মিডফিল্ডার সেবাস মেন্দেজ বক্সে পাস বাড়ান ভ্যালেন্সিয়াকে। তাঁকে ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন কাতারের গোলকিপার সাদ আল–শেব। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে ঠান্ডা মাথায় কাতার বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করেন ফেনেরবাচে ফরোয়ার্ড ভ্যালেন্সিয়া। এই গোলের মধ্য দিয়েই লেখা হয় নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো প্রথম গোলটি দেখা গেল পেনাল্টি থেকে। আর কী কাণ্ড দেখুন, এই গোলসহ বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের শেষ চারটি গোলও ভ্যালেন্সিয়ার!

২০১৪ বিশ্বকাপে তিনটি, আর আজ একটি। ভুল হলো। আজ দুটি! অর্থাৎ বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের শেষ পাঁচটি গোলই ভ্যালেন্সিয়ার। প্রথম গোলের ঠিক ১৫ মিনিট পর দুর্দান্ত আরেকটি হেড থেকে গোল করেন ভ্যালেন্সিয়া। ময়জেস কাইসিদো কাতারের বক্সে বল নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে পারেননি। বল পেয়ে যান ইকুয়েডর রাইটব্যাক অ্যাঞ্জেলো প্রিসাইদো। তাঁর ক্রস বক্সে লাফিয়ে হেডের চেষ্টা করেছিলেন এস্ত্রাদা। ইকুয়েডর ফরোয়ার্ড না পারলেও ভ্যালেন্সিয়া পেয়ে যান। তাঁর হেড আশ্রয় নেয় জালে। গোল! ২–০ গোলে পিছিয়ে কাতার যখন বিরতিতে গেল, তখনো লেখা হলো নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২–০ গোলে পিছিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করল।

কাতার যে গোলের সুযোগ পায়নি তা নয়। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আল হেইদোসের ক্রস বক্সে একদম ঠিক জায়গায় পেয়েছিলেন কাতারের স্ট্রাইকার আল মোয়েজ আলী। তাঁর হেড ডান পাশে ফাঁকা পোস্টের পাশ দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির পরও কাতারের ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল। কিন্তু ইকুয়েডরই সুযোগ পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। ৫৫ মিনিটে কাতারের ডিফেন্ডার আল রায়ি বল দখলে রাখতে পারেননি। মেন্দেজ কেড়ে নিয়ে ইবারাকে থ্রু পাস দেন। তাঁর ডান পায়ের জোরাল শট রুখে দেন কাতার গোলকিপার সাদ আল–শেব।

৭৭ মিনিটে ইকুয়েডর দুশ্চিন্তায় পড়ে ভ্যালেন্সিয়াকে নিয়ে। চোট পেয়ে খোঁড়াচ্ছিলেন। ইকুয়েডর কোচ গুস্তাভো আলফারো তাঁকে তুলে নেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে কোনো আসরে প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধে জোড়া গোলের নজির গড়লেন ভ্যালেন্সিয়া। এই প্রসঙ্গে উঠে আসবে ১৯৩৪ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইতালির প্রথম ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ইতালির ৭–১ গোলের জয়ে প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেছিলেন অ্যাঞ্জেলো স্কিয়াভিও।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকে কি সান্ত্বনা খুঁজে নিতে পারে স্বাগতিক কাতার? ঘরের দর্শকদের সামনে দু–একটা সুযোগ সৃষ্টি আর ইকুয়েডরের খেলোয়াড়দের পেছনে দৌড়ানো? বিশ্বকাপে সেটাই বা কম কী! ইকুয়েডরের জন্য হিসাবটা তেমন নয়। এই গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ও সেনেগালও আছে। এই দুই বড় দলকে টপকে শেষ ষোলোয় উঠতে পারলে সেটাই হবে ইকুয়েডরের জন্য বড় অর্জন।