এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি) কড়া একটা চিঠি পাঠিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ক্লাবের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বায়েজীদ আলম জুবায়েরের সই করা চিঠিতে এশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাকে এএফসি কাপের বিভিন্ন অসামঞ্জস্য বিষয় নিয়ে বলেছে তারা। বসুন্ধরা চিঠিতে নিজেদের এএফসি কাপের দক্ষিণ এশীয় জোনের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার আবেদন জানিয়ে প্রাইজমানি দাবি করেছে। বসুন্ধরা কিংস চিঠিটির একটি কপি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকেও দিয়েছে।
চিঠিতে বসুন্ধরা নিজেদের দাবির সপক্ষে কিছু যুক্তি তুলে ধরেছে। তারা আবাহনী লিমিটেডের ব্যাপারটিও তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে। বসুন্ধরার দাবি, যদি এএফসি কাপের ম্যাচ আয়োজন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আবাহনী লিমিটেডকে এএফসি কাপ থেকে বাদ দিতে পারে, তাহলে একই কারণে ম্যাচ আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় মালদ্বীপের ক্লাব ইগলস ও মাজিয়া এফসিকেও এএফসি কাপ থেকে বাদ দিতে হবে।
দ্বিতীয় পর্বের প্রাথমিক রাউন্ডে আবাহনীর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইগলস। যেহেতু আবাহনীকে বাদ দেওয়া হয়েছ, তাই ইগলসের ওয়াকওভার পেয়ে প্লে অফে খেলার কথা ছিল বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে। কিন্তু মালদ্বীপে গিয়ে বেঙ্গালুরু এফসি করোনার প্রটোকল ভঙ্গ করায় মালদ্বীপ সরকার শুধু প্লে অফই নয়, ‘ডি’ গ্রুপের খেলাই স্থগিত করে দেয়। বসুন্ধরা বেঙ্গালুরু এফসিকে কঠোর শাস্তি দিতেও অনুরোধ করেছে।
চিঠিতে এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপের আরেক দল আতলেতিকো মোহনবাগানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে বসুন্ধরা। ভারতীয় ক্লাবটি নাকি গ্রুপ পর্ব পেছাতে এএফসিকে করা তাদের প্রস্তাবে পাশে চেয়েছিল বসুন্ধরাকে। মোহনবাগান নির্ধারিত সময়ে মালদ্বীপে যেতেও প্রস্তুত ছিল না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা। মোহনবাগান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালদ্বীপ যাওয়ার কোনো ব্যবস্থাও নাকি করেনি। ‘ডি’ গ্রুপের খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৪ মে থেকে। ৩ মে কলকাতার ক্লাবটি বসুন্ধরার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চায় তারা (বসুন্ধরা) কি এএফসিকে এটা জানিয়ে দেবে যে ১৪ মে থেকে খেলতে রাজি নয়! বসুন্ধরার দাবি, তারা ওই অনুরোধে রাজি তো হয়ইনি, বরং মোহনবাগানকে জানিয়ে দিয়েছে এএফসি সূচি মেনেই নির্ধারিত সময়ে খেলতে প্রস্তুত তারা।
টুর্নামেন্ট নির্ধারিত সময়ে না হওয়ায় নিজেদের আর্থিক ক্ষতির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এ ছাড়া এএফসির সব সময়সূচি মেনে চলার কথাও জানিয়েছে ক্লাবটি। সবকিছু বিবেচনা করে এএফসির কাছে পাঁচটি দাবি করেছে বসুন্ধরা।
বসুন্ধরার পাঁচ দাবি
১. টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্লাব ইগলস ও মাজিয়া স্পোর্টসকে বাদ দিতে হবে।
২. করোনার স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে বেঙ্গালুরু এফসিকে বাদ দিতে হবে। ভারতীয় ক্লাবটিকে শাস্তিও দিতে হবে।
৩. অপেশাদার আচরণের জন্য মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে ও ক্লাবটিকে বাদ দিতে হবে।
৪. যেহেতু গ্রুপের অন্য দলগুলো কারোরই খেলার যোগ্যতা নেই, তাই আমাদের জোনাল চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে হবে। আমরা ইন্টার জোনাল সেমিফাইনাল খেলতে ও এক লেগ আয়োজনে প্রস্তুত।
৫. এএফসি কাপের ৫৪.১.২ বিধি অনুযায়ী আমাদের জোনাল চ্যাম্পিয়নের আর্থিক পুরস্কার দিতে হবে।