তাঁর নাম বিন লাদেন, ভাইয়ের নাম সাদ্দাম, পরিবারে থাকতে পারতেন বুশও

ওসামা বিন লাদেন নাম নিয়ে খেলতে এখন আর অস্বস্তি লাগে না ওসামার (মাঝে)।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

নামে কী যায় আসে, পরিচয় তো কজে—পুরোনো প্রবাদ। দিন শেষে এটাই সত্যি। কিন্তু নাম যদি হয় এমন চোখ কপালে তোলার মতো, তাহলে তো সেটি খবরের শিরোনাম হবেই!

কর্ম ছাপিয়ে নামটাই বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে এক পেরুর ফুটবলারের। তাঁর নাম যে ওসামা বিন লাদেন! তাঁর ভাইয়ের নাম সাদ্দাম হোসেন। একটু এদিক-ওদিক হলে পরিবারে থাকতে পারতেন জর্জ বুশও। ওসামার ছোট ভাই হলে তার নাম বুশই রাখবেন ঠিক করে রেখেছিলেন ওসামার বাবা। কিন্তু পরিবারের তৃতীয় সন্তান ছেলে নয়, মেয়ে হওয়ায় সে যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন বুশ।

পেরুর বয়সভিত্তিক দলে খেলার সময়েই দু-একবার তাঁর নাম আলোচনায় এসেছিল। নতুন করে ওসামার নাম আলোচনায়, কারণ তিনি পেশাদার চুক্তি সই করেছেন পেরুর দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইউনিয়ন কমের্সিওর সঙ্গে। এরপরই অনলাইন রেডিও অনুষ্ঠান ‘কে তি হুগুয়েসে’ নিজের নামের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওসামা।

বলা যায়, তাঁর বাবার খেয়ালেই এমন নাম ওসামার। পেরুতে অবশ্য বিখ্যাত কারও নামে সন্তানের নাম রাখার রীতি বহুল প্রচলিত। যে কারণে হিটলার কিংবা রিঙ্গো স্টার নামের যে কারওরই পেরুর রাস্তায় হয়তো মাঝে মাঝে দেখা মিলতে পারে। বিখ্যাত নাম বাছতে গিয়ে একটু বিতর্কের দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন ওসামার বাবা!

পেরুর বয়সভিত্তিক দলগুলোতে খেলেছেন ওসামা।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ওসামার পুরো নাম ওসামা বিন লাদেন হিমেনেস লোপেস। কদিন আগে তাঁকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময় তাঁর নাম ও ছবি দিয়ে পোস্ট করে কমের্সিও। সেটিই এখন ভাইরাল হয়ে গেছে। নামটা অবশ্য ইংরেজিতে দেখলে পুরোপুরি বিন লাদেন মনে হবে না। সেখানে বিন লাদেন-এ ইংরেজি অক্ষর ‘বি’-এর জায়গায় ‘ভি’ আছে। কিন্তু স্প্যানিশে অনেকসময় ভি-এর উচ্চারণ বি-এর মতোই হয়।

তবে তাঁর নাম যে ২০১১ সালে পাকিস্তানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে মারা যাওয়া আল-কায়েদা জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতা ওসামা বিন-লাদেনের নামেই, কে তি হুগুয়েসে সেই নিজেই জানিয়েছেন ওসামা।

তাঁর ভাইয়ের নামও তাঁর বাবা রেখেছেন প্রয়াত ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনের নামে। বাবার পরিকল্পনায় পরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকেও রাখার পরিকল্পনা ছিল বলে জানালেন ওসামা, ‘আমার ভাইয়ের নাম সাদ্দাম হোসেন, আমার বাবা তাঁর তৃতীয় সন্তানের নাম জর্জ বুশ রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় সন্তান হয়েছে মেয়ে।’

২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক শিরোনামে এসেছিলেন ওসামা বিন লাদেন। আর পেরুর ফুটবলার ওসামার জন্ম তার এক বছরের একটু বেশি সময় পর। তাঁর বাবা জেনেশুনে, সজ্ঞানেই নামটা রেখেছেন বলে জানালেন ওসামা, ‘যখন ওসামা বিন লাদেন টুইন টাওয়ার ধসিয়ে দিয়েছেন, নামটা খবরে ছড়িয়ে পড়ে। আর আমার জন্ম হয়েছে ২০০২ সালের ৭ অক্টোবর।’

নামটা বদলানোর চিন্তাও এক সময় এসেছিল ওসামার, ‘(পেরুতে) এ নামের আর কেউই নেই। আমি নামটার কারণে অনেকের নজরে পড়েছি, আমার কাছে এটাকে স্বাভাবিকই লাগে। আমার শার্টে ওসামাই লেখা থাকে। নামটা বদলানোর চিন্তা করতাম এক সময়, কিন্তু এখন এ নিয়ে আমি শান্তই আছি।’ বরং বাবার সিদ্ধান্তকে এখন সমর্থনই দিচ্ছেন ওসামা, ‘মনে হয় বাবার নামটা খুব পছন্দ হয়েছিল। আমার মনে হয় পেরুতে হিটলার নামেও একজন আছেন।’

তবে দিন শেষে সেই পুরোনো ‘নাম নয়, কর্মেই পরিচয়’ প্রবাদেই ফিরছেন ওসামা, ‘হেসুস (যীশু) বিশ্বকে বাঁচিয়েছেন, কিন্তু হেসুস নামের অনেকেই আছেন যাঁরা খারাপ কাজ করেন। একজন ওসামা অনেক মানুষ মেরেছে বলে এই নাম না রাখার নিয়ম তো করা যায় না! তবে আমি যেটা দেখছি, এই নামটা অনেকের নজর কাড়ে।’

ওসামার এরই মধ্যে একটা সন্তানও আছে। ছেলের নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য বাবার দেখানো পথে হাঁটেননি ওসামা। নাম রেখেছেন সান্তিয়াগো। ওসামার বাবা নামটা রাখলে সেটি নিশ্চিত জর্জ বুশ বা এই ঘরানার কোনো নামই হতো!