অলিম্পিকের আয়োজক দেশ জাপান চীনের টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে
অলিম্পিকের আয়োজক দেশ জাপান চীনের টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেছবি: টুইটার

টোকিও অলিম্পিক শুরু হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি সব ভন্ডুল করে দেয়। গ্রীষ্মকালীন এই অলিম্পিক পিছিয়ে এ বছর নেওয়া হয়।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২৩ জুলাই থেকে জাপানের রাজধানীতে বসতে পারে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ।’ তবে এর মধ্যেই একটা ঝামেলা হয়ে গেল। সেটি আয়োজন নিয়ে নয়, টিকা নিয়ে। করোনার টিকা নিয়ে এই অলিম্পিকে অংশ নিতে হবে অ্যাথলেটদের।

অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের এই টিকা সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানেরই প্রতিবেশী দেশ চীন। আর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) চীনের এই প্রস্তাবে সায়ও দিয়েছে। কিন্তু আয়োজক দেশ জাপান চীনের এই টিকা নিতে রাজি নয়।
জাপান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ‘চীনের এই টিকা চাই না।’

চীনা টিকাকে তারা অনুমোদন করে না। মানে, করোনার প্রতিষেধক হিসেবে চীনের বানানো টিকা ব্যবহারের যোগ্য বলে মনে করছে না জাপান।

বিজ্ঞাপন

দেশটির অলিম্পিকমন্ত্রী তামাইয়ো মারুকাওয়া কাল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, চীনের এই টিকা নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি আইওসি। জাপানের অ্যাথলেটরা এই টিকা নেবেন না।

চীনের টিকা ব্যবহারের যোগ্য বলে মনে করে না জাপান।শুধু গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক নয়, ২০২২ বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকেও অ্যাথলেটদের করোনার টিকা সরবরাহ করবে চীন।

বৃহস্পতিবার আইওসি এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করে। অনলাইন সেশনে আইওসি সভাপতি টমাস বাখের এই ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছিলেন টোকিও অলিম্পিকের প্রধান নির্বাহী তোসিরো মুতো।

চীনের টিকা সরবরাহের প্রস্তাবে মুতো তখন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে শুক্রবার তামাইয়ো মারুকাওয়া সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি না চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ দেশে (জাপানে) টিকা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে কি না। আমরা সংক্রমণরোধের জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেসব নিচ্ছি। এমনকি টিকা না নিয়েও টোকিও অলিম্পিকে সবাই যেন নিরাপদ থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রায় ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমের ওপর দমন–পীড়ন চালানোয় চীন এমনিতেই এখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে। এর মধ্যে আইওসির চাইনিজ টিকা নেওয়ার ঘোষণা অনেককেই বিস্মিত করেছে।

চীনের এই দমননীতি অনেক দেশের চোখেই ‘গণহত্যা। ’ আইওসি অবশ্য চীনের টিকার অনুমোদন দেওয়ার ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, চীনের ঘরোয়া বিষয়ে তারা নাক গলাবে না। সংস্থাটি শুরুতে জানিয়েছিল, টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে যাওয়া সব অ্যাথলেটের জন্য টিকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে টিকা নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু চীনের টিকা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর সেটা যে বাধ্যতামূলক হতে পারে, এমনটা মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীনের এই টিকা বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে না। তবে কত টাকা লাগবে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন