বার্সায় কোচ লাগবে? কাতার থেকে এল দুঃসংবাদ
রোনাল্ড কোমান এখন ডাগআউটে আছেন। কিন্তু তাঁকে ঘিরে যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছে না বার্সেলোনা, সেটি সম্ভবত তাঁর নিয়োগের সময়ই বোঝা যাচ্ছিল। গত মার্চে বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচনের আগে তিন মূল প্রার্থীর একজন ভিক্টর ফন্ত তো নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি বলেই দিয়েছেন, তাঁর প্রকল্পে কোচ থাকবেন না কোমান।
ফন্ত বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচিত হননি, হয়েছেন হোয়ান লাপোর্তা। কোমান এখনো বার্সেলোনার কোচ আছেন। তবে বেশি দিন থাকবেন কি? সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে। ডাচ কোচের সঙ্গে বার্সার দুই বছরের চুক্তির শেষ বছরটি এখনো বাকি। কিন্তু যে এক বছর কেটেছে, তাতে তাঁকে ঘিরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি। ফল? বার্সা কোচ খুঁজছে বলে গুঞ্জন ইউরোপের সংবাদমাধ্যমে।
সে অনুসন্ধানের শুরুতে একটা ধাক্কাই খেল বার্সেলোনা। ধাক্কাটা এল কাতার থেকে। বার্সার ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে যাঁকে ভাবা হচ্ছিল, তাঁদের একজন জাভি হার্নান্দেজ। এই মুহূর্তে কাতারের ক্লাব আল-সাদের কোচ বার্সেলোনার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার। বার্সার জন্য দুঃসংবাদ এই, আল-সাদের সঙ্গে চুক্তি আরও দুবছরের জন্য নবায়ন করেছেন জাভি। ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে থাকার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন।
বার্সার জন্য আরও বড় ধাক্কা, আল-সাদের চুক্তিতে বার্সা-বিষয়ক একটা শর্ত আছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বার্সা ডাকলে আর জাভি যেতে চাইলে যেকোনো সময় তাঁকে ছেড়ে দেবে আল-সাদ, শর্তটা এমনই ছিল বলে গুঞ্জন। কিন্তু জাভি নিজে সে গুঞ্জন মিথ্যা বলে জানিয়ে দিয়েছেন। বার্সার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আল-সাদের ওয়েবসাইটে বলেছেন, ‘এটা মিথ্যা। আল-সাদের সঙ্গে আমার দুই বছরের চুক্তি, এই চুক্তিটাকে আমি সম্মান করি। এখানে সব পক্ষের চুক্তি করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটাকেও আমি সম্মান করি।’
চুক্তি নবায়নে খুশিও ঝরল জাভির কণ্ঠে, ‘আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু অর্জন করেছি। গোল করেছি, ম্যাচ জিতেছি, শিরোপা জিতেছি। এই সাফল্য নিয়ে আমরা গর্ব করি। এ রকম সমর্থন একজন কোচের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। এখানে ভালো করতে যা কিছু লাগবে, সব আমার কাছে আছে। আল-সাদে আরও দুবছর চালিয়ে যেতে পারব ভেবে আমি গর্বিত।’
বার্সার মাঝমাঠে এই কদিন আগেও আলো ছড়িয়েছেন জাভি। মেসি, ইনিয়েস্তা, পিকেদের সঙ্গে বার্সার সোনালি প্রজন্মের হয়ে মাঠ মাতানো স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ২০১৫ সালে বার্সা ছেড়ে আল-সাদে যোগ দিয়েছিলেন খেলোয়াড় হিসেবে। ২০১৯ সালে খেলা ছাড়ার পর কোচ হয়েছেন কাতারি ক্লাবটির। পেপ গার্দিওলার দর্শনে বল দখলে রেখে ছোট ছোট পাসে সৃষ্টিশীল ফুটবল খেলাতে পছন্দ করেন ৪১ বছর বয়সী জাভি। সে কৌশলে সফলও হয়েছেন! এবারের কাতারি লিগ ও কাপের ‘ডাবল’সহ দুই বছরে ছয়টি শিরোপা জিতিয়েছেন আল-সাদকে। বার্সার তাঁকে পছন্দ না হওয়ার কোনো কারণ নেই!
আর কোমান? দায়িত্ব নিয়েছিলেন মাঠে-মাঠের বাইরে নড়বড়ে এক বার্সার ঝড়-ঝাপটা সইতে থাকা সময়ে। মাঠে সময়টা ছিল পালাবদলের, তার মধ্যেও দলকে এবারের স্প্যানিশ কাপ জিতিয়েছেন।
১৯৯২ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বার্সাকে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো গোলটা করা ডিফেন্ডার এবার বার্সার ডাগআউটে এসে চ্যাম্পিয়নস লিগে সফল হতে পারেননি, দল বাদ পড়েছে রাউন্ড অব সিক্সটিনে। কিন্তু লিগে তাঁকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যাবে না। মৌসুমের প্রথম ভাগের ঝড় সয়ে দলটাকে থিতু করেছেন, প্রথম ভাগে দৃশ্যত শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া বার্সা পরের ভাগে দারুণভাবে ফিরেছে শিরোপার লড়াইয়ে। জানুয়ারি থেকে তো দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়েছে।
কিন্তু সে যদি হয় কোমানের সাফল্য, ব্যর্থতার গল্প হয়ে কথা বলবে বড় ম্যাচগুলোতে দলকে জেতাতে না পারা। লিগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে দুই ম্যাচেই হেরেছে, আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে জিততে পারেনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে প্রথম লেগে বার্সা হেরেছে বাজেভাবে, দ্বিতীয় লেগে করেছে ড্র।
লিগে শিরোপা লড়াইয়ে ফেরানোর কৃতিত্ব যদি কোমানের হয়, দ্বিতীয় ভাগে এসে বেশ কয়েকটি ম্যাচে লিগ শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিতে পারার দায়ও তাঁর। গ্রানাদা, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সম্প্রতি দুই ম্যাচে যে সুযোগ হারিয়েছে বার্সা! এই ফলের পাশাপাশি কোমানের খেলার ধরনও খুব বেশি মানুষের মন জিতে নিতে পারেনি।
সব মিলিয়েই বার্সা কোচ বদলাতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। ইএসপিএন জানাচ্ছে, বার্সা এর মধ্যে যোগাযোগ করেছিল বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হান্সি ফ্লিকের সঙ্গে। কিন্তু এটা প্রায় নিশ্চিত যে এই মৌসুমের শেষে বায়ার্ন ছাড়তে যাওয়া ফ্লিক আগামী জুন-জুলাইয়ে ইউরোর পর জার্মানি জাতীয় দলের দায়িত্ব পাচ্ছেন।
সে কারণে তিনি বার্সাকে ‘না’ বলে দিয়েছেন। এর আগে লাপোর্তার প্রথম পছন্দ ছিল ইউরোপের ফুটবলে কোচ ও সংগঠক হিসেবে বেশ নাম কুড়ানো রালফ রাঙনিক। তাঁকে ক্রীড়া পরিচালক করে এনে ইউলিয়ান নাগলসমানকে কোচ করার ইচ্ছা ছিল লাপোর্তার। কিন্তু নাগলসমান আগামী মৌসুম থেকে বায়ার্নের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তাই সেখানেও দুইয়ে-দুইয়ে চার মেলেনি।
এখন কাতার থেকেও এসেছে দুঃসংবাদ।