বাংলাদেশের পরীক্ষা নেবেন 'লেফটেন্যান্ট' ও 'হিমালয়ান মেসি'

>নেপালের ‘চতুষ্টয়’ আক্রমণভাগের কাছে আজ পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে।
‘বিএমজি টেন’—বিমল গাত্রি মাগারকে সংক্ষেপে আদর করে এই নামে ডাকেন নেপালিজ ফুটবলপ্রেমীরা। ভুটানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচ শেষে এই উইঙ্গারের সঙ্গে হাত মেলাতে পেরে মাঠে আসা নেপালি তরুণীদের চোখেমুখে সে কী রোমাঞ্চ! ঢাকায় ডাক্তারি পড়তে আসা নেপালি তরুণীদের কাছে বিমল যেন স্বপ্নের নায়ক!
নেদারল্যান্ডসের ক্লাব এফসি টোয়েন্টি ও বেলজিয়ামের অ্যান্ডারলেখট যুব দলে খেলা বিমল হলেন নেপালের ‘চতুষ্টয়’ আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল করেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি গত বছর ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগানে খেলা এই স্ট্রাইকার। আর ভুটানের বিপক্ষে বড় জয়ে তাঁর নামের পাশে গোল না থাকলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে তাঁর প্রতিভার দামটা একটু বেশিই। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল মানদণ্ডে প্রথম সারিতে থাকবেন বাকি তিনজনও—নবযুগ শ্রেষ্ঠা, ভারাত খাওয়াজ ও সুনীল বাল।
৪-২-৪ ফরমেশনে নেপালের এই ‘চতুষ্টয়’ ফরোয়ার্ড লাইন যেকোনো দলের রক্ষণভাগ দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাঠে থাকা দর্শকেরা জানেন, আধিপত্য দেখানোর পরেও নেপালকে হারতে (২-১) হয়েছিল দুর্ভাগ্যের কাছে। আর শেষ ম্যাচে ‘হিমালয়ান মেসি’খ্যাত নবযুগকে বিশ্রামে রেখেই নেপাল উড়িয়ে দিয়েছে ভুটানকে। বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল আরেক তারকা ফরোয়ার্ড নেপাল সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ভারাতকেও। যদিও শেষ দিকে বদলি নামানো হয়েছিল তাঁকে, পেয়েছিলেন গোলও। ভুটান কোচের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, বাংলাদেশের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলের প্রধান দুই স্ট্রাইকারকে যেন পাওয়া যায় ফুরফুরে মেজাজে।
এই চার ফরোয়ার্ডের পায়ে সময়মতো বল দেওয়ার মতো দক্ষ মিডফিল্ডারও আছে নেপালের। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে কার্যকরী মিডফিল্ডার বলা হয় রোহিত চাঁদকে। ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সেরা ক্লাব পার্সিয়া জাকার্তাতে খেলা এই মিডফিল্ডার ইতিমধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ান ক্লাব কেন তাঁকে মাসিক পাঁচ হাজার ডলার মাইনে দিয়ে রেখেছে।

আজকের ম্যাচটি হতে পারে নেপালের আক্রমণভাগ বনাম বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। অন্যভাবেও বলা যায়, টুর্নামেন্টে ৫ গোল করা দলের আক্রমণভাগের সামনে কোনো গোল হজম না করা রক্ষণভাগ। এ তো জম্পেশ একটা লড়াইয়ের আভাস।
নেপালের সহকারী কোচ কিরণ শ্রেষ্ঠা ম্যাচটিকে রীতিমতো ‘ফাইনাল’ বলেই ঘোষণা দিয়েছেন, ‘এই ম্যাচটা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমরা মাত্র ৩ পয়েন্ট পেয়েছি। জেতা ছাড়া অন্য কিছু আমাদের ভাবনায় নেই। এটা আমাদের কাছে ফাইনাল।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের চ্যাম্পিয়ন নেপাল। বাহরাইন অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ফাইনালে হারানো ওই দলের মিডফিল্ডার বিশাল রায়, বিমল, নুয়াং শ্রেষ্ঠ এবারও ঢাকায় এসেছেন। ঢাকার মাঠ কিরণের দৃষ্টিতে যেন দ্বিতীয় ঘরের মাঠ, ‘এখানে অনেক নেপালি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ওরা আগের ম্যাচেও আমাদের অনেক সমর্থন দিয়েছে। আমাদের কাছে এটা ঘরের মাঠের মতোই।’
টানা দুই জয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে কিন্তু বেশ সমীহ করছেন এই কোচ, ‘বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলছে। এরই মধ্যে ওরা ৬ পয়েন্ট পেয়ে অনেকটা নিরাপদে রয়েছে। তা ছাড়া ওরা খেলবে ঘরের মাঠে।’
সেমিফাইনালে উঠতে বাংলাদেশকে ড্র করলেই চলবে। কিন্তু নেপালের সামনে জয়ের বিকল্প নেই।