৪২ হাজার তারায় তাঁরা রটিয়ে দিলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন’

লিগ ট্রফি গলিয়ে সমর্থকদের জন্য উপহার বানিয়েছে আয়াক্স।ছবি: টুইটার

সমর্থকদের জন্য লিগ শিরোপার ট্রফিই গলিয়ে ফেলল আয়াক্স আমস্টারডাম! যে ট্রফিটি রুমের শোভা বাড়াতে পারত, সেটি গলিয়ে ফেলে কী করল ডাচ চ্যাম্পিয়নরা?

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এমনটা করা। এ মৌসুমে আয়াক্সের সমর্থক হিসেবে মৌসুমি টিকিটধারী ৪২ হাজার সমর্থককে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গলিয়ে ছোট ছোট রুপালি ‘তারা’ বানিয়ে উপহার দেবে তারা।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বদলে দিয়েছে গোটা পৃথিবীর খেলাধুলার দিগন্ত। মৌসুমি টিকিটধারীরা এক বছরের বেশি সময় ধরে মাঠে এসে প্রিয় দলের খেলা দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত। আয়াক্সের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গলিয়ে মৌসুমি টিকিটধারীদের উপহার দেওয়ার মূল কারণ সেটিই।

গাঁটের পয়সা ক্লাবকে দিয়ে মৌসুমি টিকিট সংগ্রহ করে একটা খেলাও দেখতে পারেননি সমর্থকেরা, এমন অবস্থায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সমর্থকদের কিছু ফিরিয়ে দিতেই এমন উদ্যোগ।

প্রিয় দলের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ভেঙে বা গলিয়ে তৈরি কোনো উপহার যদি সমর্থকেরা হাতে পান, সেটি হবে তাঁদের জন্য দারুণ আনন্দ ও গর্বের বিষয়।

আয়াক্সের উদ্দেশ্য সমর্থকেরা যেন আরও বেশি করে নিজেদের ক্লাবের প্রতি সম্পৃক্ততা অনুভব করেন। এ যেন তারায় তারায় রটিয়ে দেওয়া! ৪২ হাজার রুপালি তারা বলবে, আয়াক্স চ্যাম্পিয়ন!

ট্রফি গলিয়ে তৈরি এই ৪২ হাজার রুপালি তারার প্রতিটি হবে ৩.৪৫ গ্রাম (১/৮ আউন্স)। এই তারাগুলো প্রতিটি মৌসুমি টিকিটধারী সমর্থকের নিজস্ব ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই ট্রফি গলানোর ব্যাপারটি বেশ ঘটা করেই করছে তারা।

পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি ভিডিও চিত্র, যেখানে রুপালি থালাসদৃশ ট্রফিটি আগুনে গলিয়ে ফেলার দৃশ্যও আছে।

এ ব্যাপারে সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলকিপার ও হালে ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী এডউইন ফন ডার সার বলেন, ‘করোনার এই খারাপ সময়ে আমরা চাই সমর্থকেরা যেন আরও বেশি করে নিজেদের আয়াক্সের অংশ মনে করে।’

আয়াক্স ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগের ট্যাগলাইন বানিয়েছে এমন, ‘এক টুকরো বিজয়’, ‘এক টুকরো ইতিহাস’, ‘এক টুকরো আয়াক্স’।

এ মৌসুমে লিগের পাশাপাশি ডাচ কাপ জিতে ‘দ্বিমুকুট’ও লাভ করেছে ‘টোটাল ফুটবলে’র ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি। ‘এরদিভিসি’ নামে পরিচিত ডাচ লিগের শিরোপা জয়ের পর আয়াক্স সাধারণত আমস্টারডামে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে প্যারেড আয়োজন করে থাকে। সে অনুষ্ঠানটি এবার তারা করতে পারেনি করোনা মহামারির কারণে।