বাংলাদেশ হেরেছে? এই জয়গুলো দেখে নিন আগে!

>উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে এশিয়ান গেমসের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু নামে-ভারে বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা কোরিয়ার বিপক্ষে তুলনামূলকভাবে বেশ লড়াই করেই হেরেছে বাংলাদেশ
রোমাঞ্চের যাত্রারও শেষ থাকে। যতই আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভরা থাকুক যাত্রার ভেলা, পুরো পথ পাড়ি দেওয়া খুবই কঠিন। বাংলাদেশও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পেরে উঠল না কাল। আর এতেই থেমে গেল ফুটবল দলের রোমাঞ্চের এশিয়ান গেমস। গল্পটাও এখানে শেষ করে দেওয়া যেত। কিন্তু এই শেষ থেকেই পাওয়া যাচ্ছে নতুন শুরুর অনুপ্রেরণা। নিশ্চিতভাবে এই বিদায়ের গল্পটা অনেক দিন প্রেরণা দেবে এ দলকে।
শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ, বেশ সহজেই বলে দেওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বিদায়ের আগ পর্যন্ত ‘বিদায় হব না’, এ মানসিকতাটাই তো সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য সবচেয়ে বড় জয়! ৯০ মিনিটে ৩-০ গোলে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ, ম্যাচ তো কার্যত বহু আগেই শেষ! কিন্তু অতিরিক্ত সময়েও গোল পরিশোধের অসাধ্যসাধনের চেষ্টা করে গেলেন সাদ উদ্দীন, আতিকুর রহমান ফাহাদরা। সেটা করে দেখালেনও সাদ, যোগ করা সময়ে তাঁর গোলেই ব্যবধান কমিয়েছে বাংলাদেশ। তাই ৩-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচেও বাংলাদেশের ভান্ডারে জমা হয়েছে অনেক পাওয়ার অর্জন।
বিশ্বকাপ খেলুড়ে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ইতিবাচক দিক
চোখে চোখ রেখে খেলা
২০১০ বিশ্বকাপে খেলেছিল উত্তর কোরিয়া। ব্রাজিলের মতো দলের সঙ্গেও চোখে চোখ রেখে খেলেছে তারা। এশিয়ান গেমস ফুটবলে বর্তমান রানার্সআপও তারা। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলারদের খেলায় সেটা বোঝাই যায়নি। বড় দলের বিপক্ষে আগেই হার মেনে নেওয়া মানসিকতা ছিল না কাল। কিক অফের শুরু থেকেই কোরীয়দের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। বল দখলে দুই দলেরই সুযোগ ছিল এমন পরিস্থিতিতে চাপ সৃষ্টি করে বেশ কয়েকবার বল কেড়ে নিয়েছেন সাদ, বিপলুরা। উত্তেজনার মুহূর্তগুলোতে বাংলাদেশের ফুটবলারদের শরীরী ভাষার কাছে বারবার হার মেনেছে বর্তমান রানার্সআপরা।
উত্তর কোরিয়াকে ভয় ধরিয়ে দেওয়া
কোরীয়রা পরিষ্কারভাবে ম্যাচে এগিয়ে ছিল ঠিকই। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে চাপে পড়ে বেশ কয়েকবার সময় নষ্ট করতেও দেখা গিয়েছে তাদের। প্রথম গোল হজমের পর কোরীয়দের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশ। বিরতিতে যাওয়ার আগে কিছু সময় তো কোরীয়রা শুধু ঠেকিয়েই পার করেছে। বাংলাদেশের আক্রমণের সঙ্গে পেরে উঠতে না পেরে অনেকগুলো বল ইচ্ছাকৃতভাবে থ্রো ইন করতে বাধ্য হয়েছে তাঁরা। একপর্যায়ে বিল্ডআপ ফুটবল বাদ দিয়ে লম্বা ক্রসে খেলতেও দেখা গেছে।
শেষ সময়ে গোল
বাংলাদেশের খেলা মানেই যেন শেষ সময়ে গোল হজম করা। নিজেদের সমমানের দলের বিপক্ষেও সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কয়েকবার দেখা গিয়েছে এটা। একেবারেই অলিখিত নিয়ম হয়ে গিয়েছিল ব্যাপারটা। কিন্তু এই দলটি পুরোপুরি ভিন্ন। কাতারের বিপক্ষে শেষ সময়ে গোল করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পরে কোরিয়ার বিপক্ষেও যোগ করা সময়ে গোল করে দেখাল বাংলাদেশ। সেটাও আবার ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায়। সাধারণত এমন অবস্থায় ম্যাচটা কার্যত শেষ। লড়াইয়ের শেষ চেষ্টাও আর দেখা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশ গতকাল অতিরিক্ত সময়ে গোল পরিশোধ করার জন্য চড়াও হয়ে উঠে গোল পরিশোধও করেছে। শেষ কিছু মিনিটের খেলা তো রীতিমতো মুগ্ধ করেছে সবাইকে।
সেট পিসে উন্নতি
কোরীয়রা শারীরিকভাবে অনেক এগিয়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবে সেট পিসে বাংলাদেশের ওপরে চেপে বসার কথা ছিল। আবার সেটপিস বাংলাদেশের পুরোনো এক রোগের নাম। সব মিলিয়ে সেটপিস মানেই ছিল আতঙ্ক। কিন্তু গতকাল একবারও না কর্নার না ফ্রি কিকে বাংলাদেশের পরীক্ষা নিতে পেরেছে কোরিয়া। উল্টো সেট পিস থেকে কোরিয়ান বক্সে হেড করে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু বর্মন কোরিয়ার পরীক্ষা নিয়েছেন বেশ কয়েকবার।