রোনালদো কেন গোল পাচ্ছেন না?

ইতালিয়ান লিগে এখনো গোল পাননি রোনালদো। ছবি: এএফপি
ইতালিয়ান লিগে এখনো গোল পাননি রোনালদো। ছবি: এএফপি
জুভেন্টাসের হয়ে অভিষেক ম্যাচে রোনালদো ছিলেন নিষ্প্রভ। দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচ সেরা হয়েছেন কিন্তু গোলের দেখা পাননি


চমক কাটানোর পর্ব শেষ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে জুভেন্টাসের জার্সিতে দেখার বিষয়টি চোখ ধীরে ধীরে সয়ে নিয়েছে। ভক্ত সমর্থকেরা যেমন রিয়ালের জার্সিতে রোনালদোকে না দেখার বিষয়টিতে মানিয়ে নিচ্ছেন, রোনালদোও যেন ঠিক তেমনি একটু সময় নিচ্ছেন নতুন জার্সিতে নিজেকে ফিরে পেতে। প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রভ রোনালদো গতকাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। সতীর্থ মানজুকিচের গোলে সহায়তায় তাঁর নামই গেছে। কিন্তু যে কারণে ৩৩ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য ১০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে জুভেন্টাস, তারই দেখা নেই। টানা দুই ম্যাচে গোল পাননি রোনালদো।

রোনালদোর আবির্ভাবের পর দলের মূল স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনকে ছেড়ে দিয়েছে জুভেন্টাস। গোল করার কাজটা তো পর্তুগিজ মহাতারকাই গোল করবেন! সেভাবেই রোনালদো সামনে রেখে প্রথম ম্যাচে দলের খেলা সাজিয়েছিলেন কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি। দলকে সাজিয়েছিলেন ৪-২-৩-১ ফরমেশনে। কিয়েভোর বিপক্ষে মাঝমাঠে ছিলেন পিয়ানিচ ও খেদিরা। তাদের সামনে ডগলাস কস্তা (বামে), দিবালা (মাঝে) ও কুয়াদ্রাদো(ডানে)। সবার সামনে একদম নম্বর নাইন হিসেবে খেলেছেন রোনালদো। আর দু প্রান্তে দুই ফুলব্যাক জোয়াও ক্যানসেলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর দায়িত্ব ছিল ডি বক্সে রোনালদোর কাছে বল পাঠানোর।

রোনালদো আক্রমণের কেন্দ্রে থাকায় বাঁ প্রান্ত দিয়ে সান্দ্রো ও কস্তা আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ইতালিয়ান ডিফেন্সের সৌন্দর্য তাদের দুই ডিফেন্ডার লুকা রোসেত্তিনি ও মাতিয়া বানি প্রথম থেকেই মার্ক করে রেখেছিল রোনালদোকে। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল রোনালদোর কাছে আসা বল আটকানো। কারণ রোনালদোকে বল দেওয়ার লোকের অভাব হয়তো নেই, কিন্তু সে বল তো তাঁর কাছে পৌছাতে হবে!

জিদান-আনচেলত্তির অধীনে রোনালদোর ভয়ংকর এক নম্বর নাইন হয়ে ওঠার পেছনে মূল প্রভাব রেখেছিল অফ দ্য বল মুভমেন্ট। সঙ্গী করি বেনজেমা এতটাই দুর্দান্তভাবে প্রতিপক্ষ রক্ষণে জায়গা বের করে নিতেন যে, বাঁ প্রান্ত দিয়ে আচমকা বক্সে ঢুকে পড়ে বাকি কাজটা সেরে ফেলতেন রোনালদো। কিন্তু কিয়েভোর বিপক্ষে প্রথমার্ধে রোনালদোর সে সুযোগ ছিল না। মাঠের প্রিয় বাঁ প্রান্তে যাওয়ার সুযোগই পাচ্ছিলেন না। নম্বর নাইন হয়ে খেলায় তাঁর কাছে বল আসবে, সে অপেক্ষাতেই থাকতে হয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সঙ্গে ছিলেন বেনজেমার মতো অকৃত্রিম বন্ধুও। দুর্দান্ত সম্ভাবনা নিয়ে রিয়ালে এলেও, নিখুঁত ফরোয়ার্ডদের তালিকায় বেনজেমা আছেন অনেকটাই পিছিয়ে। সেটা রোনালদোর কারণেই। বেনজেমা বেনজেমা ডি-বক্সে ঢুকে পরলে তাঁকে নজরে রাখতে এক বা একাধিক ডিফেন্ডার চলে যেতেন। ফলে রোনালদোর ওপর মার্কিং কমে যেত।

মানজুকিচকে দিয়ে গোল করিয়ে কাল ম্যাচ সেরা হয়েছেন রোনালদো। ছবি: এএফপি
মানজুকিচকে দিয়ে গোল করিয়ে কাল ম্যাচ সেরা হয়েছেন রোনালদো। ছবি: এএফপি

সেদিন দ্বিতীয়ার্ধে মানজুকিচ নামার পরই ব্যাপারটা ভালো বোঝা গেছে। ক্রোয়াট ফরোয়ার্ডের আবির্ভাবে মাঠের বাঁ দিকে যাওয়ার সুযোগ মিলেছে রোনালদো। মানজুকিচ মাঠে নামার পর শ্যাডো স্ট্রাইকার রোল নিয়ে নেন। অফ দ্য বল মুভমেন্ট বাড়ে, জুভেন্টাসের খেলায় রোনালদোর অংশ নেওয়াও বাড়ে। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগও সৃষ্টি করেছিলেন রোনালদো।

দ্বিতীয় ম্যাচে তাই কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি কোনো সুযোগ নিতে চাননি। গত মৌসুমের সেরা গোলদাতা পাওলো দিবালাকে বসিয়ে রেখে মানজুকিচকেই নামানো হয়েছিল। কুয়াদ্রাদো ও কস্তাকেও বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আগের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে দল জেতানোর পুরস্কার হিসেবে ফেডেরিকো বার্নাদেসচিকেও নামানো হয়েছিল। এমন পরিবর্তনে কাল রোনালদোর উপকার হয়েছে। ম্যাচে শুরু থেকেই দলের খেলায় অংশগ্রহণ বেড়েছে রোনালদোর। তবে কালও বক্সেই বেশি সময় থেকেছেন রোনালদো। মানজুকিচ শ্যাডো স্ট্রাইকার হিসেবে জায়গা সৃষ্টি করতে চাইলেও বেনজেমার মতো হতে পারেননি।

লা লিগা ও ইতালিয়ান লিগের মধ্যে তফাতটাও কিছুটা ঝামেলায় ফেলছে। স্প্যানিশ লিগে অফ দ্য বল মুভমেন্ট দিয়ে রক্ষণে জায়গা পেয়ে যেতেন রোনালদো। কিন্তু সিরি ‘আ’তে এখনো ডিফেন্ডাররা রোনালদোকে ছেড়ে কথা বলছেন না। প্রাক মৌসুমে একটু দেরিতে ক্লাবের সঙ্গে যোগ দেওয়াতে মানজুকিচ কিংবা দিবালার সঙ্গে রসায়নটাও ঠিক জমে ওঠেনি এখনো। অ্যালেগ্রিকে এখন সে রসায়নটাই বের করে আনতে হবে নয়তো খুঁজে নিতে হবে নতুন কোনো বেনজেমা!