প্রথমবার একসঙ্গে জাতীয় দলে জিমি ও তাঁর ভাই

রাসেল মাহমুদ জিমি ও খালেদ মাহমুদ রাকিনজিমি

দুই ভাইয়ের স্বপ্নপূরণ! একজন রাসেল মাহমুদ জিমি, অন্যজন খালেদ মাহমুদ রাকিন। দুই ভাই ক্লাব পর্যায়ে এক দলে খেললেও এই প্রথম জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেলেন একসঙ্গে।

জাপানের আইচি–নাগোয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত হকি দলে আছেন দুই ভাই। বয়সের অজুহাতে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে জিমিকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ এশিয়াডের পর দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ রাসেল মাহমুদ জিমি।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে বারবার ডাক পেলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকার ভাগ্য খুলছিল না বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলা রাকিনের। অবশেষে ২৯ বছর বয়সে গত এপ্রিলে ব্যাংককে এশিয়ান গেমসের বাছাই পর্বে জাতীয় দলের জার্সিতে ওই তিনটি ম্যাচই খেলার সুযোগ হয় তাঁর। এবার ভাইয়ের সঙ্গে একই স্কোয়াডে, তাঁর জন্য দীর্ঘ এক অপেক্ষার অবসান। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় জিমিরও একটা স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে মুখিয়ে আছেন ৩৯ বছরের জিমি।

বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে উজ্জ্বল নাম আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়ার ছেলে জিমি ও রাকিন। বাবার হাত ধরেই দুই ভাইয়ের হকিতে আসা। জিমি বাংলাদেশের হকির অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনেক আগেই। রাকিন ক্লাব পর্যায়ে নজর কাড়েন। দুই ভাই ক্লাব হকিতে একে অন্যের বিপক্ষেও খেলেছেন। ক্লাব হকিতে উষা ও অ্যাজাক্সের হয়ে খেলার পর গত তিন মৌসুম ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের জার্সি গায়ে খেলেছেন রাকিন।

১৮ জনের বাইরে স্ট্যান্ড-বাই তালিকায় রাখা হয়েছে মেহরাব হাসান, আবেদ উদ্দিন ও নুরুজ্জামান নয়নকে। ৪ আগস্ট নামিয়ে আনা ২৪ জনের দল থেকে বাদ পড়েছেন আল নাহিয়ান, ফজলে হোসেন ও আমান শরিফ।

এশিয়াডের আগে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে জার্মানিতে দল পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে হকি ফেডারেশন। তবে এখনো ভিসা মেলেনি। বিকল্প ভাবনাও আছে ফেডারেশনের। রোববার এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

১৮ সদস্যের বাংলাদেশ হকি দল

বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক, আশরাফুল ইসলাম, হুজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম, রোমান সরকার, সাহিদুর রহমান, ওবায়দুল হোসেন, দ্বীন ইসলাম, খালেদ মাহমুদ রাকিন, পুষ্কর খীসা, সোহানুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ, মাহবুব হোসেন, মাইনুল ইসলাম, রাসেল মাহমুদ জিমি ও রাকিবুল হাসান।

স্ট্যান্ড-বাই: নুরুজ্জামান নয়ন, মেহরাব হাসান ও আবেদ উদ্দিন।