ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন সুয়ারেজ
জুভেন্টাসে যাওয়া আর হচ্ছে না লুইস সুয়ারেজের। রোনাল্ড কোমানের কাছ থেকে ক্লাব ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদেরই মনে ধরেছিল উরুগুয়ের স্ট্রাইকারের। অন্য প্রান্ত থেকেও ভালোই সাড়া মিলেছিলে। কিন্তু ভিসা জটিলতায় ইতালি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর। জুভেন্টাসও এখন আলভারো মোরাতায় নজর দিয়েছে স্ট্রাইকার সমস্যা কাটানোর জন্য।
সুয়ারেজের সমস্যা এতেও কমেনি। জুভেন্টাসের পথ এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে, ওদিকে দ্বিতীয় পছন্দ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের যাত্রাও আটকে দিতে চান বার্সেলোনা সভাপতি জোসেপ-মারিয়া বার্তোমেউ। কিন্তু এগুলোও বড় কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না নতুন সৃষ্ট গুঞ্জনের কাছে। ইউরোপ জুড়ে ঝড় উঠেছে নতুন, জুভেন্টাসে যাওয়ার জন্য যে ইতালিয়ান ভাষা পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেটায় পাশ করার জন্য নাকি প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছিল!
রোনাল্ড কোমান যখনই বার্সেলোনা নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, এর পর থেকেই সুয়ারেজের কাতালুনিয়া বাস সাঙ্গ হওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ওদিকে হন্যে হয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একজন সঙ্গী খুঁজছিল জুভেন্টাস। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে সুয়ারেজকে তুরিনে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ইতালিয়ান নিয়ম অনুযায়ী এক মৌসুমে ইউরোপিয়ান নন, এমন দুজনের বেশি খেলোয়াড় নেওয়া যায় না। সে কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ায়, ইতালিয়ান পাসপোর্ট নিয়েই জুভেন্টাসে যেতে হতো সুয়ারেজকে। আর সেটার জন্য ‘বি ওয়ান’ পরীক্ষা দিতে হয়েছিল সুয়ারেজকে।
৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার নাকি দারুণভাবেই সে পরীক্ষা পাশ করেছিলেন। ১৭ আগস্ট খবর এসেছিল পেরুজা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে এসেছিলেন তিনি। সুয়ারেজের পাশ করার খবরও চলে এসেছিল সেদিন। কিন্তু ভিসার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই এ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের স্কোয়াড ঘোষণা করার সময় পেরিয়ে যায়। তাই জুভেন্টাস দলবদল থেকে সরে আসে। কিন্তু দলবদলের এই ব্যর্থ প্রচেষ্টাই ঝামেলা ফেলে দিচ্ছে এর সঙ্গে জড়িতদের।
ইতালিয়ান শহর পেরুজা ও গোর্দিয়া দি ফিনাৎসা (আইন প্রণয়ন সংস্থা) সুয়ারেজের পরীক্ষা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত করছে। সুয়ারেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার প্রশ্ন কী হবে, কী ফল হবে, সেটা আগেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ ইতালির নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য লুইস সুয়ারেজ যে পরীক্ষা দিয়েছিলেন তাতে তদন্তে কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে পরীক্ষায় কোন বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে, সেটা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকি পরীক্ষায় কত পাবেন, সেটাও পরীক্ষার আগেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। আর পরীক্ষার্থীর মধ্যে ইতালিয়ান ভাষায় প্রাথমিক পর্যায়ের দক্ষতা দেখা গেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেরুজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করছে। এর মাধ্যমে গোপনীয় তথ্য ফাঁস করার মতো অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
ইতালিয়ান পত্রিকা রিপাবলিকা জানিয়েছে সুয়ারেজের এত সহজে পরীক্ষায় পাশ করা আগেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তাদের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘সে (সুয়ারেজ) এক শব্দ ইতালিয়ান বলতে পারে না। সে ক্রীড়াপদ গুছিয়ে বলতে পারে না। অসমাপিকা ক্রীড়া ব্যবহার করে। যদি কোনো সাংবাদিক কোনো প্রশ্ন করত, সে কিচ্ছু বলতে পারত না। বছরে ১ কোটি ইউরো আয় করবে যে, তাঁকে পরীক্ষা পাশ করতেই হবে।’