ম্যারাডোনার স্মারক নিলাম
১৩ কোটির আশা, বিক্রি হলো ২২ লাখ টাকার
ম্যারাডোনার স্মৃতিধন্য বিভিন্ন স্মারক বিক্রি করে ১৫ লাখ ডলার (১২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা) সংগ্রহের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার ডলারের (২২ লাখ ৩২ হাজার টাকা) পণ্য। নিলামে ওঠা ৯৩% পণ্যই নাকি অবিকৃত রয়ে গেছে।
ডিয়েগো ম্যারাডোনার ভক্তদের জন্য বড় এক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল গত রোববার। নিলামে ম্যারাডোনার ব্যবহৃত নানা পণ্য নিলামে তোলা হয়েছিল। ‘টেন অকশন’ নাম দিয়ে একটি নিলামের ওয়েবসাইটে হয়েও গেছে সে নিলাম। আয়োজকদের আশা ছিল, সে নিলামে থেকে বিভিন্ন স্মারক বিক্রি করে ১৫ লাখ ডলার (১২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা) সংগ্রহ করা যাবে। কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার ডলারের (২২ লাখ ৩২ হাজার টাকা) পণ্য!
কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে নিলামের সীমা বর্ধিত করা হয়েছে। আগ্রহীদের নিবন্ধন করার সুযোগও ১০ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গত সোমবার।
নিলামে রাখা অধিকাংশ দামি বস্তুই অবিক্রীত রয়ে গেছে। বুয়েনস এইরেস শহরের খুব কাছেই মা-বাবাকে একটি বাড়ি উপহার দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। ৯ লাখ ডলারের প্রারম্ভিক মূল্যের সে বাড়ি কিনতে আগ্রহী দেখাননি কেউ। সাগরের তীরঘেঁষা একটি অ্যাপার্টমেন্টও অবিক্রীত হয়ে গেছে।
মোট ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার মূল্যের দুটি বিএমডব্লু গাড়ি নিলামে তোলা হয়েছিল। এর মধ্যে বিএমডব্লু ৭৫০ মডেলের গাড়িটি নিয়ে একবার মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন ছিয়াশি বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৩৮ হাজার ডলার মূল্যের একটি হুন্দাই ভ্যানও কেনার ইচ্ছা দেখাননি কেউ।
নিলামে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে কিংবদন্তির একটি পেইন্টিং। জলপাই শাখা হাতে নিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙের একটি টোগা (রোমান সভ্যতার সময়ের পোশাক) পরা ম্যারাডোনার সে পেইন্টিং ২ হাজার ১৫০ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে ম্যারাডোনার একটি ছবি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ ডলারে। এই ছবির প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৪০০ ডলার। এ ছাড়া মেরিলিন মনরোর ছবি, এক বক্স কিউবান সিগার বিক্রীত হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৬ হাজার ডলার উঠেছে নিলামে।
বিচারক লুসিয়ানা তেসেস্কোর নির্দেশে এই নিলামের আয়োজন করা হয়েছে।
ম্যারাডোনার জীবদ্দশায় জমে যাওয়া দেনা পরিশোধের জন্য তহবিল সংগ্রহই ছিল এই নিলামের উদ্দেশ্য। তাঁর পাঁচ সন্তান আইনজীবীদের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
গত বছর ২৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেছেন ম্যারাডোনা। তার এক বছর পর নিলামের এমন ফল একটু অপ্রত্যাশিতই। নিলামের স্বত্বাধিকারী আদ্রিয়ান মেরকাদো আশা করেছিলেন, রোববার ম্যারাডোনা-ভক্তরা সবাই স্মারক সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়বেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ডিয়েগোর বড় ভক্তরা; আমার মতে যারা এই নিলামে অংশ নেবে, তারা স্মরণিকা হিসেবে কিছু না কিছু বাসায় নিতে পারবে। আমার ধারণা, অন্তত ১০, ১৫ বা ২০ হাজার মানুষ এই ইভেন্ট দেখবে, কে জানে আরও বেশি হয়তো। আমি আশা করছি, ব্যতিক্রমী কিছু হবে, ডিয়েগো আজীবন আমাদের যেমনটা দেখিয়েছেন।’
কিন্তু তেমনটা না হওয়ার পরও হাল ছাড়ছেন না। তাঁর দাবি, সময়মতো নিবন্ধন করতে পারেননি অনেকেই। তাই ১০ দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন মেরকাদো, ‘নিলাম এমনই হয়। শেষ হওয়ার আগে কেউ বলতে পারবে না, কী হতে পারে। আমরা অনেক বেশি করেছিলাম, কিন্তু বাস্তবতা সব সময়ই অজানা।’