মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: থমকে যাচ্ছে খেলার দুনিয়া, অনিশ্চয়তায় অ্যাথলেটরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আর সংঘাতের কালো মেঘ এখন ঢেকে দিচ্ছে স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট। বারুদের গন্ধে খেলা থামছে, অ্যাথলেটরা আটকা পড়ছেন বিমানবন্দরে, আর গ্যালারির গর্জন ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে উঠছে নিরাপত্তার শঙ্কা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট বিশ্ব ক্রীড়া মানচিত্রে যে ওলট–পালট ঘটাচ্ছে, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ-আমেরিকার বড় টুর্নামেন্টগুলোও এখন অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের ব্যস্ততম ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে ২০২৬ শীতকালীন প্যারালিম্পিক গেমসে অংশ নিতে যাওয়া অ্যাথলেটরা পড়েছেন চরম বিপাকে। আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটি (আইপিসি) গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, গেমস–সংশ্লিষ্ট অনেকে সময়মতো ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারছেন না। গেমস শুরুর আগে এটি তাদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার নাম।
টেনিস কোর্টের দুই তারকা দানিল মেদভেদেভ ও আন্দ্রে রুবলেভও এই সংকটে পড়েছেন। দুবাই টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন্ডিয়ান ওয়েলসে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু মাঝপথে তাঁদেরও পোহাতে হয়েছে সীমাহীন ভোগান্তি। ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী শাটলার পিভি সিন্ধুও রেহাই পাননি। দুবাই বিমানবন্দরে দিনের পর দিন আটকে থেকে শেষ পর্যন্ত অল ইংল্যান্ড ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে গত সপ্তাহে ফুজাইরার এটিপি চ্যালেঞ্জার ইভেন্ট বাতিল করা হয়েছে। এটিপি ট্যুর অবশ্য নিজেদের খরচে চার্টার্ড ফ্লাইটে খেলোয়াড়দের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। অন্যদিকে মিসরের ইসমাইলিয়ায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ হকি দল। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনও এ সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়েছে।
বাতিলের এই মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। কাতারে ওয়ার্ল্ড এনডুরেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী রেস পিছিয়ে গেছে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর একাধিক ম্যাচ স্থগিত। এমনকি আরব আমিরাতে নির্ধারিত আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সাদা বলের সিরিজটিও আপাতত হচ্ছে না।
এশিয়ান কাপের ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার সাহসিকতা দেখিয়ে পাঁচ ইরানি নারী ফুটবলার এখন অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থে মানবিক ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই পাঁচজনের সঙ্গে পরে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন ইরান নারী দলের আরও দুজন। তাঁদের মধ্যে একজন অবশ্য শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করে ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরান ও বাহরাইনের ঘরোয়া লিগগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড তো মেক্সিকোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘দেশ থেকে খেলোয়াড় না নিতে পারলে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।’
আগামী মাসে বাহরাইন ও সৌদি আরবে ফর্মুলা ওয়ান রেস হওয়ার কথা। এফআইএ প্রধান মোহাম্মদ বিন সুলায়েম জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাদের কাছে শেষ কথা। তবে সব অনিশ্চয়তার মাঝে কাতার তাদের শীর্ষ ফুটবল লিগ আবার শুরুর (১২ মার্চ) ঘোষণা দিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।