টার্ফের মধ্যেই আজ বিকেলে হয়ে গেল ছয় অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলন। যেখানে সব অধিনায়কই অভিন্ন সুরে শিরোপার দাবি জানিয়ে রাখলেন। কাগজে-কলমে ছয় দলই উনিশ-বিশ। বড় কোনো পার্থক্য নেই। ঘরোয়া লিগে যেমন আবাহনী, মোহামেডান বা মেরিনার্সের সঙ্গে অন্য দলগুলোর বিরাট পার্থক্য থাকে এবং বড় দলগুলোর বেশির ভাগ ম্যাচই হয় একতরফা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তা নয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা লিগই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক্‌মি চট্টগ্রামের অধিনায়ক রেজাউল করিম যেমন বলেন, ‘এখানে কে বড় কে ছোট, সেটা বলা যাবে না। সবাই সমান। সবারই শিরোপা জেতার ক্ষমতা আছে।’ আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় উদ্বোধনী ম্যাচে সাইফ পাওয়ার খুলনার প্রতিপক্ষ এক্‌মি। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের হকি কতটা লাভবান হবে, এমন প্রশ্নে সাইফের অধিনায়ক খোরশেদুর রহমানের কথা, ‘অবশ্যই অনেক লাভবান হবে।’

ক্রিকেটের সাকিব আল হাসানের দল মোনার্ক মার্টের অধিনায়ক ইমরান হাসান পিন্টু। তাঁরও আশা, এই লিগের মাধ্যমে দেশের হকি এগোবে সামনে, ‘প্রতিটি দলের জুনিয়ররা আশা করি ভালো কিছু শিখতে পারবে। এই লিগের মাধ্যমে অবশ্যই ভালো খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আমি মনে করি।’ সাকিবের দলে খেলছেন। অতিরিক্ত কোনো চাপ কাজ করছে কি না, জানতে চাইলে ইমরানের কথা, ‘সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। ও বিশ্বকাপ খেলছে। যতটুকু সময় ওর হয়, ও দু-একটা মেসেজ করছে আমাদের। সবাইকে শুভকামনা জানিয়েছে ভালো করার জন্য।’

ওয়ালটন ঢাকার আইকন ও অধিনায়ক ডিফেন্ডার আশরাফুল ইসলামের কথা, ‘যেহেতু এখানে ভালো ভালো বিদেশি আসছে, তাদের সঙ্গে আমরা খেলব, এটা ভালো ব্যাপার। আমি আমার দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, বাকিটা মাঠে দেখা যাবে।’

লিগ খেলার সময় একরকম লড়াকু মনোভাব থাকে খেলোয়াড়দের মধ্যে। এখন বিভিন্ন করপোরেট হাউসের নামে সেই মরিয়া মানসিকতা কতটা থাকবে? আশরাফুল বলছেন, ‘অবশ্যই, শুধু আমি একা নই। ছয় দলই এটা অনুভব করে। এখানে যে ছয়জন অধিনায়ক আছে, তাদের সঙ্গে এখানে আসার আগে কথা হয়েছে। তারাও এটা অনুভব করছে। এখানে সব কটিই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। লিগে যেমন আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ খেলি, উষা-মেরিনার্স থাকে, এখানে সব কটি ম্যাচই সমান হবে। সব প্রতিপক্ষই শক্তিশালী।’

রূপায়ন সিটি কুমিল্লার অধিনায়ক সোহানুর রহমান ও মেট্রো এক্সপ্রেস বরিশালের অধিনায়ক রোমান সরকারও প্রায় অভিন্ন সুরে একই কথা বলেছেন।

ফ্র্যাঞ্চাইজি হকি লিগে ভিন্ন কোচিং স্টাফ, সবকিছুই ভিন্ন। ক্লাবের সঙ্গে এখানে পার্থক্য হলো, ক্লাবে থাকে দেশি কোচ, এখানে বিদেশি। বিদেশি কোচদের কাছে নতুন টেকনিক নতুন ট্যাকটিকস শিখতে পারছেন বলে জানালেন আশরাফুল।

লিগে প্রতি দলে খেলোয়াড়সংখ্যা ১৮, যার মধ্যে স্থানীয় ১৩, বিদেশি ৪ জন। প্রতি দল চাইলে নিজেদের পছন্দে অন্য একজন বিদেশি নিতে পেরেছে। ছয় দল ডাবল লিগ পদ্ধতিতে খেলবে। তারপর শীর্ষ চার দল নিয়ে কোয়ালিফায়ার্স। নিয়মটা আইপিএল, বিপিলের মতো। ফাইনাল আগামী ১৭ নভেম্বর।