১০০ বছরে এমন কিশোরের দেখা পায়নি ফ্রান্স

ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোল দাতা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা।ছবি: এএফপি

সতেরো-আঠারো বছর বয়সটাই এমন। সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় ‘.স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি...বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।’ তা নয় তো কী! আনসু ফাতিকে দেখুন। গত মাসে স্পেনের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন ১৭ বছর বয়সী উইঙ্গার ফাতি। এ মাসে ফ্রান্সের জার্সিতে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নাম লেখালেন ১৭ বছর বয়সেরই এক উঠতি তারকা—এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। আর গোলটাও ছিল দেখার মতো।

কাল রাতে ফ্রান্স-ইউক্রেন প্রীতি ম্যাচের ফল এতক্ষণে নিশ্চয়ই অজানা নয়। ৭-১ গোলে পূর্ব ইউরোপের দেশটিকে বিধ্বস্ত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আঁতোয়ান গ্রিজমান, তোলিসোরা গোল পেয়েছেন। মিশেল প্লাতিনিকে পেছনে ফেলে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪২) হয়েছেন জোড়া গোল করা অলিভার জিঁরু। দেশের জার্সিতে এটি ছিল তাঁর শততম ম্যাচও। এখন তাঁর সামনে শুধু থিয়েরি অঁরি (৫১)। তবে এসব আলোচনা ছাপিয়ে নজর কেড়েছেন রেঁনে মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গা। রিয়াল মাদ্রিদ কেন তাঁকে কিনতে ধরনা দিচ্ছে তা কাল বুঝিয়ে দিলেন অ্যাঙ্গোলার শরণার্থীশিবিরে জন্ম নেওয়া এ ফুটবলার।

ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশাম মূল একাদশের হয়েই মাঠে নামিয়েছিলেন কামাভিঙ্গাকে। দলের হয়ে গোলের খাতাও খুলেছেন তিনি। ৯ মিনিটে ইউক্রেনের বক্সে জটলার মধ্য থেকে ব্যাক হেড করেন জিঁরু। কামাভিঙ্গা বল পেলেও গোলপোস্ট ছিল তাঁর পেছনে। উপস্থিত বুদ্ধির ব্যবহারে ‘ওভারহেড কিক’-এ বল জালে জড়ান তিনি। ১৭ বছর ১১ মাস বয়সে জাতীয় দলের হয়ে গোলের দেখা পেলেন কামাভিঙ্গা। মরিস গাস্তিয়েরের পর ফ্রান্সের জার্সিতে তিনি এখন দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। ১৯১৪ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭ বছর ৫ মাস বয়সে গোল করেছিলেন গাস্তিয়ের। সে হিসেবে গত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ফ্রান্সের জার্সিতে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন কামাভিঙ্গা।

মিশেল প্লতিনিকে গোলে টপকালেন। সামনে জিঁরুর কেবল থিয়েরি অঁরি।
ছবি: এএফপি

কামাভিঙ্গা গোল করার পর প্রথমার্ধে ব্যবধান ৪-০ করে ফেলেন জিঁরুরা। একটি আত্মঘাতী গোলও ছিল। ইউক্রেনের হয়ে গোল করেন ভিক্টর সাইগনাকভ। এসি মিলান কিংবদন্তি আন্দ্র্রে শেভচেঙ্কো এখন ইউক্রেনের কোচ হলেও দেশটির জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে হারের হতাশা এড়াতে পারেননি। বিরতির পর ফ্রান্সের হয়ে গোল করেন এমবাপ্পে ও গ্রিজমান।

শততম ম্যাচে প্লাতিনিকে পেছনে ফেলা জিঁরু তাঁর আরেক পূর্বসূরি অঁরি রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কি না তা নিয়ে এখনো ভাবছেন না। ম্যাচ শেষে চেলসি তারকা বলেন, ‘আমার জন্য অনেক বড় সম্মান। (প্লাতিনিকে পেছনে ফেলা) এটা করতে পেরে ভালো লাগছে। তবে (অঁরির রেকর্ড ভাঙা) এখনই এ নিয়ে বলাটা বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। ৪৬ কিংবা ৪৭ গোল করার পর এটা নিয়ে ভাবা যাবে।’