ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য প্রথমার্ধ

দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ভারতছবি: টুইটার

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সাফল্যের দিক দিয়ে ভারতের ধার কাছে কেউ নেই। কিন্তু সেই ভারতের বিপক্ষেই গত ১২ বছর হারেনি বাংলাদেশ। আজও কাতারের আল সাদ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ভারতকে গোল-বঞ্চিত করে রাখল জামাল ভূঁইয়ারা।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষে সেদিন ৮৮ মিনিটে গোল করে ড্র করেছিল ভারত।

বাংলাদেশের চেয়ে ফিফার তালিকা ৭৯ ধাপ এগিয়ে থাকা ভারত কিন্তু শুরু থেকেই চেষ্টা করেছে আক্রমণে ওঠার। কিন্তু ভারতের আক্রমণ বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন কখনো তারিক কাজী, কখনো তপু বর্মণরা।

ভারতকে ছেড়ে কথা বলেনি বাংলাদেশ।
ছবি: টুইটার

বিশেষ করে উদান্ত সিং বারবার আক্রমণে উঠেছেন বাঁ প্রান্ত দিয়ে। সুনীল ছেত্রীও একবার চেষ্টা করেছেন বক্সে ঢোকার। কিন্তু হতাশই হয়েছেন সুনীল।

ম্যাচের দুই মিনিটের মাথায় ব্রেন্ডন ফার্নান্দেজকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন।

৪ মিনিটের মাথায় মতিন মিয়া একবার বক্সে ঢুকেছিলেন। কিন্তু বল বাড়ানোর মতো কোনো সতীর্থকেই পাননি বসুন্ধরা কিংসের এই ফরোয়ার্ড।

যদিও ম্যাচের ৯ মিনিটে একটা সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। রহমতের থ্রো-ইন থেকে বক্সের মধ্যে দাঁড়ানো রাকিব বলে পা লাগাতেই পারেনি।

বাংলাদেশ কোচ জেমি ডের কৌশলই ছিল রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠা। কিন্তু রক্ষণ সামলাতেই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হলো বাংলাদেশের ফুটবলারদের।

ম্যাচের ৩১ মিনিট পর্যন্ত বেশ দাপটের সঙ্গেই খেলেছে ভারত। ওই সময় পর্যন্ত ৭৫ ভাগ বল পজিশনে ভারত। মাত্র ২৫ ভাগ দখলে ছিল বাংলাদেশের ফুটবলারদের পায়ে।

বাংলাদেশও উঠেছে আক্রমণে।
ছবি: টু্ইটার

৩৫ মিনিটে নিশ্চিত গোল পেতে পারত ভারত। কিন্তু কী দুর্দান্তভাবেই না গোললাইন সেভ করলেন রিয়াদুল হাসান! কর্নার থেকে উড়ে আসা চিঙ্গলেন সানা সিংয়ের বলটা রিয়াদুল ঊরু দিয়ে ঠেকিয়েছেন।

এর আগে ১৫ মিনিটে মানভির সিং ভয়ংকরভাবে বক্সে ঢুকেছিলেন। ওই সময় জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান।

মাঝমাঠে মাসুক মিয়া জনির ওপর ভরসা রাখতে পারছিলেন না জেমি ডে। সেই কারণেই কিনা ৩৪ মিনিটে মাসুক মিয়াকে তুলে নিয়ে ইব্রাহিমকে নামান কোচ।

প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিট বেশ কয়েকবার আক্রমণে ওঠে ভারতীয় ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে খুব বেশি সফল হতে পারেনি কেউ। ম্যাচে যতই সময় গড়িয়েছে যেন চাপে পড়তে দেখা গেছে ভারতীয় কোচ ইগোর স্তিমাচকে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা বড় পরীক্ষাই বাংলাদেশের জন্য। ভারত নিশ্চিত করেই মরিয়া হয়ে চেপে ধরবে বাংলাদেশকে।