোমাকে ঠিক এটাই বলেছে না অডিও বার্তায়?’
বলা বাহুল্য, উত্তরে সূক্ষ্ম খোঁচা থাকলেও সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়কের সঙ্গে মজা করেই এমনটা লিখেছেন পিকে। যদিও সে মন্তব্যের উত্তর এখনো দেননি ক্যাসিয়াস!
২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম মেয়াদে রিয়াল সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তখন পেরেজের কিছু আলাপচারিতার রেকর্ড এত দিন পর কাল ফাঁস করে এল কনফিডেনশিয়াল। রিয়ালের দুই কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেস ও ইকার ক্যাসিয়াসকে ক্লাবের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় প্রতারক’ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সেই আলাপচারিতায়।
ক্যাসিয়াসকে ‘বেকুব’ বলার পাশাপাশি সে সময় তাঁর সভাপতির দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে রাউলও আংশিকভাবে দায়ী, এমন কথাও বলেছেন পেরেজ ফাঁস হওয়া সেই অডিও রেকর্ডে। ২০০৯ সালে পেরেজ দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল সভাপতি হয়ে আসেন। এর পরের বছর রিয়াল ছাড়েন রাউল। পাঁচ বছর পর ২০১৫ সালে রিয়াল ছাড়েন ক্যাসিয়াস। দুজনে অবসর নিয়ে আবারও ফিরে আসেন রিয়ালে।
ক্লাবটির ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন সাবেক গোলকিপার ক্যাসিয়াস। রিয়ালে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচবার লা লিগা ও তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন এই গোলকিপার।
ফাঁস হওয়া আলাপচারিতায় ক্যাসিয়াসকে নিয়ে পেরেজ বলেছেন, ‘রিয়ালের গোলকিপার হওয়ার মতো যোগ্যতা তার নেই। আমি আর কী বলতে পারি? তার এই যোগ্যতা নেই, কখনো ছিল না। বড় একটা ভুল করেছি আমরা। যেটা ঘটেছে তা হলো....(অডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন)...তারা (সমর্থকেরা) তাকে পছন্দ করে, তার সঙ্গে কথা বলতে চায়। সব সময় তাকে আগলে রাখে। কিন্তু রিয়ালে সে অন্যতম বড় প্রতারক। পরেরটি হলো রাউল। মাদ্রিদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুই প্রতারকের মধ্যে প্রথমে রাউল, পরে ক্যাসিয়াস।’