শেষ মিনিটের নাটকীয় গোলে লিভারপুলের আরও কাছে ইউনাইটেড

গোলের পর রাশফোর্ডের উদ্‌যাপনে সঙ্গী পগবা।ছবি: রয়টার্স

ম্যাচটা দেখার জন্য তেমন ভালো কিছু হয়নি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকেরাই হয়তো দলের এমন পারফরম্যান্স দেখে বছর শেষ করতে হওয়ায় একটু নাখোশ হয়েছেন। তবে তা যে হতাশায় রূপ নেয়নি, সেটিই ভাগ্য ইউনাইটেডের। ভাগ্যের পরশেই কাল নিজেদের মাঠে লিগে উলভারহ্যাম্পটনকে হারিয়েছে উলে গুনার সুলশারের দল। তাতে পারফরম্যান্সের দিক থেকে না হলেও ফলের দিক থেকে বছরটা দারুণভাবেই শেষ করেছে ইউনাইটেড!

ম্যাড়মেড়ে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে উলভসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ইউনাইটেড। লিগে টানা নয় ম্যাচে অপরাজিত থেকে বছরটা শেষ করল তারা। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এই জয়ে লিগশীর্ষে থাকা লিভারপুলের আরও কাছে চলে এসেছে রেড ডেভিলরা।

১৫ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার ২ নম্বরে উঠে আসা ইউনাইটেডের পয়েন্ট ৩০, সমান ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট লিভারপুলের। আজ বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় নিউক্যাসলের মাঠে নামবে লিভারপুল। আর আগামী ১৭ জানুয়ারি অ্যানফিল্ডে হবে মহারণ—মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুল ও ম্যান ইউনাইটেড!

ফার্নান্দেসের শট ফিরিয়ে দিচ্ছেন পাত্রিসিও।
ছবি: রয়টার্স

দিনের আগের ম্যাচে আর্সেনালও জিতেছে। দুঃসহ একটা বছরের শেষটাতে দারুণ একটা সপ্তাহ কাটল মিকেল আর্তেতার দলেরও। গত শনিবার চেলসিকে ৩-১ গোলে হারানো আর্সেনাল কাল ব্রাইটনের মাঠে জিতেছে ১-০ গোলে। ৬৬ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন আর্সেনাল স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার লাকাজেত। ১৬ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩ নম্বরে উঠে এসেছে আর্সেনাল। লিভারপুলের বিপক্ষে খেলতে নামা নিউক্যাসল অবশ্য ১৪ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার ১৫ নম্বরে, আজ রাতে নিউক্যাসল লিভারপুলকে হারিয়ে দিলে আর্সেনাল নেমে যাবে ১৪ নম্বরে।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যান ইউনাইটেডকে ঘিরে কাল বাড়তি একটা প্রত্যাশা হয়তো ছিলই! নিজেদের মাঠটাতে আগের ম্যাচেই মার্সেলো বিয়েলসার লিডস ইউনাইটেডকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যান ইউনাইটেড। গত নভেম্বরের পর লিগে তাদের পারফরম্যান্সও দারুণ! কিন্তু লিডসের বিপক্ষে ম্যান ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স দেখেই কি না, নিজেদের বক্সের আশপাশে ‘লো ব্লক’ রেখে দলকে খেলিয়েছেন উলভস কোচ নুনো এসপিরিতো সান্তো। পাল্টা–আক্রমণে ভয়ংকর ম্যান ইউনাইটেড তাতে সেভাবে সুযোগই তৈরি করতে পারেনি!

ম্যাচে ইউনাইটেডকে বেশ কয়েকবার ভয় ধরিয়ে দেওয়া উলভস সেন্টারব্যাক রোমান-সাইসের হেড ২২ মিনিটে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৩৪ মিনিটে প্রথমবার উলভস গোলকিপার রুই পাত্রিসিওর পরীক্ষা নেয় ইউনাইটেড, খুব কাছ থেকে ইউনাইটেড মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেসের শট ফিরিয়ে দেন পাত্রিসিও। বিরতির আগে পোস্টের কাছ থেকে সাইসের ফ্লিক দারুণভাবে ফিরিয়ে দিয়ে ইউনাইটেডকে সমতায় রাখেন গোলকিপার দাভিদ দে হেয়া।

৬৮ মিনিটে ইউনাইটেডের হয়ে বল জালে জড়িয়েছেন স্ট্রাইকার এদিনসন কাভানি, কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয় সেটি। এরপর একদিকে ২৫ গজ দূর থেকে পল পগবার শট ফিরিয়ে দেন উলভস গোলকিপার পাত্রিসিও, অন্যদিকে উলভস লেফটব্যাক রায়ান আইত-নুরির নিচু শট ফিরিয়ে দিয়ে ইউনাইটেডকে বাঁচিয়ে দেন দা হেয়া। তখন মনে হচ্ছিল, গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হচ্ছে ইউনাইটেডের বছর। কিন্তু মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের দারুণ এক লম্বা পাস, মার্কাস রাশফোর্ডের রক্ষণ এড়ানো দৌড় আর উলভস ডিফেন্ডারদের ক্ষণিকের জন্য রাশফোর্ডকে চোখে চোখে রাখতে না পারার ফলই এল ৯৩ মিনিটে।

উলভসের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ফার্নান্দেসের ৪০ গজি পাস দৌড়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন রাশফোর্ড। পায়ের দারুণ ঝলকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন ইংলিশ স্ট্রাইকার, সেটি উলভসের আরেক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ঢোকে জালে। ডিফেন্ডারের গায়ে লাগাতেই উলভস গোলকিপার পাত্রিসিওর আর সেটি ঠেকানোর উপায় থাকেনি। তবে যেভাবেই আসুক, গোল তো এসেছে! ইউনাইটেড তাতেই খুশি। খুশি রাশফোর্ডও। গত জুলাইয়ে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৪৫ মিনিট পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে লিগের কোনো ম্যাচে গোল পেলেন তিনি!