মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসের সেমিফাইনালে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফাইনালে ওঠেন আমুসান। ১২.১২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে এই পথে তিনি ভেঙেছেন ২০১৬ সালে যুক্তরাস্ট্রের কেন্দ্রা হ্যারিসনের গড়া ১২.২০ সেকেন্ডে এই ইভেন্টে দৌড় শেষ করার রেকর্ড।

আগের দিন হিটেও আফ্রিকান রেকর্ড (১২.৪০ সেকেন্ড) গড়েন আমুসান। কিন্তু চমকের তখনও বাকি ছিল। ফাইনালে কাউকে পাত্তা না দিয়ে সোনার পদকও জিতে নেন আমুসান। সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে কোনো বৈশ্বিক ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর ফাইনালে দেশটির প্রথম অ্যাথলেট হিসেবেও সোনার পদক জিতে নেন এ দৌড়বিদ।

ফাইনালে দৌড় শেষ করতে আরও কম সময় নেন আমুসান। ১২.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। এটাও বিশ্বরেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতো, কিন্তু বাতাসের আনুকুল্য বেশি থাকায় আর হয়নি। দৌড় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট পর জানানো হয় ফাইনালে প্রতি সেকেন্ডে ২.৫ মিটার বাতাসের আনুকুল্য পেয়েছেন আমুসান।

প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ২ মিটার বাতাসের আনুকুল্য পেতে পারেন একজন অ্যাথলেট। আমুসানের এতে কোনো হাত না থাকলেও সীমানা পেরিয়ে যাওয়ায় সেটি আর বিশ্বরেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

default-image

ধারাভাষ্যকার টিম হাচিংস অবশ্য উত্তেজনা দমিয়ে রাখতে পারেননি। দৌড় শেষ হওয়ার পর বলছিলেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না। এক রাতেই দুটি বিশ্বরেকর্ড! নাইজেরিয়ার প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাসও গড়ল। নিজের অমরত্ব নিশ্চিত করতে এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর হয় না। এখানে যারা ছিলেন, তারা আজকের রাতটা কখনো ভুলতে পারবেন না।’

হার্ডলসে সেমিফাইনালের মতো ইভেন্টে বেশির ভাগ অ্যাথলেটই নিজের সেরাটা দৌড়ের শেষ দিকে ঢেলে দেন। আমুসান ব্যতিক্রম।

দৌড়ের শুরু থেকেই নিজের সেরাটা দিয়ে সবাইকে ছাপিয়ে যান। ফাইনাল জয়ের পর বলেছেন, ‘সোনার পদক জেতাই ছিল লক্ষ্য। নিজের সামর্থ্যে আস্থা থাকলেও বিশ্ব রেকর্ড গড়ার কথা ভাবিনি। জয়টাই ছিল মূল লক্ষ্য, বিশ্ব রেকর্ডটা বোনাস।’

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন