default-image

অলিম্পিকেও ফেবারিটের তালিকায় ছিলেন কার্লি। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে সোনা জিতেছিলেন ইয়াকবস। অলিম্পিকে নিজের সেরাটা তুলে এনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই স্প্রিন্টার। কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের সেরার ধারেকাছেও ছিল না ইয়াকবস। হিটে জ্যামাইকার ওবলিক সেভিলের পেছনে থেকে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন। ১০.০৪ সেকেন্ডের এই দৌড়ই তাঁর মৌসুমসেরা! তাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়াকবস নয়, কার্লিই ছিলেন ফেবারিট।

ফেবারিটের মতোই শেষ করেছেন কার্লি। প্রথম ৯৫ মিটার ব্র্যাসির পেছনে থাকলেও শেষ মুহূর্তে টপকে দৌড় শেষ করেছেন ৯.৮৬ সেকেন্ডে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্র্যাসি ও ব্রমেলের সময় খালি চোখে সমান—৯.৮৮ সেকেন্ড। ফাইনালের আটজনের মধ্যে আরও একজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের। ২০১৯ দোহা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সোনাজয়ী কোলম্যান। ১০.০১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ক্রিস্টিয়ান কোলম্যান হয়েছেন ষষ্ঠ।

default-image

কোলম্যানকে নিয়ে অবশ্য কাল কেউ আর ভাবতে যায়নি। ৩১ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনসুইপ নিয়েই ব্যস্ত সবাই। ১৯৯১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে কার্ল লুইস, লিরয় বারেল এবং ডেনিস মিচেল যুক্তরাষ্ট্রকে অ্যাথলেটিকসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্টের তিনটি পদকই এনে দিয়েছিলেন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে ট্রায়াল শেষেই এমন কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন কার্লি। কাল তাই দৌড় শেষ করেই বলেছেন, ‘আমরা বলেছিলাম আমরা করে দেখাব এবং আমরা দেখিয়েছি! যুক্তরাষ্ট্র!’ সেরা তিন নিয়ে প্রায় নিশ্চিত হলেও নিজের জয় নিয়ে সন্দিহান ছিলেন কার্লি, ‘ওপরে তাকিয়ে ঘড়িতে ফ্রেড কার্লি দেখার আগপর্যন্ত আমি বুঝতে পারিনি।’

সাধারণত ১০০ মিটারে যাঁরা দৌড়ান, তাঁরা ছোট রেসেই অংশ নেন। মূলত ১০০ মিটার ও ২০০ মিটারই তাঁদের মূল ইভেন্ট থাকে। এই দুই ইভেন্টের সর্বকালের সেরা উসাইন বোল্টকে এর মাঝে একটু ব্যতিক্রম ভাবা হতো। কারণ, তাঁর মূল ইভেন্ট ছিল ২০০ মিটার। ওদিকে টোকিও অলিম্পিকের সোনাজয়ী ইয়াকবস মূলত ইনডোর গেমসে ৬০ মিটারে দৌড়ান। কার্লি এর চেয়েও বড় বিস্ময় জাগাচ্ছেন। কারণ, তাঁর মূল ইভেন্ট ১০০ বা ২০০ মিটার নয়, ৪০০ মিটার!

default-image

এ নিয়ে যে গর্ব আছে কার্লির, সেটা ২৭ বছর বয়সী লুকাননি, ‘এ অর্জন অনেক বড় কিছু। আমি এমন কিছু করেছি, যা খুব বেশি ৪০০ মিটার দৌড়বিদ করেনি। আমি জানি, আমার জন্য অনেকগুলো দরজা খুলে গেল। আমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’ কিংবদন্তি লুইসদের পাশে বসতে পেরেও গর্বিত কার্লিরা, ‘গ্রেটদের মধ্যে থাকতে পারার অনুভূতিটা দুর্দান্ত। তাঁরা ১৯৯১ সালে করেছে, আমরা ২০২২ সালে করলাম।’ এই কারণেই দ্বিতীয় হয়েও অতৃপ্তি নেই ব্র্যাসির, ‘এটা ইতিহাস। মাত্র তিনবার হয়েছে এমন কিছুর অংশ হতে পারাটা আমার কাছে অনেক বড় কিছু।’

১৯৮৩ সালেও ১০০ মিটারের তিনটি পদক যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছিল। সেবারও সোনা জিতেছিলেন কিংবদন্তি কার্ল লুইস। রুপা ও ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন ক্যালভিন স্মিথ ও এমিট কিং।

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন