default-image

গত জানুয়ারিতে প্রথমবার জাতীয় অ্যাথেলেটিকসে খেলেই রেকর্ড গড়ে সেরা হয়েছিলেন লন্ডনপ্রবাসী ইমরানুর। তখন তিনি ২১ বছর আগের রেকর্ড ভেঙেছিলেন। হারিয়েছিলেন চারবারের দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইলকে। ইলেকট্রনিক বোর্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট ইমরানুরের টাইমিং ছিল ১০.৫০ সেকেন্ড। ইলেকট্রনিক বোর্ডে সেটিই ছিল তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেটের সেরা টাইমিং। এর আগে ১৯৯৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রয়াত মাহবুব আলমের গড়া ১০.৫৪ সেকেন্ড ছিল সর্বশেষ দেশের কোনো অ্যাথলেটের রেকর্ড টাইমিং।

অবশ্য গত মাসে তুরস্কে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ১০.০১ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ষষ্ঠ হয়েছিলেন ইমরানুর। সেটিকেই বাংলাদেশের জাতীয় রেকর্ড হিসেবে গণ্য করছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। কিন্তু সলিডারিটি গেমস অ্যাথলেটিকসে সব টাইমিংই বাতিল করেছে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস কর্তৃপক্ষ। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সেখানে সঠিক টাইমিং আসেনি বলে মনে করছে সংস্থাটি। ১০.৫০ সেকেন্ড থেকে কয়েক মাসের মধ্যে ইমরানুরের টাইমিং ১০.০১-এ নেমে আসা নিয়ে তখনই অনেকে অবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সহসভাপতি ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছেও ইমরানুরের টাইমিং অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে।’

default-image

যেহেতু বিশ্ব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন গেমসের টাইমিং বাতিল করেছে, বাংলাদেশ কেন ইমরানুরের টাইমিংকে রেকর্ড ধরছে? এ প্রশ্নে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব বলেন, ‘এই টাইমিং যে বাতিল করা হয়েছে, সে ব্যাপারে আমরা কোনো চিঠি পাইনি বিশ্ব সংস্থার কাছ থেকে। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা এখনই চিঠি পাঠাব তাদের।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইমরানুর আজ ১০০ মিটারে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পর প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারছি না। আমার কাজ দৌড়ানো। এখন কোথায় কী সমস্যা হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার পারফরম্যান্সে খুশি।’ শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার আনন্দে বলছিলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। নিজের জায়গাটা ধরে রাখতে পেরেছি। টাইমিংও ভালো হয়েছে। আশা করি সামনে আরও ভালো করব।’

default-image

ওদিকে গত জানুয়ারিতে নারী বিভাগে ১০০ মিটারে প্রথম হয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থী সুমাইয়া দেওয়ান। তিনি জাতীয় ও সামার অ্যাথলেটিকস মিলিয়ে টানা ১২ বারের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে হারিয়ে সেরা হয়েছেন। দুজনের আজ আবার দেখা হয়েছে এবং তাতে শেষ হাসি শিরিনেরই।

জয়ের পর আনন্দে আত্মহারা শিরিন বললেন, ‘শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতে গত কয়েক মাস কঠোর পরিশ্রম করেছি। আজ তার ফল পেলাম। পরিশ্রম করলে কোনো কিছুই বৃথা যায় না।’ একই কথা বলেছেন হাই জাম্পে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়া উম্মে হাফসাও (রুমকি)। মেয়েদের হাই জাম্পে তিনি লাফিয়েছেন রেকর্ড ১.৭৪ মিটার। গত মাসে তুরস্কের ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রিতু আক্তার লাফান ১.৭৩ মিটার। সেই রিতুকে আজ হারিয়ে দিলেন উম্মে হাফসা।

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন