জিমিকে ‘বাংলাদেশের মেসি’ বললেন গেরহার্ড
রাসেল মাহমুদ জিমিকে ‘বাংলাদেশের মেসি’ বললেন বাংলাদেশ হকি দলের প্রধান কোচের ভূমিকায় ফেরা অভিজ্ঞ জার্মান পিটার গেরহার্ড। আজই প্রথম মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়ে ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে ‘বাংলাদেশের হকির প্রিন্স’ ও ‘মেসি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
মাঠে জিমির সঙ্গে আলাপের প্রসঙ্গ উঠতেই স্মৃতি ও মুগ্ধতা উথলে উঠল পিটার গেরহার্ডের কণ্ঠে। জিমিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গেরহার্ড বললেন, ‘তরুণ বয়স থেকে ওকে দেখেছি আমি। আমার কোচিং ক্যারিয়ারে দুজন “ভেরি ডিফিকাল্ট” খেলোয়াড়কে দেখেছি। একজন ভারতের ধনরাজ পিল্লাই, অন্যজন জিমি। পিল্লাই মোর অ্যারোগেন্ট দ্যান জিমি। ২০০৪ অলিম্পিকে আমি ভারতের কোচ ছিলাম। একদিন আমি হাফটাইমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছি, সে তখন ফোনে কথা বলছে। আমি বলছি, “ধনরাজ, এটা তুমি করতে পারো না।’”
জিমির মাঠের নৈপুণ্য ও প্রভাব বোঝাতে গিয়ে গেরহার্ডের সংযোজন, ‘জিমি বাংলাদেশের হকির প্রিন্স। বাংলাদেশের হকির মেসিও। সে এমন একজন, যে ম্যাচের কিছু বিশেষ মুহূর্ত তৈরির ক্ষমতা রাখে। আপনার কোনো দরকার নেই সে ৬০ মিনিট একই ছন্দে খেলবে। সে দু–তিন মিনিট ঝলক দেখিয়েই ম্যাচ বদলাতে পারে।’
গেরহার্ডকে পেয়ে আবেগাপ্লুত জিমিও, ‘আমাকে বয়সের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার আমাকে ফেরানো হয়েছে। ১৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি, ডাবল সেঞ্চুরি হতে ৬টি বাকি। কোচ চূড়ান্ত দলে রাখলে চেষ্টা করব ২০০ ম্যাচ খেলার লক্ষ্য পূরণের।’
পুরোনো কোচকে পাওয়া নিয়ে জিমি খুশিও, ‘লম্বা সময় ধরে তিনি আমাদের নিয়ে কাজ করছেন। তিনি অনেক ভালো কোচ। তাঁর সঙ্গে আরও দুজন জার্মানিতে যোগ দেবেন, তাঁরা আরও ভালো কোচ। একটা দলকে নতুন কোচের বুঝতে বুঝতে সময় লাগে। পিটারকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে।’
৭৮ বছর বয়স এখন গেরহার্ডের। এই বয়সে কোচিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন কি না, জানতে চাইলে বেশ খোশমেজাজেই হাসিমুখে বলেন, ‘দেখেন না আমি পারি কি না! প্রতিদিন দুই ঘণ্টা জিম করি। মিউনিখে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সাইক্লিং করতাম।’
বয়সকে শুধুই একটা সংখ্যা মনে করেন গেরহার্ড, ‘আমার জন্ম ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে, এখন চলছে ৭৮। জীবনে কখনো ধূমপান করিনি, অ্যালকোহল ছুঁইনি। তবে প্রচুর মিষ্টি খেয়েছি। আমার ওজন ১০৫ কেজি হলেও কোচিংয়ে কোনো সমস্যা হয় না।’
প্রথমবার বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ২০০৮ সালে। জাতীয় দল ও ক্লাবের কোচ হয়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার আসা হয়েছে। ঢাকায় কাটানো প্রতিটি দিনের কথা পরিষ্কার মনে আছে জানিয়ে বলেন, ‘এখানে সবকিছু আমার মনে আছে। আমি বারবার ইন অ্যান্ড আউট হয়েছি। ফেডারেশনের কমিটি বদল হয়েছে, আমাকে হয় বাদ দিয়েছে, নাহয় নিয়ে এসেছে। আবার কোচের দায়িত্বে ফিরেছি।’
গেরহার্ডের লক্ষ্য এশিয়ান গেমসে ভালো কিছু করা। ইউরোপীয় ছন্দে খেলাতে চান দলকে। লক্ষ্য অর্জনে মাত্র ছয় সপ্তাহ তাঁর জন্য কমই, তাই তাঁর ভাষায় ‘মিশন ইম্পসিবল’ কে সম্ভব করতে চান, ‘আমরা এই অসম্ভবকেই সম্ভব করব। আমার লক্ষ্য দলে ইউরোপীয় ছন্দ নিয়ে আসা। আমরা যদি এটি আয়ত্ত করতে পারি, তবে এশিয়ান গেমসে এশিয়ার অন্য দলগুলো আমাদের বিরুদ্ধে বেশ সমস্যায় পড়বে।’
গেরহার্ডকে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের জন্য এনেছে হকি ফেডারেশন। বাংলাদেশ দলকে জার্মানিতে এ মাসেই অনুশীলনের জন্য পাঠানো হবে। সেখানকার ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচও খেলবে।
ক্যাম্পে থাকা ৩৮ খেলোয়াড়কে মানসিক দক্ষতা, মনোযোগ ও চাপ সামলানোর কৌশল শেখাতে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে আজ ‘ট্রেইন ইউর মাইন্ড’ শীর্ষক এক কর্মশালা হয়েছে প্রথমবারের মতো। ‘স্বপ্ন নয়, এবার ইতিহাস’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্মশালা নিয়ে জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুলের উচ্ছ্বাস, ‘এই সেমিনারে আমাদের শেখানো হয়েছে মানসিক চাপ সামলে একটা দল হিসেবে কীভাবে খেলতে হয়। খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যা জরুরি। আশা করি, এর ইতিবাচক ফল আসবে এশিয়ান গেমসে।’