বাংলাদেশকে ৪৭ গোল দিয়ে ফাইনালে ভারত
ভারতের আক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো দিশাহারা বাংলাদেশের মেয়েরা! প্রথমার্ধেই ২৪ গোল হজম, বিপরীতে বাংলাদেশের গোল মাত্র ৮টি।
বিরতির পরও পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে চিত্রটা বদলায়নি। শেষ পর্যন্ত ব্যবধানটা দাঁড়ায় ৪৭–১৩–এ। বেগম খালেদা জিয়া নারী আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে আজ ভারতের কাছে বাংলাদেশের মেয়েদের ৩৪ গোলের এই হার শুধু স্কোরবোর্ডের ব্যবধানই নয়; দুই দলের প্রস্তুতি, গতি, শক্তি আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার পার্থক্যটাও তুলে ধরল।
বাংলাদেশের কোচ আনা আলোনসোও সে বাস্তবতাটা বুঝতে পেরেছেন। খেলা শেষে বলেছেন, ‘আমরা তাদের চেয়ে অনেক দিক থেকেই পিছিয়ে। শারীরিক সক্ষমতা ও হ্যান্ডবলের দক্ষতায়ও পার্থক্য আছে, যা আজ (গতকাল) মাঠে দেখা গেল।’
কোচের মতে, এই ঘাটতি কয়েক মাসের ক্যাম্পে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। খেলোয়াড়দের সারা বছর ফিটনেস ধরে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ক্যাম্পের বাইরেও নিজেদের প্রস্তুত রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোচের কথা, ‘এটি এক, দুই বা তিন মাসের কাজ নয়। ক্যাম্পের বাইরে থাকলেও খেলোয়াড়দের বাড়িতে নিজেদের কাজ করতে হবে। ফিট থাকতে হবে, সারা বছর শরীরচর্চা করতে হবে।’
নেপালকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে বড় হারে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ খেলোয়াড়েরা। বাংলাদেশ গোলকিপার সুমাইয়া আক্তারকে পোস্টের নিচে বেশ নিরুপায়ই মনে হচ্ছিল।
ম্যাচ শেষে সুমাইয়ার কথায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের হ্যান্ডবলের দীর্ঘদিনের একটা সমস্যা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ কমই পান বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। ২০১৯ সালের এসএ গেমসের পর সিনিয়র পর্যায়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তেমন আসেনি। নিয়মিত টুর্নামেন্টে খেলতে পারলে ভারতের মতো দলের সঙ্গেও ব্যবধান কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি, ‘ভারতের মতো দলের সঙ্গে লড়তে হলে আমাদের সেই মানের প্রস্তুতি দরকার। বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে হবে।’
টানা দুই জয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে ভারত। আজ দলটির হয়ে একাই ১৩ গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভাওয়ানা। বাংলাদেশের সামনে অবশ্য ফাইনালে ওঠার সুযোগ এখনো আছে। আগামীকাল মালদ্বীপকে হারাতে পারলে ফাইনালে আবারও ভারতের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা।