হেরেই গেল চেলসি

আর্সেনালের জয়সূচক গোলের পর ইমাইল স্মিথ রোর উচ্ছ্বাস।ছবি: রয়টার্স

দুই দলর জন্য ছিল দুই রকমের লক্ষ্য। চেলসির জন্য আজকের ম্যাচটি ছিল শীর্ষ চারে থেকে লিগ শেষ করার লক্ষ্যে নিজেদের আরেকটু এগিয়ে নেওয়ার লড়াই। যাতে করে তারা আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি জায়গা করে নিতে পারে। আর আর্সেনালের মিশন ছিল ইউরোপা লিগে জায়গা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের আরেকটু ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লড়াই।

গুরুত্বপূর্ণ এ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে আর্সেনালের। চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে আগামী মৌসুমের ইউরোপা লিগে জায়গা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের কিছুটা হলেও পথে রাখতে পেরেছে গানাররা।

এ জয়ের পর ৩৬ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে আছে আর্সেনাল। দুই ম্যাচ কম খেলে তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে এভারটন। সপ্তম স্থানে থাকা টটেনহামের পয়েন্ট ৩৫ ম্যাচে ৫৬। ৩৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে লিভারপুল। আর পঞ্চম স্থানে থাকা ওয়েস্ট হামের পয়েন্ট ৩৫ ম্যাচে ৫৮।

ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা বিনিময়।
ছবি: রয়টার্স

পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান পর্যন্ত স্থানে থাকা দলগুলোর পয়েন্টের ফিরিস্তি দেওয়ার কারণ একটাই; এরাই ইউরোপা লিগে সরাসরি বা প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই করবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে থাকা দল সরাসরি ইউরোপা লিগের গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেবে। আর সপ্তম স্থানে থেকে লিগ শেষ করা দল খেলবে প্লে-অফে।

চেলসির লক্ষ্য অবশ্য শীর্ষ চারে থেকে লিগ শেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে আজকের ম্যাচটি জিতে তারা আরেকটু এগিয়ে যেতে পারত। সেই সুযোগ চেলসি ম্যাচের ৫ মিনিটে পেয়েও যায়। কিন্তু আর্সেনালের গোলকিপার লেনোকে একা পেয়েও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি ম্যাসন মাউন্ট। চেলসির ইংলিশ মিডফিল্ডার সরাসরি বল মারেন লেনোর হাতে।

১১ মিনিটে আবার সুযোগ আসে চেলসির। এবার সহজ সুযোগ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন কাই হাভার্টজ। বক্সের মধ্যে গোলকিপারকে একা পেয়েও তিনি বল পাঠিয়ে দেন গোলবারের ওপর দিয়ে। তবে স্রোতের বিপরীতে আর্সেনালকে ১৬ মিনিটে এগিয়ে দেন ইমাইল স্মিথ রো।

ম্যাচ শেষে হতাশ চেলসি কোচ টমাস টুখেল।
ছবি: রয়টার্স

স্মিথ রো অবশ্য গোলটি পেয়েছেন চেলসির মিডফিল্ডার জর্জিনিওর ভুলের কারণেই। জর্জিনিও কোনো কিছু না দেখেই একটি ব্যাক পাস দিয়েছিলেন গোলকিপার কেপা আরিজাবালাগাকে। কিন্তু আরিজাবালাগা তখন তাঁর জায়গায় ছিলেনই না। দৌড়ে এসে কোনোভাবে বলটি ক্লিয়ার করলেও সেটি গিয়ে পড়ে আর্সেনালের ফরোয়ার্ড পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াংয়ের পায়ে। তাঁর পাস থেকে সহজেই আর্সেনালের জয়সূচক গোলটি করেন স্মিথ রো।

গোল খেয়ে দমে যায়নি চেলসি। কিন্তু কখনো নিজেদের ব্যর্থতা, কখনো আবার ভাগ্য বঞ্চিত করেছে চেলসিকে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের দুর্গে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এই হারের পর ৩৬ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে চেলসি। তৃতীয় স্থানে থাকা লেস্টার সিটির পয়েন্ট ৬৬। ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর ৮০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির নিশ্চিত হয়ে গেছে শিরোপা জয়।