'ধোঁকা দিয়ে ফুটবল এগিয়ে নেওয়া যাবে না'

>
এখনো সাফের প্রস্তুতি শুরু করেনি বাংলাদেশ। অ্যান্ড্রু ওর্ডের পর নিয়োগ দিতে পারেনি নতুন কোচও। জাতীয় দলের সাবেক তারকা ও কোচ হাসানুজ্জামান বাবলুর মতে, এবার সাফে ভরাডুবি হলে দেশের ফুটবলের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সেপ্টেম্বরে। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতার তারিখ ও গ্রুপিং চূড়ান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ফুটবল প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিলেও ব্যতিক্রম স্বাগতিকেরাই। প্রস্তুতি শুরু করা তো দূরের কথা, এখনো পর্যন্ত কোচই ঠিক করতে পারেনি বাংলাদেশ।
এপ্রিলের শুরুতেই বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন অস্ট্রেলীয় কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড। এক মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর উত্তরসূরি ঠিক করতে পারেনি বাফুফে। কোচ দূরের কথা, দেশীয় কোচদের অধীনে কোনো প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্পও শুরু করতে পারেনি তারা। ১৮ এপ্রিল সাফের গ্রুপিং চূড়ান্ত হওয়ার দিন বাফুফে সহসভাপতি ও জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ জানিয়েছিলেন, সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই জাতীয় দলের কোচ চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোচের বিষয়ে কোনো কিছুই পরিষ্কার নয়।
সাফের চার মাস বাকি থাকলেও খুব শিগগির নতুন কোচ আসছেন না বলেই মনে হচ্ছে। অন্তত বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের কথাতে তো তা–ই মনে হচ্ছে, ‘কোচের বিষয়ে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। ৮-১০ তারিখের মধ্যে বৈঠকে বসে কোচ চূড়ান্ত করা হবে।’
কবে নতুন কোচ আসবেন, কবে শুরু হবে অনুশীলন? এ বিষয়গুলো এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় সাফে বাংলাদেশের আরও একটি ভরাডুবির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনেরও দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা তিন আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠেও একই অবস্থা হয় কি না, এ নিয়ে শঙ্কা সবার।
জাতীয় দলের সাবেক তারকা ও কোচ হাসানুজ্জামান বাবলুর শঙ্কা, এবার সাফে ভরাডুবি হলে দেশের ফুটবলের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। তিনি মনে করেন, ফুটবলের নামে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে ফুটবল ফেডারেশন, ‘আট–দশ বছর ধরেই দেখে আসছি এগুলো। তাই আমার কাছে নতুন কোনো কিছু মনে হয় না। খেলার কয়েক দিন আগে কোচ আসবেন। সে বলবে, “আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়ব।” এভাবে শর্টকাটে ফুটবল উন্নয়ন করা যায় না। দেশবাসীকে ধোঁকা দিয়ে আর ফুটবল এগিয়ে নেওয়া যাবে না।’
অথচ টানা ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বড় পরিকল্পনাই ঘোষণা করেছিল বাফুফে। সে অনুযায়ী জাতীয় দল কাতারে দুই সপ্তাহ কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে। লাওসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার আগে থাইল্যান্ডে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও ছিল। প্রায় ১৭ মাস পরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাঠে নেমে লাওসের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে গিয়ে ২-২ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ম্যাচটা আশার সঞ্চার করেছিল ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। কিন্তু লাওস থেকে ফেরার পর সেই আশা ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে শূন্যে।