default-image

মাত্র ৯ বছর বয়সে মধ্য আফ্রিকার দেশ জিবুতি থেকে গৃহভৃত্য হিসেবে ফারাহকে ব্রিটেনে পাচার করে আনেন এক নারী। সেই নারীই তাঁর মূল নাম হুসেইন আবাদি কাহিন থেকে বদলে ‘ফারাহ’ রাখেন। তিনিই তাঁকে পাচার করে নিয়ে আসার জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। মো ফারাহ নামটি ছিল মূলত অন্য এক বালকের।

ফারাহ জানিয়েছেন, একটি বাসায় ভৃত্য হিসেবে কাজ করতেন তিনি। দুঃসহ সেই সময়গুলোতে কাজের বিনিময়ে মুখে কেবল কিছু তুলতে পারতেন তিনি। আদর–ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত শৈশবের সেই সময়গুলোয় তিনি বাথরুমে ঢুকে কাঁদতেন। তাঁর শৈশব বলতে ছিল না কিছু। তাঁকে তাঁর সমবয়সীদের সঙ্গে খেলা কিংবা কথা বলারও সুযোগ দেওয়া হতো না।

খেলাধুলা ছিল তাঁর রক্তে। সেটিই বের করে আনেন কোচ অ্যালান ওয়াটকিনসন। কোচকে নিজের সব ঘটনাই খুলে বলেছিলেন তিনি। ২০০০ সালে ওয়াটকিনসনই তাঁকে চেষ্টা–চরিত্র করে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র করে দেন। ওয়াটকিনসন আর নিজের পরিশ্রম দিয়েই মো ফারাহ কিংবা হুসেইন আবাদি কাহিন নিজেকে সর্বকালের সেরা একজন দৌড়বিদে পরিণত করেছেন পরবর্তী সময়ে।

সারা দুনিয়াকে নিজের সত্যি গল্পটা জানিয়ে দারুণ প্রশংসা পাচ্ছেন ফারাহ। ব্রিটেনের শরণার্থী কাউন্সিল মনে করে ফারাহ এই গল্পের মধ্য দিয়ে দেশান্তরী মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পথের গুরুত্বটা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর গল্পটা সাহসী ও সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে ভালোভাবেই।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন