নেইমার গোল করলেন, করালেন, হলুদ কার্ডও দেখলেন!

পেনাল্টি থেকে গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে নেইমার। ছবি: রয়টার্স
পেনাল্টি থেকে গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে নেইমার। ছবি: রয়টার্স
>

যুক্তরাষ্ট্রে প্রীতি ম্যাচে এল সালভাদরকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। এ ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়েও গোল করিয়েছেন নেইমার। ‘ডাইভ’ দেওয়ার অপরাধে হলুদ কার্ডও দেখেছেন পিএসজির এই তারকা ফুটবলার।

ব্রাজিলের খেলা কি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলপ্রেমীদের আর টানছে না?

ছয় বছর আগেও ফেডেক্স ফিল্ড স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচটি দেখেছিল প্রায় ৭০ হাজার দর্শক। কিন্তু আজ সকালে সেই একই মাঠে ব্রাজিল-এল সালভাদর প্রীতি ম্যাচ দেখতে দর্শকসংখ্যা ছিল অর্ধেকেরও কম! যদিও তাঁদের পয়সা উশুল হয়েছে। সালভাদরকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আগের প্রীতি ম্যাচে নেইমার যেখানে শেষ করেছেন, আজ শুরু করলেন সেখান থেকেই। আগের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করার ধারাটা তিনি ধরে রাখলেন এ ম্যাচেও। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়েও গোল করিয়েছেন আর হলুদ কার্ডও দেখেছেন। সেটি অবশ্যই ‘ডাইভ’ দেওয়ার জন্য!

ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেকেই জোড়া গোল পেয়েছেন এভারটন ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। এর মধ্যে একটি গোল বানিয়ে দিয়েছেন নেইমার। ফিলিপ কুতিনহোর গোলের উৎসও ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই ফুটবলার। আর তাঁর কর্নার থেকে ম্যাচের শেষ গোলটি মার্কুইনহোসের। সব মিলিয়ে নেইমার-ঝলকের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি মধ্য আমেরিকার দেশটি।

কুতিনহোর গোলের পর তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন নেইমার। ছবি: রয়টার্স
কুতিনহোর গোলের পর তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন নেইমার। ছবি: রয়টার্স

তিতের শিষ্যরা পেনাল্টি থেকে এগিয়ে গেছে লড়াইয়ে। সেটিও আবার ম্যাচের ৪ মিনিটের মাথায়। সালভাদরের বক্সে ফাউলের শিকার হয়েছিলেন রিচার্লিসন। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫৯তম গোলটি তুলে নেন নেইমার। আর মাত্র চার গোল করলেই রোনালদোকে টপকে ব্রাজিলের জার্সিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন পিএসজি তারকা। তখন নেইমারের সামনে থাকবেন শুধুই পেলে (৭৭)।

পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু তাঁর জোরালো শট রুখে দেয় ক্রসবার। ১৬ মিনিটে পিএসজি তারকার পাস থেকে দারুণ বাঁকানো শটে জাতীয় দলের জার্সিতে গোলের খাতা খোলেন রিচার্লিসন। আর আধঘণ্টার মাথায় প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে কুতিনহোকে পাস দেন নেইমার। বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধান ৩-০ করেন কুতিনহো।

প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে সালভাদর ডিফেন্ডার ব্রায়ান টামাকাসকে ‘ড্রিবল’ করতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের সামান্য বাধাতেই মাটিতে পড়ে যান ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। তবে দর্শকেরা তাঁর এই ‘ডাইভ’ দেওয়া ভুলে গেছে গোটা ম্যাচেই আলো ছড়ানোর জন্য।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ৫ মিনিটের মাথায় বক্সের ভেতর থেকে বাম পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন রিচার্লিসন। আর নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে নেইমারের কর্নার থেকে দলকে পঞ্চম গোলটি এনে দেন মার্কুইনহোস। সালভাদর গোটা ম্যাচে ব্রাজিলের গোলরক্ষক নেতোকে একবারের জন্যও কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলানো একাদশে মোট ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ব্রাজিল কোচ তিতে। এদের মধ্যে গোলরক্ষক নেতোকেও খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর এর মধ্য দিয়ে প্রায় আট বছরের অপেক্ষা ঘোচালেন ২৯ বছর বয়সী এই ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক। প্রায় আট বছর আগে জাতীয় দলে ডাক পেলেও কখনো মাঠে নামার সুযোগ পাননি নেতো। এভাবে ২৪ ম্যাচ অপেক্ষার পর ২৫তম ম্যাচে এসে তিনি দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেন ব্রাজিলের গোলপোস্টের নিচে।

দুটি প্রীতি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে যাওয়ার মিশনে ভালো শুরু করল ব্রাজিল। আগামী ১৬ অক্টোবর সৌদি আরবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তিতের শিষ্যরা।