দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবল চায় সৌদি আরব

দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবল চায় সৌদি আরব।ফাইল ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয় চার বছর পরপর। এটাই চিরায়ত এবং বিশ্বকাপ চালুর পর থেকে এই নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে। কিন্তু সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এক প্রস্তাব পেশ করেছে ফিফার কাছে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজিত হোক, চায় আরব দেশটি। কাল খবরটি নিশ্চিত করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের ‘সম্ভাবনা কতটুকু এবং কেমন প্রভাব রাখবে তা ভাবনা-চিন্তা করা’র অনুরোধ করা হয়েছে ফিফাকে। ২১১ সদস্যদেশকে নিয়ে ফিফার বার্ষিক অধিবেশন কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পেশ করা হবে। কাল সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনলাইনের মাধ্যমে এই কংগ্রেস শুরু হবে।

বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে বেশ কয়েকবার এশিয়কে প্রতিনিধিত্ব করেছে সৌদি আরব।
ছবি: রয়টার্স

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে মেয়েদের বিশ্বকাপ দুই বছর পরপর আয়োজনের কথা বলেছিলেন। খেলার উন্নয়নে ‘এটি অবিশ্বাস্য অবদান রাখবে’ বলে এর আগে মন্তব্য করেন তিনি। ২০২৩ মেয়েদের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। এই বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ২৪ থেকে ৩২–এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে ফিফা। সেপ ব্লাটার ফিফা সভাপতি থাকতে ২০ বছর আগে একবার গুঞ্জন উঠেছিল, দুই বছর পরপর ছেলেদের বিশ্বকাপ আয়োজনের। এবার করোনা মহামারির মধ্যেই ধারণাটা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

সেপ ব্লাটার ফিফার সভাপতি থাকার সময় একবার ২ বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব উঠেছিল।
ফাইল ছবি

ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি হওয়ার পর ফুটবলে বড় টুর্নামেন্ট এবং নতুন কিছু করার ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছেন। যদিও পেশাদার ফুটবলারদের সংস্থা ফিফপ্রো সতর্ক করেছে, বেশি বেশি টুর্নামেন্ট করলে খেলোয়াড়েরা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি হওয়ার পর প্রথম বছরেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ১৬ দল ও ১৬টি ম্যাচ বাড়ান। ৪৮ দল ও ৮০ ম্যাচের এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে। এই বিশ্বকাপে রেকর্ড দর্শক উপস্থিতি আয়ের আশা করছে ফিফা। এ বছর চীনে ২৪ দলের ক্লাব বিশ্বকাপও আয়োজন করতে চেয়েছিল ফিফা।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ছবি: রয়টার্স

২০১৮ সালেও একবার দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব উঠেছিল। তখন এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের প্রধান ও ফিফা সহসভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজ। তিনি তখন ইনফান্তিনোর বেশ কাছের লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিটি বিশ্বকাপ থেকে আনুমানিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকে ফিফা।