ম্যাচে তিন আত্মঘাতী গোল, লিভারপুল তারকার ইতিহাস

নিউজিল্যান্ডের মেইকেলা মুরছবি : টুইটার

হ্যাটট্রিক? তা কে না চায়!


যেকোনো ফুটবলারের কাছে পরম আরাধ্য বিষয়—হ্যাটট্রিক। ম্যাচে তিন গোল করা আরকি। এই হ্যাটট্রিকেরও আবার রকমফের আছে। সাধারণ হ্যাটট্রিক এক জিনিস, ‘পারফেক্ট’ হ্যাটট্রিক আবার ভিন্ন জিনিস। না, পারফেক্ট হ্যাটট্রিক করতে পারলে দলের বাড়তি কোনো লাভ হয় না। কিন্তু ওই যে এক ধরনের মনের শান্তি, একটা অনন্য রেকর্ডের অধিকারী হওয়া যায় আরকি।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, এই পারফেক্ট হ্যাটট্রিক কী জিনিস? একজন ফুটবলার যদি ডান পা, বাঁ পা ও মাথা-তিন অঙ্গের প্রতিটা দিয়ে একটা করে গোল করেন; তাহলে পারফেক্ট হ্যাটট্রিক হয়ে যায় তাঁর। সের্হিও আগুয়েরো থেকে থিয়েরি অঁরি, পিটার ক্রাউচ থেকে দিদিয়ের দ্রগবা; অনেকেই দেখিয়েছেন এই কৃতিত্ব। যথারীতি এই তালিকাতেও সবার ওপরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গোটা ক্যারিয়ারে সাতবার পারফেক্ট হ্যাটট্রিক করেছেন এই পর্তুগিজ তারকা। মেসির অবশ্য এখনো পারফেক্ট হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়া হয়নি।

মেসি ক্যারিয়ারে এখনো যে জিনিসের স্বাদ পাননি, সে স্বাদটাই পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের মেইকেলা মুর। কিন্তু তাতে খুশিতে উদ্বেলিত হবেন কি, মুখ লুকানোরই জায়গা পাচ্ছেন না কিউইদের নারী ফুটবল দলের এই ডিফেন্ডার। তাঁর ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’–এর প্রতিটা গোলই যে আত্মঘাতী!

অবিশ্বাস্য হলেও এটিই সত্যি। শিবিলিভস কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের নারী দলের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। সেখানেই এই ভুলে যাওয়ার মতো কীর্তি গড়েছেন মুর। তিন-তিন বার নিজেদের জালেই বল জড়িয়েছেন, প্রথমবার ডান পায়ে, পরেরবার মাথা দিয়ে, শেষবার বাঁ পায়ের সাহায্যে। আর তাতেই যুক্তরাষ্ট্র জিতেছে ৫-০ গোলে। বাকি দুই গোল করেছেন অ্যাশলি হ্যাচ ও ম্যালোরি পিউহ। অবশ্য মুর যা করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের গোল না করলেও তিন পয়েন্ট পাওয়া হয়ে যেত।


২৫ বছর বয়সী মুর জাতীয় দলের হয়ে ৪৮ ম্যাচ খেলেছেন, ক্লাব ক্যারিয়ারে খেলেন লিভারপুলের নারী দলের হয়ে। ২০২০ সালে জার্মান ক্লাব ডুইসবার্গ থেকে লিভারপুলে যোগ দেওয়া এই সেন্টারব্যাক অল রেডদের হয়ে লিগ ম্যাচ খেলেছেন ১৫টি, গোল করেছেন ২টি। এবার এক দিনেই গোল পেলেন তিনটি, কিন্তু সেগুলো নিজের দলের বিপক্ষেই!

তবে এই কষ্টের ভাগীদার হিসেবে অন্তত একজনকে পাচ্ছেন মুর। ১৯৯৫ সালে মুরের মতোই যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বেলজিয়ান ডিফেন্ডার স্ট্যান ফন ডেন বাইজের। সেবার জার্মিনাল একেরেনের হয়ে আন্ডারলেখটের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন বাইজ। ৩-২ গোলে হেরেছিল একেরেন, জেতা ম্যাচে আন্ডারলেখটের খেলোয়াড়দের একটা গোলও করতে হয়নি। বলা ভালো, ফন ডেন বাইজই গোল করতে দেননি। প্রতিটা গোল করেছিলেন তিনি নিজে, আত্মঘাতী!


ম্যাচের পর ফন ডেন বাইজের কাছ থেকে মুর কোনো বার্তা বা ফোনকল পেয়েছেন কি না, কে জানে!