পল্টন ভলিবল স্টেডিয়ামের কাবাডি ম্যাটের ওপর রাখা বিশাল আকারের দুটি কেক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আনা এই কেক কেটেই জয় উদ্‌যাপন করল বাংলাদেশ।  

বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির গ্রুপ পর্বে আজ বাংলাদেশ ৫৫-২৭ পয়েন্টে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। এটি বাংলাদেশের টানা চতুর্থ জয়। এর আগে বাংলাদেশ হারিয়েছে পোল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও নেপালকে। এই জয়ে সবার আগে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালও নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকেরা।

এমন আনন্দের দিনেও দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচ চলার সময় মারাত্মক আহত হয়েছেন বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার রাসেল হোসেন ও রোমান হোসেন। দুজনকেই বাংলাদেশ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাসেলের কপালে পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। রোমানেরও কপালে তিনটি সেলাই লেগেছে।  
তুলনামূলক দুর্বল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুমিতভাবেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে দুটি লোনাসহ ২৯-১০ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল তুহিন তরফদাররা।

ম্যাচে ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমে তুহিন তরফদার প্রথম রেইডেই পয়েন্ট এনে দেন। এরপর একের পর এক পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু খেলার ছয় মিনিটের মাথায় চোটে পড়েন রাসেল ও রোমান।

ইংল্যান্ডের এক রেইডারকে দুজন একসঙ্গে ধরতে গিয়ে কপালে আঘাত পান তাঁরা। মাথা ফেটে বের হতে থাকে রক্ত। স্ট্রেচারে করে ম্যাট ছাড়তে হয় রোমানকে। এই দুজনের বদলে আরিফ রাব্বানী ও আল আমিন খেলতে নামেন। অন্যতম দুই সেরা খেলোয়াড় আহত হয়ে ম্যাটের বাইরে চলে গেলেও এতটুকু ছন্দ পতন হয়নি বাংলাদেশের খেলায়। আধিপত্য ধরে রেখে প্রথমার্ধে দুটি লোনাসহ ২৯-১০ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাকি থাকা ইংল্যান্ডের একজন রেইডারকে ধরে আরেকটি লোনা তুলে নেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত চারটি লোনাসহ ৫৫-২৭ পয়েন্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন বাংলাদেশের মিজানুর রহমান।

এ-গ্রুপে চার ম্যাচের সব কটিতে জিতে আট পয়েন্ট বাংলাদেশের। আগামীকাল ইরাকের বিপক্ষে লড়বেন তুহিন তরফদার, মনিরুল চৌধুরীরা। ওই ম্যাচে জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ অধিনায়ক তুহিন তরফদার, ‘টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচেই আমরা ভালো খেলছি। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার আমরা সেমিফাইনালে জিততে চাই।’

দলের সেরা দুই খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছেন। এ ঘটনায় হতাশ তুহিন বলছিলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওরা আমাদের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ওদের চোট পাওয়াটা দলের জন্যই ক্ষতি। তবে আশা করি সেমিফাইনালের আগে ওরা দুজনই সুস্থ হয়ে উঠবে।’