বার্সার ১০ নম্বর জার্সিতে মেসির দারুণ অর্জন
লা লিগায় কাদিজের কাছে ২-১ গোলে হার, এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাসের কাছে হারের ব্যবধান আরও বড় (৩-০)। বেশ চাপেই ছিলেন বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমান।
দল আর কোচ চাপে থাকলে সবচেয়ে পরিচিত যে দৃশ্য দেখা যায়, কাল রাতে সেটাই দেখা গেল ক্যাম্প ন্যুতে। বার্সাকে জেতালেন লিওনেল মেসি।
লেভান্তের বিপক্ষে শেষ বাঁশি বাজার ১৪ মিনিট আগে জয়সূচক গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের ডিফেন্সচেরা পাস পেয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন মেসি। ১–০ গোলের এই জয়ে ১১ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আটে রইল বার্সা।
গোলটি দিয়ে বার্সার ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়াড় হিসেবে দারুণ এক মাইলফলকের দেখা পেলেন তিনি। বার্সার ‘নাম্বার টেন’ হিসেবে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৬০০।
যেকোনো ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সির ওজনটা একটু আলাদা। সৃষ্টিশীল প্লে মেকিংয়ের কেন্দ্রে থাকেন তাঁরা। গোল বানানো থেকে গোল করাই ১০ নম্বরদের কাজ—এককথায় সেন্ট্রাল প্লেমেকার।
কাতালান ক্লাবটিতে পাঁচ বছর ১০ নম্বর জার্সিতে মাঠ মাতিয়েছেন রোনালদিনহো। এর মধ্যে মেসি উঠে এলেন বার্সার মূল দলে। প্রথম গোলটি করেছিলেন বার্সার ৩০ নম্বর জার্সিতে।
মূল দলে নিয়মিত হয়ে পেলেন ১৯ নম্বর জার্সি। ২০০৭-০৮ মৌসুম শেষে বার্সা ছাড়েন রোনালদিনহো। এরপর ১০ নম্বর জার্সিটি পান মেসি।
৩০ ও ১৯ নম্বর জার্সিতে সব মিলিয়ে ৪২ গোল করেছিলেন মেসি। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে তাঁর গায়ে ওঠে বার্সার ১০ নম্বর জার্সি।
এরপর এই জার্সিতে লা লিগায় করেছেন ৪১৮ গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১০, কোপা ডেল রেতে ৫০, স্প্যানিশ সুপার কাপে ১৪, উয়েফা সুপার কাপে ৩ ও ক্লাব বিশ্বকাপে ৫ গোল করেছেন মেসি।
বার্সার জার্সিতে সব মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ৬৪২। এর মধ্যে লা লিগায় ৪৪৯ গোল নিয়ে দারুণ এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি।
আর এক গোল করলেই ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগগুলোর মধ্যে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক ক্লাবে হয়ে ৪৫০ গোলের মাইলফলক গড়বেন মেসি।
লেভান্তের বিপক্ষে মেসি যে গোল পেতে মরিয়া ছিলেন, সে প্রমাণ দেবে পরিসংখ্যান। মোট ১৫টি শটে জড়িত ছিলেন তিনি। নিজে ১২টি নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পাস দিয়েছেন ৩টি।
এ মৌসুমে লা লিগার কোনো ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ। তবে প্রথমার্ধে বার্সার রক্ষণকে ভালোই ঝাঁকিয়েছে লেভান্তে। বার্সার জয়কে কষ্টার্জিতই বলছেন কোচ কোমান, ‘ম্যাচটা খুব জটিল ছিল। আমরা দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি। সুযোগ তৈরি করেছি, জয়টা কষ্টার্জিত ছিল।’