দিল্লিতে যাচ্ছেন শুধু একজন শুটার—কেন এমন সিদ্ধান্ত
দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এবারের সফরটি নানা কারণেই নজিরবিহীন। সাধারণত বড় প্রতিযোগিতায় বড় দল পাঠালেও এবার ভারতের এই আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের এককে অংশ নেবেন গত অলিম্পিকে খেলা শুটার রবিউল ইসলাম। তাঁর সঙ্গী হবেন কোচ শারমিন আক্তার। আগামী ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতার জন্য পরশু সরকারি আদেশ (জিও) পেয়েছে শুটিং দল। অস্ত্র ও গুলি বহনের জন্য গতকাল পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও।
কিন্তু কেন মাত্র একজন শুটার? উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও শুটারসংকটের চিত্র। গতকাল গুলশান শুটিং কমপ্লেক্সে সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস নিজ কক্ষে বসে প্রথম আলোকে জানান, অলিম্পিক বৃত্তিপ্রাপ্ত তিনজনকে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তিন খেলোয়াড়ের একজন কামরুন নাহার কলি বর্তমানে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত, অন্যজন সায়রা আরেফিন ব্যক্তিগত কারণে ক্যাম্পে যোগ দেননি।
আলেয়া ফেরদৌস বলেন, ‘তিনজন পাঠালেও একজন ছেলে আর দুজন মেয়ে বলে ব্যক্তিগত ইভেন্টে খেলতে পারলেও দলীয় ইভেন্টে অংশ নিতে পারতেন না। কারণ, দলীয় বিভাগে তিনজন লাগে।’
টুর্নামেন্টে আরও বড় দল পাঠানো যেত কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দল যাবে কি না, সেই নিশ্চয়তাই ছিল না। তা ছাড়া শুটার মানসম্মত না হলে তো শুধু পাঠিয়ে লাভ নেই। যে পরিস্থিতিতে আমরা কাজ করছি, তা অন্য কোনো ফেডারেশনে করতে হয় না। একটার পর একটা সমস্যা এখানে লেগেই আছে।’
অলিম্পিক গেমসে ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে একজন শুটার যান। কিন্তু অন্য প্রতিযোগিতায় মাত্র একজন শুটার পাঠানো নজিরবিহীন, এতে শুটারসংকট স্পষ্ট। অবস্থা যা, তাতে মনে হচ্ছে, শুটিং পথ হারিয়ে ফেলেছে। এর কারণ হিসেবে সাধারণ সম্পাদক কোনো কোনো শুটারের শৃঙ্খলার অভাবকে দায়ী করেন, ‘যাদের ভেবেছি ভালো শুটার, তাদের ডিসিপ্লিন নেই। ডরমিটরিতে থাকতে চায় না। যারা থাকে, তাদেরও অনেকে যখন–তখন ফেডারেশন থেকে বেরিয়ে যায়, ফেরে রাত করে। এ ধরনের অবস্থা আমি শুটিং ফেডারেশনে ২২ বছর কাজ করার জীবনে দেখিনি।’
যৌন হয়রানির অভিযোগসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনায় শুটিংয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলেও তিনি আক্ষেপ করেন। ফেডারেশনের অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বহিষ্কার হয়েছেন কলি। যদিও যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হায়দার। বরং তিনি উল্টো অভিযোগ এনেছেন কলির বিরুদ্ধে।
নিরাপত্তাশঙ্কায় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে পাঠায়নি সরকার, তখন শুটিং দলকে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়াটা তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নৌবাহিনীতে কর্মরত রবিউলের বিশেষ পাসপোর্ট থাকায় তাঁর আলাদা করে ভিসা নেওয়ার দরকার নেই। কোচ শারমিন আক্তার ভিসার আবেদন করেছেন।
তাঁর ভিসাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বাংলাদেশ দলের দিল্লিতে যাওয়ার কথা ২ ফেব্রুয়ারি। রবিউলের ইভেন্ট ৫ ফেব্রুয়ারি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি প্যারিস অলিম্পিকের পর এটাই শুটিংয়ের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর।