জিদানের দাবি, বার্সাই গার্ড অব অনারের প্রথা ভেঙেছে

২০০৮ সালে রিয়ালকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল বার্সা। ছবি: এএফপি
২০০৮ সালে রিয়ালকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল বার্সা। ছবি: এএফপি
>

• কালকের ‘এল ক্ল্যাসিকো’ ঘিরে বিতর্ক চলছে গার্ড অব অনার নিয়ে
• রিয়াল কোচ জানিয়েছেন, বার্সাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে না
• বার্সাই এই প্রথা ভেঙেছে বলে মনে করেন রিয়াল কোচ জিদান

‘এল ক্ল্যাসিকো’ মানেই আগুনে দ্বৈরথ, বিতর্ক আর উত্তেজনা। যদিও বার্সেলোনা এবার আগেই লিগ জয় নিশ্চিত করায় কালকের ‘এল ক্ল্যাসিকো’তে শিরোপা দৌড়ের সমীকরণ নেই। কিন্তু ম্যাচটা যেহেতু দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ধ্রুপদি লড়াই তাই কিকঅফের আগে বাতাসে উত্তেজনার রেণু ছড়ানোই স্বাভাবিক। এবার যেমন বিতর্ক চলছে ‘পাসিল্লো’ নিয়ে।
পাসিল্লো? স্প্যানিশ শব্দ। ইংরেজিতে ‘গার্ড অব অনার’। লিগে দেপোর্তিভোর বিপক্ষে আগের ম্যাচে শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সা। স্প্যানিশ ফুটবলের প্রথা অনুযায়ী তাই পরের ম্যাচেই প্রতিপক্ষ দলের কাছ থেকে বার্সার গার্ড অব অনার পাওয়ার কথা। বার্সা কোপা ডেল রে জেতার পরের লিগ ম্যাচেই দেপোর্তিভো যেমন গার্ড অব অনার দিয়েছিল কাতালান ক্লাবটিকে। প্রতিপক্ষ দলের অর্জনের প্রতি এটা এক ধরনের সম্মান প্রকাশ।
অনেকের কাছে ব্যাপারটা কিছুই না, আবার অনেকেই মনে করেন গার্ড অব অনার না দেওয়াটা এক ধরনের অসম্মান। কালকের ২৩৭তম ‘এল ক্ল্যাসিকো’ ঘিরে এই সম্মান-অসম্মানের বিষয়টাই বড় হয়ে উঠেছে। দেপোর্তিভোর বিপক্ষে শিরোপা জয় নিশ্চিত করা বার্সার পরের ম্যাচটা কালকের ‘এল ক্ল্যাসিকো’—অর্থাৎ প্রথা মেনে রিয়ালকে এই ম্যাচে গার্ড অব অনার দিতে হবে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে। কিন্তু বার্সাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার ব্যাপারে রিয়াল একাট্টা।
রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান এর আগে সাফ জানিয়ে দেন, বার্সাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার সিদ্ধান্তটা তাঁর। গত মাসে এ নিয়ে জিদান মন্তব্য করেছিলেন, ‘এটা আমার সিদ্ধান্ত এবং এটাই চূড়ান্ত...বার্সেলোনা প্রথা ভেঙেছে।’
অর্থাৎ জিদানের যুক্তি, বার্সা যেহেতু আগে এই প্রথা ভেঙেছে, তাই এবার আর সম্মানটুকু পাচ্ছে না। গত ১৬ ডিসেম্বরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে পরের ম্যাচেই (২৩ ডিসেম্বর) বার্সার মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল। এই ম্যাচের আগে বার্সার কাছ থেকে গার্ড অব অনার প্রত্যাশা করেছিলেন রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। কিন্তু বার্সা এই প্রত্যাশাটুকু রাখেনি। রিয়াল কোচ জিদান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলটির এই আচরণ যে ভালো চোখে দেখেননি, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে।
জিদানের গার্ড অব অনার না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস। তাঁর মতে, এটা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। বার্সা শিরোপা চেয়েছিল, পেয়েছে। কোনো গার্ড অব অনার হবে না। তবে রিয়াল কোচের এই সিদ্ধান্তে ঠাট্টা করতে ছাড়েননি বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে, ‘আমার তো আজ রাতে ঘুমই হবে না!’
বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দের কাছে গার্ড অব অনারের সেই মাধুর্য আর নেই। তাঁর ভাষায়, ‘গার্ড অব অনার নিয়ে বলতে হলে আমি বলব কারও জন্য তা করতে পারব না, নিজেও কারও কাছ থেকে তা চাই না। এটা মাধুর্য হারিয়ে ফেলেছে কয়েক বছর আগেও যা ছিল।’ ভালভার্দে মিথ্যে বলেননি। বেশি না, বছর দশেক আগেও স্প্যানিশ ফুটবলে ‘পাসিল্লো’ মাধুর্য ছড়িয়েছে। ২০০৮ সালে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের বার্সেলোনা। সেটা ছিল দেখার মতো এক দৃশ্য। কাল কোন দৃশ্যের অবতারণা হয় কে জানে!