বিজ্ঞাপন
default-image

আন্তর্জাতিক আর্চারিতে বাংলাদেশের বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছেন রোমান। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জিতেছেন কোনো পদক। নেদারল্যান্ডসে দুই বছর আগে জেতা ওই ব্রোঞ্জই তাঁকে সরাসরি টোকিও অলিম্পিকের টিকিট দিয়েছে। রোমানের ঝুলিতে আছে এশিয়া কাপ, দক্ষিণ এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ ও দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের সোনা। রুপা জিতেছেন আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে।

দিয়া তুলনায় নবীন। চার বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একটামাত্র সোনা জিতেছেন নীলফামারীর তরুণী। টঙ্গীতে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের অভিষেকেই জেতেন রিকার্ভের মেয়েদের এককে সোনা।

default-image

নবীন এই সঙ্গীকে নিয়ে অবশ্য ২০১৯ সালে ব্যাংককে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টে খেলেন রোমান। কিন্তু সেবার কোনো পদকই জেতেনি বাংলাদেশ। এরপর ইতি খাতুনকে সঙ্গী করে পোখারায় দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে সোনা জেতেন রোমান। বিশ্বকাপের দলে এবার সুযোগই পাননি ইতি। ট্রায়ালে সেরা স্কোর করে দিয়া আসেন চূড়ান্ত দলে।

ঢাকা ছাড়ার আগে মাত্র দেড় মাস অনুশীলন করেছে রোমান-দিয়া জুটি। তাতেই বাজিমাত। তাই দুজনকে নিয়েই মুগ্ধ বাংলাদেশ আর্চারি দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ। সুইজারল্যান্ড থেকে গতকাল মুঠোফোনে তিনি বলছিলেন, ‘যেভাবে খেলে ওরা মিশ্র ইভেন্টের ফাইনালে উঠেছে, আমি খুবই খুশি। বড় বড় সব দেশকে হারিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে এখন ওরা। ফাইনালেও জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

default-image

নেদারল্যান্ডসকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না বাংলাদেশ কোচ। দুই বছর আগে নিজেদের মাটিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এই ইভেন্টে রুপা জেতে নেদারল্যান্ডস। ওই দলে খেলা সেফ ফন ডেন বার্গ আজ ফাইনালে লড়বেন। নেদারল্যান্ডসকে সমীহ করলেও বাংলাদেশ কোচ আস্থা রেখেছেন রোমানের ওপর, ‘ওরা বিশ্বমানের দল। তবে রোমানের ভালো সময় যাচ্ছে। স্কোরের টাইমিংটা ভালো হচ্ছে। ওর অভিজ্ঞতাও অনেক। এখন দিনটা শুধু নিজেদের করে নিতে হবে।’

রোমানদের লড়তে হবে লুজানের আবহাওয়ার সঙ্গেও। ঢাকায় ৩০-৩২ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রায় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সুইজারল্যান্ডে এখন গড় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি। এর সঙ্গে বৃষ্টি, বাতাস ও প্রচণ্ড ঠান্ডা। ইউরোপিয়ানরা এমন পরিবেশে খেলে অভ্যস্ত হলেও রোমানদের জন্য তা বাড়তি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এসব পেছনে ফেলে রোমানের সব মনোযোগ সোনার পদকে, ‘প্রথমবারের মতো আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি। সোনা জিততে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। চ্যাম্পিয়ন হয়েই দেশে ফিরতে চাই।’

বাংলাদেশ আর্চারি দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সিটি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি ‘তির গো ফর গোল্ড’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের তিরন্দাজদের সব রকমের সহায়তা দিয়ে আসছে। রোমানের কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা সিটি গ্রুপের প্রতিও, ‘সিটি গ্রুপ পৃষ্ঠপোষকতা না করলে এত দূর আসা সম্ভব হতো না আমাদের। গো ফর গোল্ড কার্যক্রমটাকে পুরোপুরি সফল করতেই সোনা জিততে হবে আমাদের।’ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে রোমাঞ্চিত দিয়া রোমানের সুরেই যেন সুর বাঁধলেন, ‘প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি। বিশ্বকাপটা স্মরণীয় করতে চাই সোনা জিতে।’

দুজনের দিকেই আজ তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশের গোটা ক্রীড়াঙ্গন।

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন