টুখেলের অনুরোধে সাড়া ফিফার, তবে জোড়াতালির সমাধানে খুশি নন ইংলিশ কোচ
বিশ্বকাপের ম্যাচে জাতীয় সংগীতের সময় মাঠে আলোকচিত্রীদের অবস্থান নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ওপর যারপরনাই ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। তাঁর অভিযোগ, আলোকচিত্রীদের ভিড়ের কারণে তিনি নিজের দলের খেলোয়াড়দেরই দেখতে পাননি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও ফিফার মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হতে পারে।
গত বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় ইংল্যান্ড। টুখেলের অধীনে এটিই ছিল বিশ্বকাপে দলটির প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের পর টুখেল ফিফার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি ফিফার কাছে অনুরোধ করছি, জাতীয় সংগীতের সময় যেন আলোকচিত্রীদের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। কারণ, আমি আমার দলকেই দেখতে পারছিলাম না। এই মুহূর্তটির জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। আজ এটি একটি অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত ছিল। কিন্তু আমার ঠিক আধা মিটার সামনে ৫০ জন আলোকচিত্রী দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি একজন খেলোয়াড়কেও দেখতে পাইনি।’
সাধারণত ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে আলোকচিত্রীরা দুই ডাগআউটের মাঝখানে অবস্থান করেন। এর ফলে দুই দলের কোচদেরই নিজ নিজ খেলোয়াড়দের দেখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকে না। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিফার এই নিয়মে তৈরি হয়েছে বিপত্তি।
টুখেলের এই ক্ষোভের পর বৃহস্পতিবারই অবশ্য টনক নড়েছে ফিফার। তারা নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোচদের টাচলাইন বরাবর কিছুটা সরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আলোকচিত্রীদের আরও গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আটলান্টায় চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচের আগে এই নতুন নিয়ম কার্যকরও করা হয়।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, ফিফার এই জোড়াতালির সমাধানে খুব একটা সন্তুষ্ট নন টুখেল। ইংলিশ কোচের যুক্তি, খেলোয়াড়দের ঠিক বিপরীত দিকে টেকনিক্যাল এরিয়াতেই থাকতে চান তিনি ও তাঁর কোচিং স্টাফরা। তাহলে নিজেদের জায়গা ছেড়ে তাঁদের কেন সরতে হবে? ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগেও দেখা গিয়েছিল, নিজের দৃষ্টির সীমানা আটকে যাওয়ায় ইশারায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন টুখেল। যদিও জাতীয় সংগীত শুরু হওয়ার পর তিনি পেছনে হটে তাঁর সহকারীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে যান।
মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত জয় পেলেও এই ‘অদৃশ্য দেয়াল’ টুখেলের মনে যে কিছুটা হলেও অসন্তুষ্টি রেখে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।