রোনালদো নাক ভেঙেছে, তবু কী খুশি!

ভাঙা নাকের ছবি টুইটারে দিয়েছেন সোরেন্তিনো
ভাঙা নাকের ছবি টুইটারে দিয়েছেন সোরেন্তিনো

হয়তো যখন বুড়ো হবেন, নাতি-নাতকুড়দের সঙ্গে গল্প করবেন জমিয়ে: আমি যখন গোলকিপার ছিলাম, তখন একবার আমার নাক ভেঙে গিয়েছিল। এই যে ছবিটা দেখছিস, নাকে প্লাস্টার। আর নাকটা কে ভেঙেছিল জানিস? এখন তোরা যার গল্প পড়িস শুধু। সর্বকালের সেরা বলা হয় যাকে। সেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দেখ, এই সেই ছবি, যেভাবে আমার নাকটা ভাঙল। আর আমি পড়ে কাতরানো শুরু করলাম!

চোটটা পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কারণেই। নাক ভেঙে গেছে, গুরুতর ব্যথা পেয়েছেন কাঁধে। তারপরও রোনালদোর ওপর কোনো রাগ নেই কিয়েভোর গোলরক্ষক স্তেফানো সোরেন্তিনোর।

ঘটনাটা গত শনিবারের। কিয়েভোর মাঠে ম্যাচটা তখন ২-২ সমতায়। ৮৭ মিনিটে বল ধরতে গিয়ে রোনালদোর হাঁটুর সঙ্গে আঘাত লাগে সোরেন্তিনোর। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞানও হারান। ওই দিকে ফিরতি বলে দারুণ এক হেডে গোল করেন মারিও মানজুকিচ। পাওলো দিবালা-জর্জো কিয়েলিনিরা উদ্‌যাপনও শুরু করেন গোলের। যদিও ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পরে ফাউলের কারণে সে গোল বাতিল করা হয়।

ওই সময়টা মাঠে পড়ে ছিলেন সোরেন্তিনো। চিকিৎসা চলছিল তাঁর। পরে মাঠ থেকেই সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। কিয়েভো ক্লাব এক বিবৃতি দিয়ে পরে জানায়, খুব গুরুতর কিছু না হলেও নাকের হাড় ভেঙে গেছে সোরেন্তিনোর, বাঁ কাঁধ ও ঘাড়েও চোট পেয়েছেন। ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত কিয়েভো হেরেছে। যোগ হওয়া সময়ে জুভেন্টাস উইঙ্গার ফেদেরিকো বের্নার্দেস্কির শট ঠেকাতে পারেননি সোরেন্তিনোর বদলি নামা আন্দ্রেয়া সেকুলিন।

রোনালদোর সঙ্গে এই সংঘর্ষেই নাক ভেঙেছেন সরেন্তিরো। ছবি: এএফপি
রোনালদোর সঙ্গে এই সংঘর্ষেই নাক ভেঙেছেন সরেন্তিরো। ছবি: এএফপি

ম্যাচ হেরেছেন, তবে রোনালদোকে যে গোলহীন রাখতে পেরেছেন, এতেই আনন্দিত সোরেন্তিনো, ‘ও (রোনালদো) একজন চ্যাম্পিয়ন, যে যেকোনো সময় ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। ম্যাচের আগে আমি নিজেকে বলেছিলাম, যেভাবেই হোক, ওকে থামাতেই হবে।’
নিজের ভাঙা নাকের ছবি দিয়ে টুইটারে সোরেন্তিনো লিখেছেন, ‘শুভকামনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের দলটা দুর্দান্ত। গতকাল (শনিবার) গ্রেটনেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে আমাদের, যেখানে সিআর সেভেন আমাকে একেবারে ঠিকঠাক লক্ষ্য বানিয়েছে।’

তাঁকে রোনালদোর ফাউল করা নিয়েও মজা করেছেন সোরেন্তিনো, ‘সাধারণত সে অন্যদের কাছ থেকে ফাউল আদায় করে। আমি এখন বলতে পারব, আমি সেই অল্প কয়েকজনের অন্যতম, যারা ওর কাছ থেকে ফাউল আদায় করেছি।’
ম্যাচের পরই রোনালদো যে তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন, সেটাও জানিয়ে ধন্যবাদ দিয়েছেন জুভেন্টাস তারকাকে, ‘আমি রোনালদোর কাছ থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার শুভকামনা পেয়েছি। ধন্যবাদ কিংবদন্তি।’

সোরেন্তিনোর কোনো রাগ না থাকলেও তাঁর সঙ্গিনী সারা রুগেরি এতটা উদার হতে পারছেন না। এমন ফাউলের জন্য রোনালদোর সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘দুঃখিত, আমি এমন চ্যাম্পিয়নের তারিফ করতে পারছি না।’ স্বামীর ভাঙা নাক কোন স্ত্রীর সহ্য হয়? তা সে নাক ভাঙার কারণ যত বিখ্যাত ব্যক্তিই হন না কেন!