দেখে থাকলে দৌড় শেষ করার আগে ডান দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে টেবোগোর আগেই জয় উদ্‌যাপনের ভঙির সঙ্গে এক কিংবদন্তির মিলও নিশ্চয়ই খুঁজে পেয়েছেন।

সেই কিংবদন্তি আবার ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের ইনস্টাগ্রাম পেজে টেবোগোকে নিয়ে করা পোস্টে মন্তব্যও করেছেন। কিছু লেখেননি, ভক্তরা তাঁকে যে নামে ডেকে থাকেন, সেটাই ‘ইমোটিকন’ দিয়ে বুঝিয়েছেন। বজ্রের ইমো দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন লেটসিলে টেবোগোকে। ওহ্‌, কিংবদন্তির নামটাই বলা হয়নি। যদিও এতক্ষণে আপনার তা বুঝে ফেলার কথা। উসাইন বোল্ট!

default-image

বতসোয়ানার এই তরুণ স্প্রিন্টার কাল ইতিহাসই গড়েছেন। গত মাসে বড়দের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৯.৯৪ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে জুনিয়রদের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন লেটসিলে টেবোগো। কাল অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারের ফাইনালে সে রেকর্ডই লিখেছেন নতুন করে। ৯.৯১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড।

তবে টেবোগো দৌড় যেভাবে শেষ করেছেন, তা দেখে যে কেউ বলবেন, চাইলে আরও ভালো টাইমিং করতে পারতেন। কিন্তু ‘আদর্শ’ যদি হয় উসাইন বোল্ট, তাহলে সবার আগে দৌড় শেষ করার সময় কিছুটা অহম ফুটিয়ে তোলা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

শুরুটা দুর্দান্ত করে সবার চেয়ে বেশ এগিয়ে গিয়েছিলেন লেটসিলে টেবোগো। জয় নিশ্চিত বুঝতে পেরেই সম্ভবত শেষ ২০ মিটারে গতি কমান। ততক্ষণে বোল্টের দেশের দৌড়বিদ জ্যামাইকান বউওয়াগি এনক্রুমি বেশ খানিকটা এগিয়ে টেবোগোর বেশ কাছে চলে এসেছিলেন। টেবোগো নিজের গতি ধরে রেখেই আঙুল নাড়তে নাড়তে সবার আগে দৌড় শেষ করে যেন বুঝিয়ে দিলেন, যত জোরেই দৌড়াও, লাভ নেই!

এমন উদ্‌যাপন বোল্টের সৌজন্যে আগেই দেখেছে অ্যাথলেটিকস-বিশ্ব। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের ১০০ মিটারে ঠিক এভাবেই দৌড় শেষ করেছিলেন অলিম্পিকে ৮টি সোনাজয়ী সাবেক এই স্প্রিন্টার। মুখে হাসি ফুটিয়ে বোল্টের আঙুল নাড়তে নাড়তে দৌড় শেষ করার সেই দৃশ্যই কাল পুনরাবৃত্তি করেন টেবোগো।

দৌড় শেষে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের ওয়েবসাইটের সঙ্গে কথা বলেছেন টেবোগো। বোল্টের মতো উদ্‌যাপন করে দৌড় শেষ করায় কেউ যদি মনে করেন জ্যামাইকান কিংবদন্তিকে অসম্মান করা হয়েছে, তাহলে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন এই তরুণ, ‘কেউ আঘাত পেলে আমি সত্যিই দুঃখিত। ঘরে বসে যাঁরা ইভেন্টটি দেখেছেন, তাঁদের স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, নিজের সময়ে বোল্ট কী করেছেন। তিনি আমার আদর্শ।’

টেবোগো দৌড় শেষ করার পর তাঁকে বোল্টের উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এমন আলোচনা এই প্রথম নয়। বোল্ট অবসর নেওয়ার পর সম্ভাবনাময় কোনো দৌড়বিদ দেখলেই তাঁকে জ্যামাইকানের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

ছোটদের এই অ্যাথলেটিকস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে চোখ রাখার কথা আগেই টুইট করে জানিয়েছিলেন বোল্ট। টেবোগোর ইভেন্ট শেষে তাঁকে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের টুইট রিটুইট করেন জ্যামাইকান কিংবদন্তি।

টেবোগো জানিয়েছেন, ৯.৮০ সেকেন্ডের আশপাশে দৌড় শেষ করতে পারতেন, যদি শেষ ২০ মিটারে গতি না কমাতেন। তবে বোল্টের মতোই আত্মবিশ্বাস ঝরল তাঁর কণ্ঠে, ‘সামনে আরও অনেক ইভেন্ট আছে। আর জুনিয়র হিসেবে এ বছরটা আমার। এমন কিছু করে গেলাম, পরের প্রজন্ম যেন তা ভাঙতে পারে।’

২০২১ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে সোনা জেতেন টেবোগো। ১০০ মিটার দৌড়ের কোনো বৈশ্বিক ইভেন্টে সেটাই বতসোয়ানার প্রথম সোনা জয়। ‘স্কুলবয়’ নামে পরিচিত এই অ্যাথলেটের জন্ম ২০০৩ সালে।

শুরুটা হয়েছিল ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে। মাত্র ছয় বছর বয়সেই ফুটবলার ও স্প্রিন্টার হিসেবে খ্যাতি কুড়ান। ফুটবলে একের পর এক চোট পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই খেলা ছেড়ে দৌড়ের ট্র্যাকে নেমে পড়েন টেবোগো। অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে ‘টেন সেকেন্ডস ব্যারিয়ার’-এ দৌড় শেষ করা ইতিহাসের দ্বিতীয় দৌড়বিদও এই অ্যাথলেট।

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন