চোখ ধাঁধানো লেজার শো দিয়ে আজ শেষ হলো বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস।
চোখ ধাঁধানো লেজার শো দিয়ে আজ শেষ হলো বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস।ছবি: প্রথম আলো

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাথলেটদের পদচারণে মুখরিত ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের। কিন্তু দেশে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে আজ সন্ধ্যায় গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানটা হলো একেবারেই অনাড়ম্বর। ছিল না কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গেট সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। যদিও গ্যালারিতে কোনো দর্শক ছিলেন না। সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর বেজেছে জাতীয় সংগীত। জাতীয় সংগীতের পরপরই ভার্চ্যুয়ালি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিওএর প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বক্তব্য পর্বের পর শুরু হয় বিশেষ অনুষ্ঠান, যেখানে গত দশ দিনের গেমসের খণ্ড খণ্ড চিত্রের আনন্দ-বেদনার কাব্য তুলে ধরা হয় মাঠের দুই পাশে বসানো দৈত্য-পর্দায়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ইভেন্টে সোনা জয়ের আনন্দ, উচ্ছ্বাস। খুব কাছে গিয়েও পদক জিততে না পারার আক্ষেপে কেঁদেছেন কেউ কেউ। ১ হাজার ২৭১টি পদকের জন্য এবার লড়েছেন ৫ হাজার ৩০০ অ্যাথলেট।  

বিজ্ঞাপন
default-image

এরপর হয়েছে কয়েক মিনিটের চোখ ধাঁধানো লেজার শো, যেখানে দেখানো হয়েছে শৈশবের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দেখানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবার সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ লেজার শোয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে প্রতিটি খেলার গেমসের লোগো। ফুটে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর মুখের প্রতিচ্ছবি, নবম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের লোগো। লেজার শো শেষে বিউগলের করুণ সুরে নিভে যায় গেমসের মশাল। এরপর শুরু হয় স্টেডিয়ামের অন্ধকার আকাশে আতশবাজির রঙিন খেলা। তারপরই আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে নবম বাংলাদেশ গেমসের।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে স্টেডিয়ামে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন গেমসের কো-চেয়ারম্যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান।

করোনার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত গেমসটা ভালোভাবে শেষ করতে পেরে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজার কণ্ঠে ছিল স্বস্তি, ‘ডাউনের মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গেমস চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, এ জন্য ধন্যবাদ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

default-image

এবারের গেমসে ছিল রেকর্ডের ছড়াছড়ি। ভারোত্তলনে হয়েছে ৩৪টি নতুন জাতীয় রেকর্ড। এ ছাড়া সাইক্লিংয়ে ১৩টি, সাঁতারে ১১টি, আর্চারিতে ও অ্যাথলেটিকসে হয়েছে ১টি করে নতুন জাতীয় রেকর্ড। জাতীয় পর্যায়ে রেকর্ড গড়া এই অ্যাথলেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলেন সৈয়দ শাহেদ রেজা, ‘নতুন নতুন খেলোয়াড় অন্বেষণের যে প্রচেষ্টা আমাদের ছিল, সেই চেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি। এই গেমস আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আমরা অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের সন্ধান পেয়েছি এবং এবারের নবম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের বেশ কিছু নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।’

ভবিষ্যত নিয়ে আশা দেখছেন শাহেদ রেজা, ‘এই খেলোয়াড়েরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। যেসব নতুন মুখের সন্ধান আমরা পেয়েছি, সরকারের সহযোগিতায় ও বিওএর তত্ত্বাবধানে তাদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ ব্যাপারে ফেডারেশনগুলো আমাদের সঙ্গে কাজ করবে বলে আমি আশা করি।’

এবারের বাংলাদেশ গেমস হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা স্থগিত করা হয়। নতুন সূচিতে ১লা এপ্রিল যখন বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন হয়, তখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশ টালমাটাল। অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই গেমসের ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বারবার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে গেমস আয়োজনের তাগাদা দেন আয়োজকদের।

বাংলাদেশ আনসারের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ গেমস। ৩১টি খেলায় ৩৭৮টি সোনার পদকের মধ্যে বিওএর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুসারে ১৩২টি সোনা জিতেছে বাংলাদেশ আনসার। পাশাপাশি ৮০টি রুপা ও ৫৭টি ব্রোঞ্জ জিতেছে আনসার। সব মিলিয়ে তাদের পদক ২৬৯টি। এবার ৭ জেলার ২৯টি ভেন্যুতে খেলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন