আবারও দ্রুততম মানব–মানবী ইমরানুর–শিরিন

দ্রুততম মানব ও মানবীর খেতাব ধরে রেখেছেন ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তারপ্রথম আলো

জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের প্রথম দিনেই ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। নারীদের ১০০ মিটারে ফটোফিনিশিংয়ে দেখা গেছে ১০.৭৫ সেকেন্ড সময়। অথচ ডিজিটাল বোর্ডে প্রথম হওয়া শিরিন আক্তারের সময় দেখানো হয়েছে ১২.৮ সেকেন্ড। ছেলেদের ১০০ মিটারেও ফটোফিনিশ যন্ত্র কাজ করেনি। তার ওপর ডিজিটাল বোর্ডে প্রথমে দেখানো ফল প্রায় সাত মিনিট পর বদলে যায়।

‎এমন বিতর্কের দিনেও ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে নারীদের ১০০ মিটারে প্রথম হয়ে দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। এ নিয়ে ১৮ বার এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।

গত মে মাসে নাজমুন নাহার বিউটির ১৭ বারের দ্রুততম মানবী হওয়ার রেকর্ডে ভাগ বসান শিরিন। বিউটিকে ছাপিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার দ্রুততম মানবী হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়লেন শিরিন। তবে আজ তাঁর ১৮তম জয়ের টাইমিং নিয়েই দেখা দিয়েছে গরমিল। ফটোফিনিশ যন্ত্রে দেখা ১০.৭৫ সেকেন্ডের সঙ্গে ডিজিটাল বোর্ডে দেখানো ১২.৮ সেকেন্ডের ব্যবধান বিস্ময় তৈরি করেছে।

১৮তম বারের মতো দ্রুততম মানবী হয়েছেন শিরিন আক্তার
প্রথম আলো

‎নারীদের ১০০ মিটারে দ্বিতীয় হয়েছেন শরিফা খাতুন, তাঁর সময় ১২.২৩ সেকেন্ড। তৃতীয় হওয়া সুমাইয়া দেওয়ানের সময় ১২.৩৩ সেকেন্ড।

‎ছেলেদের ১০০ মিটারেও ফল প্রকাশের সময় একই ধরনের বিভ্রান্তি দেখা যায়। শুরুতে ডিজিটাল বোর্ডে প্রথম হওয়া ইমরানুর রহমানের সময় দেখানো হয় ১০.৬৭ সেকেন্ড। দ্বিতীয় হিসেবে দেখানো হয় মোহাম্মদ ইসমাইলকে, তৃতীয় ইসলামকে।

কিন্তু প্রায় সাত মিনিট পর বোর্ডে বদলে যায় ফল। ইমরানুরের সময় কমে দাঁড়ায় ১০.৫৩ সেকেন্ডে। দ্বিতীয় স্থান অপরিবর্তিত থাকলেও তৃতীয় থেকে চতুর্থ স্থানে নেমে যান ইসলাম। তাঁর জায়গায় তৃতীয় হিসেবে দেখানো হয় তারেক রহমানের নাম।

ইমরানুর ১০০ মিটারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে
প্রথম আলো

‎চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ছেলেদের ১০০ মিটারে ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন ইমরানুর। দ্বিতীয় হওয়া ইসমাইলের সময় ১০.৬৭ সেকেন্ড, আর তৃতীয় তারেক রহমান দৌড় শেষ করেছেন ১০.৭৩ সেকেন্ডে।

‎১০০ মিটারের মতো স্বল্প দূরত্বের দৌড়ে সামান্য সময়ের ব্যবধানও পদকের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। তাই এ ধরনের প্রতিযোগিতায় সময় নির্ধারণ ও ফল প্রকাশে নির্ভুলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নারীদের দৌড়ে ফটোফিনিশের সময়ের সঙ্গে ডিজিটাল বোর্ডের গরমিল এবং ছেলেদের দৌড়ে ফটোফিনিশ যন্ত্রের অকার্যকারিতা ও ফল পরিবর্তনের ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে আয়োজনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে।

‎‎জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই এমন বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় আয়োজকদের দায়িত্বশীলতা ও ফল প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন ফটোফিনিশ যন্ত্র কাজ করেনি, আর ছেলেদের দৌড়ের ফলই বা কেন কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে গেল—এসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি।

‎এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।