ফুটবল ছেড়ে এবার ফুটসালে মন দিচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা

• ২ মে থাইল্যান্ডে শুরু হবে এএফসি ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ
• টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল
• এটাই হবে বাংলাদেশের কোনো দলের কোনো ফুটসাল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ
নারী ফুটবল মানেই বাংলাদেশের জয়জয়কার। সেটা অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে শুরু করে মূল জাতীয় দল—সর্বত্রই বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট। তবে এবার এমন এক টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মেয়েরা, যেখানে তাঁরা একেবারেই ‘শিশু’। টুর্নামেন্টটি ফুটবলের নয়, ফুটসাল খেলতে ব্যাংকক যাচ্ছেন মেয়েরা।
আগামী ২ থেকে ১২ মে ব্যাংককে হবে এএফসি নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেখানে বাংলাদেশসহ অংশ নেবে ১৫টি দল।
বাংলাদেশে ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত ফুটসাল। এত দিন খেলাটি বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। একসঙ্গে মাঠে থাকতে পারেন পাঁচজন খেলোয়াড়, স্কোয়াডে থাকবেন ১৪ জন। ১৫ মিনিটের বিরতিতে মোট ৪০ মিনিটের খেলায় খেলোয়াড় বদল করা যায় ইচ্ছেমতো।
বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে একেবারেই নতুন ঘরানার টুর্নামেন্ট। বিষয়টি নিজেই স্বীকার করে নিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানি, ‘আমরা প্রথমবারের মতো ফুটসাল খেলতে যাচ্ছি। আমাদের মেয়েদের কাছে খেলাটি একেবারেই নতুন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
টুর্নামেন্ট উপলক্ষে এত দিন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন মেয়েরা। নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেই তৈরি হয়েছে দলটি। যেহেতু প্রথমবারের মতো খেলতে যাওয়া, তাই নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যের কথা বলেননি কোচ। গ্রুপে থাকা ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও চায়নিজ তাইপের মধ্যে ভিয়েতনামকে বেশি শক্তিশালী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রব্বানি।
দলে ফুটসাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে শুধু অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে মালদ্বীপ ফুটবল ফিয়েস্তায় গিয়ে প্রচুর গোল করেছিলেন সাবিনা। কিন্তু ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ফুটসাল খেলার মধ্যে পার্থক্য দেখছেন তিনি, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফুটসাল একেবারেই নতুন। আমারই শুধু খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আর ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলার পার্থক্য অনেক। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
আগামীকালই দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ। দেখা যাক, ফুটবলের মতো ফুটসালেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারে কি না বাংলাদেশের মেয়েরা!