২০১৭ সালে অবসর নেওয়া জ্যামাইকান তারকা ক্রীড়া সাংবাদিক আয়াজ মেননের সঙ্গে আলাপচারিতায় করোনা মহামারি নিয়ে কথা বলেছেন। গত বছর মহামারি বেড়ে যাওয়ার সময় আর সবার মতো বোল্টও ঘরেই সময় কাটিয়েছেন।

তবে ঘরে সময়টা একঘেয়ে লাগেনি বোল্টের, ‘ভালোই লেগেছে। কারণ, মেয়েটার সঙ্গে অনেক সময় কাটাতে পেরেছি। সে মহামারির তিন মাসের মাথায় জন্মেছে, এদিকে আমাকেও তো পিতার দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে অনেকের জন্যই সময়টা খুব কঠিন ছিল। বুঝতে পেরেছিলাম, এটা (মহামারি) দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই কীভাবে এ সময় পার করব, সেটাই ভেবেছি।’

default-image

স্প্রিন্টে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ডধারী এ কিংবদন্তি তরুণ অ্যাথলেটদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকো।’

বোল্টের ব্যাখ্যা, ‘অনেকে কিসের মধ্য দিয়ে গেছে, সেটা আমি দেখেছি। আমারও কঠিন সময় কেটেছে, সেটি তরুণ বয়সে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেভাবে সাড়া ফেলেনি। এখন তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতে (চাপ) বড় ভূমিকা রাখে। আমি কোনো মন্তব্য দেখি না। বেড়ে ওঠার সময় এটা (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) সেভাবে সাড়া ফেলেনি বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’

অ্যাথলেটিকসের ট্র্যাক ছাড়ার পর এই ইভেন্ট সেভাবে দেখেন না বলে জানালেন বোল্ট। তবে মহামারি পুরোপুরি কেটে যাওয়ার পর স্টেডিয়ামে গিয়ে তিনি স্প্রিন্ট ইভেন্ট দেখতে চান। জীবনের বেশির ভাগ সময় স্টেডিয়ামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই কাটিয়েছেন, অন্যদের খেলা আর দেখতে পারেননি।

অথচ অল্প বয়সে তাঁর স্প্রিন্টার হওয়ার স্বপ্ন ছিল না। ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলার হতে চেয়েছিলেন, ‘ক্রিকেটের বড় ভক্ত ছিলাম। কারণ, বাবা খেলাটা পছন্দ করতেন। ফুটবলও ভালোবাসতাম। কারণ, জ্যামাইকা ভালো করছিল।’ ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা নিয়েও কথা বলেন ৩৫ বছর বয়সী এ অ্যাথলেট, ‘আমি ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ভালো ছিলাম। অলরাউন্ডার হলেও বোলিংটা শক্তির জায়গা। একদিন বল করার জন্য দৌড় শুরু করলে ক্রিকেট কোচ বললেন, তোমার শুধু দৌড়ানো উচিত।’

default-image

৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করার বিশ্ব রেকর্ড গড়া বোল্ট বর্ণবাদ নিয়েও কথা বলেন। তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার জানালেন নিজের অভিজ্ঞতা, ‘অবশ্যই এর মুখোমুখি হয়েছি। তবে আমি পাত্তা দিইনি। তবে এটা নিয়ে কথা বলা উচিত। খেলাধুলার মঞ্চটা অনেক বড় জায়গা। আমাদের সবারই কথা বলা উচিত।’

ট্র্যাক ছাড়ার পর ফুটবলে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বোল্ট। এ জন্য ইউরোপের বেশ কিছু ক্লাবে ধরনাও দিয়েছেন তিনি। এদিকে আইপিএলও এগিয়ে আসছে। এখন তাহলে ক্রিকেটে মন দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে মজা করলেন বোল্ট, ‘অবশ্যই। অনুশীলন শুরু করে দ্রুত ফিট হয়ে ওঠার চেষ্টা করব।’

ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ক্রিকেট কোচের হাত ধরে প্রথম নেমেছেন বোল্ট। সে স্মৃতি উগরে দিলেন তিনি, ‘ট্র্যাক ও ফিল্ডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন আমার ক্রিকেট কোচ। কারণ, জ্যামাইকায় ক্রিকেট ও ফুটবলই প্রধান খেলা। আমি নিজে ক্রিকেটের বড় ভক্ত ছিলাম। ক্রিকেট কোচ আমাকে দৌড়ানোর কথা বলার পর চেষ্টা চালিয়ে যাই। তবে ক্রিকেট ছাড়তে সময় লেগেছে। অল্প বয়সে খেলাটা খুব পছন্দের ছিল।’

খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে নিজের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর নামও জানিয়েছেন বোল্ট, ‘জাস্টিন গ্যাটলিন ছিল সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। সে মানসিকভাবে খুব শক্ত ছিল। সে সব সময় নিজেকে চ্যাম্পিয়ন স্প্রিন্টার হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে। সে-ই আমার সবচেয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ, তবে এটা (প্রতিদ্বন্দ্বিতা) খুব মজার ছিল।’

default-image

অ্যাথলেটিকসে ডোপ-পাপ থেকে দূরে থাকার পরামর্শও তরুণদের দিলেন বোল্ট, ‘ডোপিং থামাতে আমরা করণীয় সবকিছুই করছি। কিন্তু আমার মনে হয়, নিয়ম আরও কঠোর হওয়া উচিত। আমি সম্মানের জীবন যাপনের চেষ্টা করেছি। বিশ্বকে এভাবে নিজের সামর্থ্য দেখানোটা কেমন হবে, সেটা আমি বুঝেছি এভাবে, লোকে যেন বলে উসাইন বোল্ট ড্রাগ ছাড়াই এসব করেছে। এটা কঠোর পরিশ্রম ও নিবেদনের ব্যাপার। লোকে সংক্ষিপ্ত পথ বেছে নিতে চায়। কিন্তু আমি নিজের কাছ থেকে সব সময় সেরাটাই আদায় করে নিয়েছি।’

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন