শেখ জামালের সঙ্গে কোনোমতে হার এড়াল আবাহনী

কোনোমতে হার এড়িয়েছে আবাহনী লিমিটেডছবি: তানভীর আহাম্মেদ

আবাহনী কখনো দ্বিতীয় হতে দল গড়ে না—অতীতে সব সময় কথাটা জোর দিয়ে বলতেন ক্লাবটির কর্মকর্তারা। কিন্তু দিন পাল্টেছে। আকাশি–নীলেরা চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে সব হারিয়ে অন্তত দুইয়ে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে আজ শেখ জামালের কাছ থেকে ৩ পয়েন্ট না পাওয়ায়।

তবে পেনাল্টি নষ্ট করেও শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচ থেকে আবাহনী যে এক পয়েন্ট ঘরে তুলেছে, সেটিও ঢের। ২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা প্রথমার্ধেই। অন্তিম সময়ে গোল করে হার এড়িয়েছে মারিও লেমোসের দল (২-২)। দুই দলের প্রথম পর্বের ম্যাচটিও ছিল ২-২।

গত ১৮ জুলাই ঈদের আগে নিজেদের সর্বশেষ লিগ ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল আবাহনী। তারপর আজই প্রথম মাঠে নেমে টানা দ্বিতীয় হার চোখ রাঙাচ্ছিল ধানমন্ডির ফুটবল-ঐতিহ্যদের। কিন্তু শেষ মূহূর্তে হাইতির ফরোয়ার্ড কারভেন্স বেলফোর্টের গোল স্বস্তি ফেলায় দলে। অন্যদিকে জয় দেখতে দেখতে ড্র কিছুটা হতাশার কারণ শেখ জামালের জন্য।

এই ড্রয়ে দুই দলই রইল রানার্সআপ হওয়ার অলিখিত লড়াইয়ে। তবে ১৮ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে শেখ জামাল অনেকটা এগিয়ে। ১৮ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে তারা। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩৭ পয়েন্ট আবাহনীর। আকাশি–নীলদের চেয়ে কার্যত ৫ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা শেখ জামালেরই রানার্সআপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ১৯ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট পাওয়া বসুন্ধরা কিংসের শিরোপা জয় সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছে।

রানার্সআপ হওয়ার লড়াইয়ে ভালোভাবে থাকতে আজ আবাহনীর সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। এমন দিনে প্রথম কয়েক মিনিট ভালো খেললেও আবাহনী ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আন্তে আস্তে। এই সুযোগে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরে শেখ জামাল। দুই গাম্বিয়ান পা ওমর জোবে ও সোলেমান কিংয়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এসেছে দুটি গোল। তাতে বড় অবদান ছিল আবাহনীর দুর্বল রক্ষণ আর গোলকিপিংয়ের।

দুর্বল রক্ষণ আর কিপিংয়ের খেসারত দিয়েছে আবাহনী
ছবি: প্রথম আলো

৩১ মিনিটে প্রথম গোল পেয়েছে শেখ জামাল। পাল্টা আক্রমণে গাম্বিয়ান প্লেমেকার সোলেমান কিংয়ের বাড়ানো লম্বা বল বক্সের ভেভর পেয়ে যান ওমর জোবে। কোনাকুনি শটে আবাহনী গোলকিপার শহীদুলকে পরাস্ত করতে ভুল হয়নি জোবের। লিগে যাঁর নামের পাশে এখন ১৬ গোল। বসুন্ধরার আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল বেসেরারও গোল ১৬টি। ১৮ গোল নিয়ে সবার ওপরে বসুন্ধরার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন রবিনিও।

ওমর জোবের গোলের পর শেখ জামাল আরও উজ্জ্বীবিত হয়ে খেলছিল। দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে গেছে বিরতির ঠিক আগে। গাম্বিয়ান প্লেমেকার সোলেমান কিংয়ের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ শটটি আবাহনী গোলকিপার শহীদুলের হাতে লাগালেও জালে, ২-০। প্রেসবক্সে বসে খেলা দেখতে থাকা সাবেক ফুটবলার ও শেখ জামালের কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন চুন্নু বলেন, ‌‘বিউটিফুল গোল।’ তবে যতই ‘বিউটিফুল’ হোক, শহীদুলের দুর্বল কিপিং চোখ এড়ায়নি কারও।

বৃষ্টিভেজা মাঠের সুবিধা আদায় করে নিয়েছে আবাহনী
ছবি: প্রথম আলো

দ্বিতীয়ার্ধে দুটি বদল আনে আবাহনী। নবীন হৃদয়ের জায়গায় মাঝমাঠে মামুনুল ও রাইট উইংয়ে রুবেল মিয়ার জায়গায় জুয়েল রানা আসেন। তাঁরা আসার পর আবাহনীর মাঝমাঠ একটু প্রাণ পেয়েছে। মাঝমাঠে এদিন শুরু থেকেই ছিলেন চোটমুক্ত অধিনায়ক সোহেল রানা। কিন্তু প্রথমার্ধে সেভাবে আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি আবাহনীর মিডফিল্ডাররা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা জুয়েলের পাস থেকে ২-১ করেন সানডে সিজোবা। বক্সের ভেতর শরীরটাকে ঘুরিয়ে বল বের করে নেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। এরপর মাপা শটে বল পাঠান জালে। আবাহনী শিবির নড়েচড়ে বসে।

৭৭ মিনিটে বেলফোর্টকে বক্সে ফেলে দেন শেখ জামালের গোলকিপার সামিউল ইসলাম। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি সানডে। তাঁর স্পট কিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন সামিউল। হার দেখতে দেখতে ৮৮ মিনিটে সানডের বাড়ানো বল হেডে জালে পাঠিয়ে আবাহনীকে পরাজয় থেকে রক্ষা করেন বেলফোর্ট। নইলে হয়তো এবারের লিগে তৃতীয় পরাজয়টি লেখা হয়ে যেত আবাহনীর পাশে।