ফেল্‌প্‌সকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন ড্রেসেল

এই অলিম্পিকে কেলেব ড্রেসেল সোনা জিতেছেন পাঁচটি।ছবি : রয়টার্স

অলিম্পিকে কেলেব ড্রেসেলের যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে, রিও ডি জেনিরোতে। কাকতালীয়ভাবে সেটিই ছিল কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেল্‌প্‌সের শেষ অলিম্পিক। দুজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাঁতরেছিলেন ৪ গুণিতক ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল রিলেতে। ‘দেখো, অলিম্পিকে এভাবেই সোনা জিততে হয়’, সে ইভেন্টে দেশকে সোনা জিতিয়ে ফেল্‌প্‌স কি সতীর্থের কানে এমন কিছু বলেছিলেন? কে জানে, হতেও পারে!


ফেল্‌প্‌স যাওয়ার ঠিক পরের অলিম্পিকেই ড্রেসেল যা করে দেখালেন, তাতে অমনটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

টোকিও অলিম্পিকে আজ আরও দুই ইভেন্টে সোনা জিতেছেন কেলেব ড্রেসেল।
ছবি : রয়টার্স

নাহ্‌, ফেল্‌প্‌সের মতো এক অলিম্পিকে আটটি সোনার পদক জেতার কৃতিত্ব গড়েননি ড্রেসেল। আরেক স্বদেশি মার্ক স্পিৎজের মতো সাতটিও নয়। এই অলিম্পিকে ড্রেসেল সোনা জিতেছেন পাঁচটি। নিজের দ্বিতীয় অলিম্পিকেই এমন সাফল্য, সময় তো এখনো পড়েই আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াপ্রেমীরা তাই আশাবাদী হতেই পারেন!

টোকিও অলিম্পিকে আজ আরও দুই ইভেন্টে সোনা জিতেছেন কেলেব ড্রেসেল। শুধু সোনা জিতেছেন বলাটা ভুল হবে। রেকর্ড বইয়ের দফারফা করেই জিতেছেন। প্রথমে নামলেন ৫০ মিটার ব্যক্তিগত ফ্রি-স্টাইলে। এই ইভেন্টে যা করে দেখালেন, এমন আধিপত্য কখনো দেখেনি বিশ্ব। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের ফ্লোরেন্ত মানাদুর চেয়ে ০.৪৮ সেকেন্ডে এগিয়ে থেকে শেষ করলেন সাঁতার। এ ইভেন্টে যিনি সবার শেষে সাঁতার শেষ করেছেন, তাঁর সঙ্গে মানাদুর ব্যবধান ০.২৪ সেকেন্ডের। ড্রেসেলের আধিপত্য এই এক তথ্যেই স্পষ্ট! ২১.০৭ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করেছেন ড্রেসেল। ব্রাজিলের ব্রুনো ফ্রাতুস জিতেছেন ব্রোঞ্জ।

এরপর আসা যাক ছেলেদের ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে। এখানেও বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোনা জয়ের পথে ড্রেসেল, রায়ান মারফি, মাইকেল অ্যান্ড্রু ও জ্যাক অ্যাপল সময় নিয়েছেন ৩ মিনিট ২৬.৭৮ সেকেন্ড। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হলো, কেলেব ড্রেসেল পাঁচ সোনা নিয়েই বাড়ি ফিরছেন।

ফেল্‌প্‌স যাওয়ার ঠিক পরের অলিম্পিকেই ড্রেসেলের কাছ থেকে এমন আধিপত্য দেখা যেতে পারে, এমনটা অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন। ড্রেসেলকে ‘নতুন ফেল্‌প্‌স’ বলাও শুরু করেছিলেন অনেকে। অবশ্য ড্রেসেল নিজে কিন্তু কখনো পূর্বসূরির সঙ্গে নিজের তুলনাকে প্রশ্রয় দেননি।

প্রশ্রয় না দিতেই পারেন, অ্যাথলেটরা নিজেদের ওপর থেকে প্রত্যাশার চাপ কমানোর জন্য অমন অনেক কৌশলেরই আশ্রয় নেন। চাপ মাথায় রেখে যাঁরা প্রত্যাশার বুদ্‌বুদকে বাস্তবতার জমিনে নামাতে পারেন, তাঁরাই তো সফল হন। সে কাজে ড্রেসেল ষোলো আনা সফল।

এর আগে ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েই আরেকটি সোনার পদক তুলে নিয়েছিলেন ড্রেসেল। যে ইভেন্টকে এককালে ফেল্‌প্‌সের ইভেন্টই বলা হতো। এই ইভেন্টেও বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ড্রেসেল, ৪৯.৪৫ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করেছেন। ফেল্‌প্‌সের এই ইভেন্টকে এখন এমনভাবে নিজের করে নিয়েছেন যে ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে পাঁচটি সেরা টাইমিংয়ের সব কটিই ড্রেসেলের। ২০১৯ সালে ফেল্‌প্‌সের রেকর্ড ভেঙেই এ পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। এখন ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টকে ফেল্‌প্‌সের ইভেন্ট বলা হবে, না ড্রেসেলের, এটা নিয়ে একধরনের ‘মধুর’ সমস্যায় পড়তেই পারেন সাঁতারপ্রেমীরা।

এককালে এই দৃশ্য ছিল নিয়মিত।
ফাইল ছবি

এত এত রেকর্ড করা ড্রেসেল ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের রেকর্ডটাও ছেড়ে দেন কীভাবে? না, এখানে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারেননি। তবে অলিম্পিক রেকর্ড ঠিকই গড়েছেন ৪৭.০২ সেকেন্ড সময় নিয়ে। এই ইভেন্টের বিশ্ব রেকর্ডধারী সেজার সিয়েলো ফিলহোর চেয়ে তিনি সময় নিয়েছেন মাত্র ০.১১ সেকেন্ড বেশি। যে গতিতে এগোচ্ছেন, সিয়েলো ফিলহো নিজের রেকর্ডকে এখন থেকেই বিদায় বলে দিতে পারেন চাইলে!

৪ গুণিতক ১০০ মিটার মিডলে রিলেতেও জিতেছেন সোনা। ব্যর্থতার তিতকুটে স্বাদও যে পাননি, তা নয়। ৪ গুণিতক ১০০ মিটার মিশ্র মিডলে রিলেতে ড্রেসেলও বাঁচাতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রকে, হয়েছেন পঞ্চম। এটাতেও সোনা জিতলে, ছয়ে ছয় হয়েই যেত!
তা না হোক, ফেল্‌প্‌স নিজেও নিজের দ্বিতীয় অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন দুটি।

২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে জানিয়েছিলেন, সাঁতারে শুরু হচ্ছে ফেল্‌প্‌স-যুগ। এবার পাঁচটি সোনা জেতা ড্রেসেলও কি ড্রেসেল-যুগ শুরু হওয়ার বার্তা দিয়ে রাখলেন না?