হতাশায় খেলাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তহুরা

বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তহুরাবাফুুফে

তহুরা খাতুন খুব নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না। বদলি হিসেবে হিসেবে যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন এত দিন, তাতেই বুঝিয়েছেন নিজের সামর্থ্য। ছোটখাটো গড়নের খেলোয়াড়টি বল পায়ে করতে পারেন অনেক কিছুই। পায়ে পায়ে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে পারেন। গতি দিয়ে পেছনে ফেলতে পারেন প্রতিপক্ষকে। আজ কমলাপুরের শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নিজেকে উজাড় করে দিলেন প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে। জোড়া গোল করেছেন। হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন, যদি না ম্যাচের শুরুতেই সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করতেন।

অথচ এই তহুরাই খেলা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। শারীরিক অসুস্থতায় ভুগেছেন টানা। একধরনের হতাশাই এসে গিয়েছিল সে কারণে। কিন্তু আজ তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেই হতাশা তিনি পেছনে ফেলে এসেছেন। নতুন করে নিজেকে মেলে ধরার সংকল্পে নিজেকে বেঁধেছেন।

আরও পড়ুন

ম্যাচ শেষে তিনি কৃতজ্ঞতা জানালেন বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুর প্রতি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর দীর্ঘদিনের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন দায়িত্ব ছাড়ার পর কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাহবুবুর। তিনিও অনেক দিন ধরেই ফুটবলের মেয়েদের দেখভালের দায়িত্বে আছেন, ‘আমি মাঝখানে খেলা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম বেশ কিছুদিন। স্যার (সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান) আমাকে অনেক বুঝিয়েছেন। বলেছেন, “তুই পারবি, লেগে থাক।” মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর জন্য আমি মানসিকভাবে চাঙা থাকতে পেরেছি।’

নিজের দুটি গোলের মধ্যে নিঃসন্দেহে তহুরা এগিয়ে রাখবেন দ্বিতীয় গোলটিকে। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে পেছন থেকে মাসুরা পারভীনের বাড়ানো থ্রু পাসটি সিঙ্গাপুরের বক্সের ওপরে ধরেই গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে টোকা মেরে জালে পাঠিয়ে দেন। প্রথম গোলটি নিয়ে কিছুটা মজা আছে। ১৬ মিনিটে মারিয়া মান্দা সিঙ্গাপুরের রক্ষণের এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল কেড়ে প্রায় একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে গোলে শট নিতে যাওয়ার মুহূর্তেই তহুরা সেই বলটি ঠেলে দেন জালে। এ নিয়ে মজাও করেছেন বাংলাদেশের ‘নাম্বার টেন’, ‘গোলটা আসলে মারিয়াই করতে পারত। কিন্তু আমি করে দিয়েছি। মারিয়াকে আমি মাঠেই বলেছি এ কথা, “গোলটা তো আসলে তোমার। আমি করে ফেললাম মাঝখান থেকে।”’

সতীর্থের সঙ্গে তহুরার গোল উদ্‌যাপন
বাফুফে

সাফ জয়ের পর এটাই বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়। গত সেপ্টেম্বরে সাফ জয়ের পর খেলেছেই–বা কয়টি ম্যাচ। গত জুলাইয়ে নেপালের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ড্র করেছিল মেয়েরা দীর্ঘ ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেতে নেমে। এরপর মেয়েদের ফুটবলে অনেক ঘটনা। অনেক চড়াই–উতরাই। দলে নিয়মিত কয়েকজন খেলোয়াড় অবসরে গেলেন।

কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। এশিয়ান গেমসের আগে সাইফুল বারী টিটুকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। সেখানে জাপান, ভিয়েতনামের বিপক্ষে যথাক্রমে ৮–০ ও ৬–১ গোলে উড়ে যাওয়ার পর নেপালের সঙ্গে ম্যাচটি জিততে জিততেও ড্র করেছে দল। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয়টা তাই লক্ষ্যই ছিল। সেটি পেয়ে খুশি কোচ। কোচ হিসেবে প্রথম জয়ের দিনটিতে সব কৃতিত্ব দিয়েছেন খেলোয়াড়দেরই, ‘আমি সব কৃতিত্ব দেব মেয়েদের। ওরাই দুর্দান্ত খেলেছে আজ। আমি দুই–একটা জায়গায় কিছু কাজ করেছি। মূল কাজটা করেছে ওরাই। আমি খুশি এই জয়ে।’

আরও পড়ুন

আজ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জেতার পর আবারও বেশি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার আকুতি ঝরেছে দলের পক্ষ থেকে। ম্যাচের সেরা পারফরমার তহুরা আর কোচ সাইফুল বারী দুজনই বেশি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন। তহুরার কথা, ‘আমরা অনেক দিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে খেলি। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে আমরা ভালো করব।’

কোচ সাইফুল বারী মনে করেন, বেশি করে ম্যাচ খেললে দলের ভুলত্রুটিগুলো ভালোভাবেই শুধরে নেওয়া যায়, ‘আমরা ট্রেনিং করি সারা বছরই। কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে অনেক ভুলত্রুটি বেরিয়ে আসে, সেগুলো নিয়ে কাজ করা যায়। আগামী বছরের অক্টোবরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আমাদের সেটির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। তার আগে আমাদের কোনো খেলা নেই। হয়তো ফেডারেশন ফিফা উইন্ডোতে ম্যাচের আয়োজন করবে। আমরা বেশি করে ম্যাচ খেলতে চাই।’